আকাশে উড়বে গাড়ি, নভেম্বর থেকেই ইতিহাসে ব্রিটেনের 'এয়ার ওয়ান'

আকাশে উড়বে গাড়ি, নভেম্বর থেকেই ইতিহাসে ব্রিটেনের 'এয়ার ওয়ান'
বিশ্বের প্রথম ফ্লাইং ট্যাক্সির বিমানবন্দর হচ্ছে কভেন্ট্রিতে photo/the sun

কভেন্ট্রি শহরের সবচেয়ে ছোট বিমানবন্দর 'এয়ার ওয়ান' আমজনতার জন্য খুলে যাচ্ছে নভেম্বরে। তবে বিমান নয়, শুধুমাত্র ফ্লাইং কার ওঠানামা করবে। ব্রিটেনের একটি সংস্থা কোরিয়ান গাড়ি নির্মাতা সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বে প্রথম এই ধরণের বিমানবন্দর চালু করতে চলেছে।

  • Share this:

    #লন্ডন: গল্পের গরু গাছে ওঠার মত ব্যাপার নয়। বাস্তবের গাড়ি আকাশে ওড়ার ব্যাপার! ট্রেনে করে যাত্রা শুরু করলেন। গন্তব্যে পৌঁছে স্টেশন নেই। নামবেন কী উপায়? ব্যাপারটা অনেকটা সেরকম। একটা সময় পর্যন্ত উড়ন্ত গাড়ি ছিল কল্পবিজ্ঞানের অংশ। সায়েন্স ফিকশন সিনেমায় বহুবার এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছে। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে এই দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য এখনও হয়নি মানুষের। কিন্তু গল্প নয়, এবার সত্যি আকাশে উড়তে দেখা যাবে গাড়ি। যানজট এড়াতে এই প্রক্রিয়া নিয়ে গত এক দশক ধরে কাজ চলছিল। এবার কভেন্ট্রি শহরের সবচেয়ে ছোট বিমানবন্দর 'এয়ার ওয়ান' আমজনতার জন্য খুলে যাচ্ছে নভেম্বরে। তবে বিমান নয়, শুধুমাত্র ফ্লাইং কার ওঠানামা করবে। ব্রিটেনের একটি সংস্থা কোরিয়ান গাড়ি নির্মাতা সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বে প্রথম এই ধরণের বিমানবন্দর চালু করতে চলেছে।

    বরিস জনসন সরকার বারো লক্ষ পাউন্ড অনুমোদন করেছে। উড়ন্ত গাড়ি বানিয়ে যেমন সময় বাঁচানো যাবে, তেমনই পরিবেশবান্ধব হয়ে ওঠার সুযোগ থাকবে। তাই জাপান, রাশিয়া এবং স্লোভাকিয়ার মত দেশ বিদ্যুৎ চালিত উড়ন্ত গাড়ি তৈরির ম্যারাথনে প্রায় শেষ ল্যাপে। শোনা যাচ্ছে আধুনিক ড্রোন যে টেকনোলজি ব্যবহার করে ওড়ানো হয়, ফ্লাইং কারের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অনেকটাই সেরকম। শুধু মানুষ নয়, বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ অত্যন্ত দ্রুত করা যাবে এর ফলে। গতবছর জাপানের স্কাইড্রাইভ ইনকর্পোরেশন উড়ন্ত যানে এক যাত্রীকে নিয়ে সফল পরীক্ষা করেছে। ২০২৩ সালের মধ্যে বাজারে উড়ন্ত গাড়ি আনবে বলে জানিয়েছিল এই সংস্থা।

    গত তিন দশকের পরিশ্রমের ফলে স্লোভাকিয়ান একটি সংস্থা এমন গাড়ি তৈরি করেছে যার চোখের পলকে বদলে যাবে ছোট বিমানে। তবে এই মুহূর্তে ব্রিটেন করোনা সামলাতে সামলাতে বিপন্ন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রকল্পের জন্য বরিস জনসন সরকারের এই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করার জন্য সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেরই মত এত টাকা যাঁরা কাজ হারিয়েছেন বা করোনা নিয়ন্ত্রণে লাগানো যেত।

    সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা আবার ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিকি সাধু। তিনি জানিয়েছেন এর ফলে মানুষের জীবন অনেক স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠবে। তাই সমালোচনা হলেও তিনি আশাবাদী এর উপকারিতা মানুষ পরে বুঝতে পারবেন। চেক ইন করা থেকে বোর্ডিং পর্যন্ত সংস্থার কর্মীরা সবসময় সাহায্যে উপস্থিত থাকবেন। তবে যাই হোক, আপাতত বিশ্বের প্রথম উড়ন্ত গাড়ির বিমানবন্দর হিসেবে নজর কাড়ছে এয়ার ওয়ান।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: