• Home
  • »
  • News
  • »
  • international
  • »
  • লকডাউনে বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত ভারতীয় নাবিকদের, আপাতত জীবনযুদ্ধ চলছে জাহাজেই

লকডাউনে বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত ভারতীয় নাবিকদের, আপাতত জীবনযুদ্ধ চলছে জাহাজেই

ইউরোপের এক বন্দর থাকা এমনই জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হল৷ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যা জানালেন তিনি...

ইউরোপের এক বন্দর থাকা এমনই জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হল৷ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যা জানালেন তিনি...

ইউরোপের এক বন্দর থাকা এমনই জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হল৷ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যা জানালেন তিনি...

  • Share this:

#কলকাতা: সাত সমুদ্র তেরো নদীর রূপকথার রাজপুত্র নন, রক্ত মাংসের শরীরে দিনের পর দিন জাহাজে কর্মরত যারা, তারা ফিরতে পারছেন না নিজের দেশে৷ করোনার জেরে দেশে ফেরার কথা থাকলেও ফিরতে পারেননি অনেক নাবিক৷ পরিবার-পরিজনকে দূরে রেখেই দিনের পর দিন ভেসে বেড়াচ্ছেন সমুদ্র থেকে মহাসমুদ্রে৷ কবে দেশে ফিরতে পারবেন, তা নিশ্চিত নয়৷ ভারতে লকডাউনের সময়সীমা পার হলেই শুধু হবে না৷ তাদের জন্য রয়েছে আরও বিস্তর বিধি নিষেধ৷ নরওয়ের কাছে বন্দরে নোংর করা জাহাজ ফেডন্যাভের ক্যাপ্টেন ডেনজিলের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ কলে যোগাযোগ করলেন আমাদের প্রতিনিধি পূজা বসু দত্ত৷

প্রশ্ন- এই মুহূর্তে আপনার দেশে কী অবস্থা জানেন?

উত্তর- প্রতিটা খবর আমাদের শিপে পৌঁছছে৷ আমাদের কম্পনি সর্বস্তরে আমাদের খবর পাঠাচ্ছে৷ কী করতে হবে আর কী করতে হবে না, তার নির্দেশ দিচ্ছে৷ বাকিটা আমরা সামলাচ্ছি৷

প্রশ্ন- কীভাবে চলছে জাহাজের কাজকর্ম?

উত্তর- দেখুন আমরা যখন দু’মাস আগে কানাডায় ছিলাম, তখন থেকে করোনা ভাইরাসের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলাম৷ আগে থেকে নির্দেশ এসেছিল মাস্ক, স্যানিটাইজার, হাত ধোয়ার সাবান সব জাহাজে একটু বেশি করে তুলে নিতে৷ সেই মতো আমাদের কাছে সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে৷ বাকি থাকল আমাদের জাহাজের কাজ, যা খুবই সতর্কতা অবলম্বন করে চলছে৷

প্রশ্ন- যেমন?

উত্তর- বন্দরে পৌঁছনোর পর কেউ জাহাজ থেকে বাইরে যেতে পারছেন না৷ যারা বন্দরে মাল ওঠাতে বা নামাতে আসতেন, তাদের সংখ্যাও কম করা হয়েছে৷ চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে যান্ত্রিকভাবে পুরো কাজ করা যায়৷ মানুষের থেকে যন্ত্রের ব্যবহার বেশি হচ্ছে এবং অবশ্যই তা ভালভাবে স্যানিটাইজ করে৷ ইমেলের মাধ্যমেও অনেক কাজ হচ্ছে৷ যাদের জাহাজের ভিতর আসতেই হচ্ছে, তাদের প্রবেশের সময় পোশাক পরিবর্তন করে, পিপিই পরতে হচ্ছে৷ হাত-পায়ে স্যানিটাইজার দিতে হচ্ছে৷ কারণ দেখুন, জাহাজে আমরা ১০ থেকে ১২ জন থাকি৷ সবার সঙ্গে সবার যোগাযোগ এবং কাজের জন্য সবাইকেই সবার সঙ্গে সংস্পর্শে আসতে হয়৷ তাই নিজেরা সাবধান না থাকলে খুবই মুশকিল৷ জাহাজে মাত্র ১ জনের করোনা হলেই সবার সংক্রমণের ভয় থাকবে৷ যদিও জাহাজ যেহেতু স্থলভাগে কম থাকছে, তাই আশা করা যায় সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকটাই কম৷ তবুও আমরা ভীষণ সতর্ক থাকছি৷

প্রশ্ন- এখন কতদিন জাহাজে থাকতে হবে সকলকে সেটা তো অনিশ্চিত৷ কীভাবে খাবার দাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে?

উত্তর- যেহেতু এমন সঙ্কটজনক পরিস্থিতির কথা আগে থেকে আন্দাজ করা গিয়েছিল, আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যথেষ্ট পরিমাণে খাবার জাহাজে তুলে নিতে৷ এখন প্রায় ৩ থেকে ৪ মাসের খাবার মজুত রয়েছে আমাদের কাছে৷

প্রশ্ন- এমন কী কখনও পরিস্থিতি আসতে পারে যে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি হল?

উত্তর- হতেই পারে৷ তার জন্য আমাদের জাহাজে কিছু নিময়ের পরিবর্তন করতে হতে৷ জাহাজের দায়িত্বে রেয়েছি বলে তা আমাকেই ঠিক করতে হবে৷ যেমন ধরুণ আমরা সমুদ্রের জল পরিশোধিত করে খাই৷ যদি জাহাজ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ে তাহেল আমাদের প্রতিদিনের জলে কিছুটা কম পড়বে৷ তখন সময় বেঁধে জলের ব্যবহার করতে হবে৷ কারণ শুধু তো খাবার জন্য নয়, জল তো অনেক কাজেই ব্যবহার হয়৷ সেই সব নেতিবাচক পরিস্থির জন্য আমরা প্রস্তুত৷

প্রশ্ন- এই সময় যদি জাহাজে কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটে৷ শারীরিক ভাবে কারও কোনও বিপদ? তাহলে কী করবেন? বন্দরে নামার ওপর তো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷

উত্তর- সকলেই খুব সন্তর্পণে কাজ করেন ঠিকই কিন্তু দুর্ঘটনা তো বলে আসে না৷ তবে কেউ খুব বেশি জখম হলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো যেতে পারে৷ সেক্ষেত্রে বিশেষ কিছু অনুমতি নিতে হবে আমাদের সংস্থার সঙ্গে কথা বলে৷ প্রয়োজনে জাহাজের দিক ঘুরিয়ে অর্থাৎ যে দেশে যাওয়া স্থির রয়েছে সেখানে না গিয়ে অন্য বন্দরে জাহাজ নিয়ে যেতে হবে৷ সেখান থেকে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে৷ জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে এই সব কিছু সিদ্ধান্তই আমাকে নিতে হবে৷

sailors of Fednav Satsuki sailors of Fednav Satsuki

প্রশ্ন- এই মুহূর্তে তো রেল ব্যবস্থা বন্ধ, উড়ান পরিষেবাও প্রায় বন্ধ৷ একমাত্র জলে থাকার সুবাদে আপনারা এক দেশ থেকে অন্য দেশে মাল বহব করতে পারছেন৷

উত্তর- দেখুন এক একটি জাহাজে ৩০ হাজার টন মাল নেওয়ার ক্ষমতা থাকে৷ আমি যেই জাহাজে রয়েছি তার ক্ষমতাই এতটা৷ এর থেকে বেশিও থাকে কোনও কোনও জাহাজে৷ আর সমুদ্র পথে চলাচলের ফলে অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় আমাদের যাতায়াতের খরচও কম৷ আর এখন তো বিশেষ করে জাহাজ পরিষেবার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে দেশগুলি৷

প্রশ্ন- জাহাজে এখন যারা রয়েছেন, অনেকের বাড়ির আসার সময় হয়ে গিয়েছিল৷ আসতে পারেননি৷ কবে ফিরতে পারবেন তাও ঠিক নেই৷ কীভাবে তাদের মোটিভেট করছেন?

উত্তর- আমার নিজেরই ৬ মাস হয়ে গিয়েছে এই জাহাজে৷ তাও সকলকে বারবার বোঝাচ্ছি এই রোগের ব্যাপারে৷ বারবার হাত ধুতে বলছি৷ কিছু দিন আগেই একজনের জন্মদিন ছিল৷ সকলে মিলে তা পালন করা হল৷ কাজের চাপ তো থাকছেই তা বলে বাড়ি না ফেরার কথা ভেবে মন ভার করলে তো চলবে না৷ একসঙ্গে পরিবারের মতো রয়েছি৷ সকলের সঙ্গে কথা বলে মজা করে কিছুটা সময় কাটাচ্ছি৷ আর জাহাজে থাকা মানেই আমাদের রোজগার৷ সেভাবে কোম্পানির সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়৷ তাই ছেলেদের বলছি, জাহাজে বেশিদিন থেকে কিছুটা বেশি রোজগার করে নাও, বাড়ি গিয়ে তা পরিবারে সঙ্গে মিলে খরচ করতে পারবে৷

Published by:Pooja Basu
First published: