সংস্কারসাধন শেষ, বসতে চলেছে বিগ্রহ! দেখে নিন কেমন সেজেছে পাকিস্তানের রামমন্দির

সংস্কারসাধন শেষ, বসতে চলেছে বিগ্রহ! দেখে নিন কেমন সেজেছে পাকিস্তানের রামমন্দির

সংস্কারসাধন শেষ, বসতে চলেছে বিগ্রহ! দেখে নিন কেমন সেজেছে পাকিস্তানের রামমন্দির

ইতিহাস বলে, এই মন্দির না কি ষোড়শ শতক থেকেই বিখ্যাত এক হিন্দু তীর্থক্ষেত্র ছিল।

  • Share this:

#সইদপুর: ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত স্থান বললে উত্তর ভারত থেকে দক্ষিণ ভারতের মধ্যবর্তী নানা অঞ্চলের কথাই মাথায় আসে। দেশের এই অঞ্চলের মধ্যে বহু জায়গা আছে যা মর্যাদা পুরুষোত্তমের স্মৃতিধন্য হওয়ার দাবি করে। কে জানত, সেই তালিকায় সযত্নে নিজের নাম ধরে রেখেছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানও!

আপাতত পাকিস্তানের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছেন যে ভারতপ্রেমী ভ্লগার কার্ল রক (Karl Rock), তিনি তাঁর সাম্প্রতিক এক ভিডিওর মাধ্যমে ইসলামাবাদের সইদপুরের এই রাম কুণ্ড মন্দিরের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। ইতিহাস বলে, এই মন্দির না কি ষোড়শ শতক থেকেই বিখ্যাত এক হিন্দু তীর্থক্ষেত্র ছিল। দাবি করা হয়, বনবাসকালে এই জায়গা দিয়ে ঘুরে গিয়েছিলেন সীতা, রাম এবং লক্ষ্মণ। তাঁদের নাম অনুসারে এই মন্দির প্রাঙ্গণে তিনটি আলাদা কুণ্ডও ছিল। এই তিন কুণ্ডের জলে তাঁরা স্নান করতেন, থাকতেন নিকটবর্তী গুহায়, এমনই বলে সইদপুরের রাম মন্দিরের গাথা। জানা যায় যে এক সময়ে সেই গুহামন্দির এবং রামকুণ্ড ঘিরে বেশ বড় এক মেলাও বসত সইদপুরে। যাত্রীরা আসতেন, পুজো দিতেন, থাকতেন মন্দির-ঘেঁষা ধর্মশালায়।

 

কার্ল রক তাঁর ভিডিওর মাধ্যমে যে প্রেক্ষাপট আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরেছেন, তা একই সঙ্গে আমাদের আনন্দ দেয়, আবার সামান্য হলেও হতাশও করে তোলে। তিনি জানিয়েছেন যে বর্তমানে যে স্থানে শ্রীরাম থাকতেন, সেখানে একটি সুন্দর মন্দির নির্মাণ করিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তান সরকার। আগের মন্দির এবং ধর্মশালার ছিল জরাজীর্ণ দশা, এই দুইয়ের পাকিস্তান সরকারের বদান্যতায় হাল ফিরে গিয়েছে। তাদের শোভা এখন চোখকে তৃপ্তি দেয়। কিন্তু মনে আনন্দ নিয়ে আসে না। কেন না, মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। একই সঙ্গে কার্ল রক জানিয়েছেন যে মন্দির সংস্কারের সময়ে কুণ্ডগুলি বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের উপরেই গড়ে তোলা হয়েছে নতুন মন্দির চত্বর।

সন্দেহ নেই, এই তথ্য ভক্তদের হতাশ করবে। তবে কেন কুণ্ডগুলি বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই নিয়ে সঠিক কোনও তথ্য পেশ করতে পারেননি কার্ল রক। ঠিক কী পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সরকার এ হেন পদক্ষেপে বাধ্য হল, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে এটুকু জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার- খুব তাড়াতাড়ি শূন্য মন্দিরে বিগ্রহ স্থাপন করা হবে, মন্দির ঘিরে আবার আগের মতো সরকারি উদ্যোগে মেলারও আয়োজন হবে।

Written By: Anirban Chaudhury

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:
0