পাইলটদের জাল লাইসেন্স প্রদান, পাকিস্তানে গ্রেফতার পাঁচ

পাইলটদের জাল লাইসেন্স প্রদান, পাকিস্তানে গ্রেফতার পাঁচ
পাকিস্থানে পাইলটদের জাল লাইসেন্স দেওয়ার অপরাধে গ্রেফতার পাঁচ photo/samaa tv

সম্প্রতি পাইলটদের ভুয়ো লাইসেন্স দেওয়ার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচ জনকে। মজার বিষয় এঁরা প্রত্যেকেই এভিয়েশন অথরিটির কর্মকর্তা। অর্থাৎ সর্ষের মধ্যেই ভূত। পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি এই ব্যাপারটা তদন্ত করছিল।

  • Share this:

    #করাচি: দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বিমান পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। নিম্নমানের দক্ষতা, জোর করে পাওয়া ডিগ্রি নিয়ে বহু পাইলট নিয়মিত বিমান চালান! এমন অভিযোগ নতুন নয়। সম্প্রতি পাইলটদের ভুঁয়ো লাইসেন্স দেওয়ার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচজনকে। মজার বিষয় এঁরা প্রত্যেকেই অ্যাভিয়েশন অথরিটির কর্মকর্তা। অর্থাৎ সর্ষের মধ্যেই ভূত। পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি এই ব্যাপারটা তদন্ত করছিল। প্রধান পরিচালক মুনির শেখ জানিয়েছেন, এজেন্সিটিতে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, জাল বাণিজ্যিক পাইলট এবং এয়ার ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল একাধিক জনকে। ছুটির দিনে নেওয়া হত ভুয়ো পাইলট পরীক্ষা। লোক দেখানো ছাড়া যা আর কিছুই নয়। অর্থের বিনিময় লাইসেন্স প্রদান করা হত।

    ইতিমধ্যেই ৪০ জন বিমানচালক এবং সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের (সিএএ) আটজন কর্মকর্তাসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অনেকেরই মনে আছে গত বাইশ মে করাচি শহরে একটি যাত্রীবাহী বিমান ভেঙে পড়ে। বিমানের ভেতরে থাকা প্রায় একশো যাত্রীর মৃত্যু ঘটে। এরপর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বিমান মন্ত্রী গুলাম সারওয়ার খান গুরুতর অভিযোগ করেন। তিনি জানান দেশের সাড়ে আটশো পাইলটদের মধ্যে প্রায় আড়াইশোজন অযোগ্য। অভিযোগে জানা যায় যে পঞ্চাশ জন পাইলটের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে তাঁরা প্রত্যেকেই জাল লাইসেন্স জোগাড় করেছেন, না হলে পরীক্ষায় অন্য কোনও উপায় অবলম্বন করেছেন।

    পাকিস্তানে যাত্রীবাহী বিমানের পাইলটের মান নিয়ে অভিযোগ করতে শোনা গিয়েছিল আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান সংস্থাকে। একাধিক দেশে নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় ছিল পাকিস্তান এয়ারলাইন্স। এবার স্বয়ং এভিয়েশন অথরিটির কর্মকর্তা জড়িত থাকায় প্রশাসনের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠবে। পয়সার জন্য মানুষের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা করার অধিকার কেউ দেয়নি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এর আগেও জাল পাইলটদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। দেশের মানুষ সরকারের গাফিলতিকেও এর জন্য দায়ী করছেন।


    একদিকে মুদ্রাস্ফীতি চরমে। অর্ধেক দেশ চিনের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে, এমন অভিযোগ করেন স্বয়ং পাকিস্তানের মানুষ। অর্থের অভাবে ইসলামাবাদের বিখ্যাত পার্ক বন্ধক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর নিজের বোন ফতিমা জিন্নাহর নামের ওই পার্ক বন্ধক রাখা ভালোভাবে নেয়নি দেশবাসী। তার ওপর পাইলটদের এই জাল ডিগ্রির ব্যাপারটা বিশ্বের সামনে পাকিস্তানের মাথা আরও হেঁট করিয়ে দিল।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: