বিদেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

শরীরের তাপমাত্রা মাপা থেকে হাত পরিষ্কার করা, করোনার বিরুদ্ধে লড়তে মাল্টিটাস্কিং মেশিন আবিষ্কার গাজার মহিলার!

শরীরের তাপমাত্রা মাপা থেকে হাত পরিষ্কার করা, করোনার বিরুদ্ধে লড়তে মাল্টিটাস্কিং মেশিন আবিষ্কার গাজার মহিলার!

কী ভাবে কাজ করে এই স্মার্ট মেশিন? রেস্তোঁরা বা হোটেলের গেট দিয়ে ঢুকলে এই মেশিনের অল-ইন-ওয়ান পারফরম্যান্স আপনার নজর কাড়বে।

  • Share this:

এখন যদি গাজার কোনও রেস্তোঁরা বা সুপারমার্কেটে যাওয়া যায়, তা হলে দেখা যাবে প্রতিটি জায়গায় রাখা আছে একটি মাল্টিটাস্কিং ডিজইনফেকশন মেশিন। এই রকম একটি এলাকায় সংক্রমণ প্রতিরোধে এমন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ দেখলে চমকে উঠতে হয়। তবে প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও প্রতিভার কাছে সব কিছু সম্ভব। গাজার এই মাল্টিটাস্কিং ডিজইনফেকশন মেশিনের আবিষ্কর্তা হলেন হেবা অল হিন্দি নামে এক মহিলা উদ্যোগপতি। করোনার সংক্রমণরোধে তাঁর এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে মানুষজনের।

কী ভাবে কাজ করে এই স্মার্ট মেশিন? রেস্তোঁরা বা হোটেলের গেট দিয়ে ঢুকলে এই মেশিনের অল-ইন-ওয়ান পারফরম্যান্স আপনার নজর কাড়বে। প্রায় ৬.৬ ফুট উচ্চ এই ডিভাইজ হ্যান্ড  স্যানিটাইজার স্প্রে করার পাশাপাশি আপনার শরীরের তাপমাত্রা মাপতেও সক্ষম। যদি শরীরের তাপমাত্রা বেশি হয়, তা হলে একটি লাল আলো জ্বলে উঠবে। যদি আপনার তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয় অর্থাৎ সব কিছু ঠিকঠাক থাকে, তা হলে খুলে যাবে রেস্তোঁরার দরজা।

করোনার থাবা থেকে মুক্তি পায়নি প্যালেস্টাইনের কোস্টাল এনক্লেভও। এই মুহূর্তে এখানে আক্রান্ত প্রায় ৫,৪৪০। মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের।

তবে চিন্তার বিষয় হল এখানকার অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলিরও যথেষ্ট অভাব রয়েছে। অনেকাংশে বিদ্যুতেরও ঘাটতি রয়েছে। তাই এখানে ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবিলায় স্থায়ী ও যথাযথ পদক্ষেপ করাটা খুবই প্রয়োজনীয়। সেই প্রয়োজনটাই অনুভব করেছিলেন গাজার ওই মহিলা। হেবা অল হিন্দির কথায়, গাজায় করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সেই চেষ্টা থেকেই জন্ম এই মাল্টিটাস্কিং ডিজইনফেকশন মেশিনের। সাধারণত গাজায় বিদেশ থেকে নানা যন্ত্র বা ডিভাইজ আমদানি করে ব্যবহার করা হয়। এলাকার অধিকাংশ জায়গাতেই তাপমাত্রা পরিমাপ বা স্যানিটাইজিংয়ের জন্য আমদানি করা নানা ডিভাইজ বসানো আছে। এই অবস্থায় নিজেদের তৈরি এই ডিভাইজ এক আলাদা তৃপ্তির বিষয়।

ইতিমধ্যেই সংস্থাটি আটটি অ্যান্টি-কোভিড প্রোডাক্ট তৈরি করে ফেলেছে। যার মধ্যে বাচ্চাদের জন্য সংক্রমণরোধে অতি প্রয়োজনীয় একটি নীল-হলুদ রঙের রোবট ডিভাইজও রয়েছে। এ বিষয়ে ৩৭ বছর বয়সী হেবা অল হিন্দি জানান, সংস্থার তরফে সুপারমার্কেট থেকে শুরু করে রেস্তোঁরা সর্বত্রই প্রচুর ডিভাইজ ও মেশিন বিক্রি করা হয়েছে। প্রোডাক্ট বিক্রি করে প্রচুর আয় হয়েছে। কিন্তু আয় করাটা লক্ষ্য নয়। বিশ্বের কাছে প্যালেস্টাইনের আবিষ্কার ও অবদান তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই মেশিন ও ডিভাইজগুলির ব্যবহারে খুশি মানুষজনও। এ বিষয়ে গাজা ইটারির হসপিটালিটি ম্যানেজার মাটার মাটার জানিয়েছেন, এই ডিভাইজটি অত্যন্ত কার্যকরী। গাজায় করোনা প্রতিরোধে এইরকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা দেখেই ভালো লাগছে। অন্য দিকে, এই ডিভাইজের প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত ২৩ বছর বয়সী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ নাটাট জানাচ্ছেন, এই রকম একটি আবিষ্কারের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পেরে তিনি গর্বিত। এই ডিভাইজ লঞ্চের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: October 31, 2020, 5:27 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर