প্রজননের সময়ে পুরুষ সঙ্গীর আওয়াজ দূরে রাখতে পারে স্ত্রী ব্যাঙেরা, কী ভাবে বলছে নয়া সমীক্ষা

প্রজননের সময়ে পুরুষ সঙ্গীর আওয়াজ দূরে রাখতে পারে স্ত্রী ব্যাঙেরা, কী ভাবে বলছে নয়া সমীক্ষা

প্রজননের সময়ে পুরুষ সঙ্গীর আওয়াজ দূরে রাখতে পারে স্ত্রী ব্যাঙেরা, কী ভাবে বলছে নয়া সমীক্ষা!

প্রত্যেকেরই নিজস্ব ডাক আছে ও কমিউনিকেশনের ধরন আছে। যা দিয়ে যে যার নিজের প্রজাতির সঙ্গে বেঁচে আছে

  • Share this:

#মিনেসোটা: মানুষের মধ্যে যেমন একাধিক গুণ আছে, বৈশিষ্ট্য আছে, তেমন পশু-পাখি বা কীট-পতঙ্গদের মধ্যেও রয়েছে। কিন্তু সবটা আমরা জানি না বা এখনও জানা সম্ভব হয়নি। প্রত্যেকেরই নিজস্ব ডাক আছে ও কমিউনিকেশনের ধরন আছে। যা দিয়ে যে যার নিজের প্রজাতির সঙ্গে বেঁচে আছে।

একটি নতুন সমীক্ষা বলছে, কী ভাবে পুরুষ ব্যাঙের ডাক চিনে স্ত্রী ব্যাঙেরা প্রজননের জন্য সঙ্গী খুঁজে নেয় ও প্রজননের সময় অন্য পুরুষ ব্যাঙের ডাক থেকে দূরে থাকে।

সাধারণত পুকুর, ডোবা, ড্রেন, খাল বা এই ধরনের কোনও জায়গা প্রজননের জন্য বেছে নেয় ব্যাঙেরা। এই জায়গাগুলি যথেষ্ট কোলাহলপূর্ণ হয়। পাশাপাশি যখন প্রজননের সময় হয়, তখন এক জায়গায় একসঙ্গে অনেক পুরুষ ব্যাঙ জমা হয় এবং ডাকতে শুরু করে। তার মধ্যে থেকেই নিজের সঙ্গীকে ডাক দিয়ে চিনে নেয় ব্যাঙেরা।

এবার এক জায়গায় এত ব্যাঙ কোলাহল করছে, চিৎকার করছে, তাতে মানুষের কান খারাপ হওয়ার মতো অবস্থা হলেও স্ত্রী ব্যাঙেদের কিন্তু কিছু হয় না। অর্থাৎ ২০-৩০টা ব্যাঙ এক জায়গায় এত চিৎকার করলেও স্ত্রী ব্যাঙেদের কিন্তু কিছু যায় আসে না। কারণ, তারা এই আওয়াজ ফিল্টার করতে পারে।

নতুন সমীক্ষা বলছে, ব্যাঙেদের ফুসফুসে এমন একটি জিনিস থাকে যা এই নয়েজ ক্যানসেল করতে সাহায্য করে। তাই প্রজননের সময়ে এত চিৎকারে মানুষের কান খারাপ হলেও স্ত্রী ব্যাঙেদের কানে কিছু পৌঁছায় না।

এই বিষয়ে এই সমীক্ষার প্রধান, মিনেসোটার সেন্ট ওলাফ কলেজের অধ্যাপক নরম্যান লি বলেন, স্ত্রী ব্যাঙেদের ফুসফুসে এক অদ্ভুত জিনিস থাকে, যা আশেপাশের আওয়াজ কমিয়ে দেয়, কখনও আওয়াজ বাদও দিয়ে দেয়।

তিনি জানান, এই জিনিসটিকে spectral contrast enhancement বলা হয়। যা পুরুষ ব্যাঙেদের আওয়াজকে কমিয়ে দেয়। এটি কিছুটা নয়েজ ক্যানসেল করা হেডফোনের মতো কাজ করে। যা ব্লাডকে অক্সিজেনেট করে।

১৯৮০ সাল থেকে এই নিয়ে গবেষণা চলছে। যা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, পুরুষ সঙ্গীর আওয়াজ অত জোরে কানে না গেলেও আওয়াজ হলেই মাথায় ভাইব্রেশন হয় স্ত্রী ব্যাঙের। সে বুঝতে পারে সঙ্গমের সময় হয়ে এসেছে। আর এই সিগনাল মাথা পর্যন্ত পৌছাতে সাহায্য করে স্ত্রী ব্যাঙেদের ফুসফুস।

তবে, এই নিয়ে আরও গবেষণা চলছে। এখনও এই নিয়ে পরিপূর্ণ রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। আর কী কী কারণে এমন হতে পারে, তারও খোঁজ চলছে। তবে, এটা ঠিক যে, স্ত্রী ব্যাঙেরা সহজেই পুরুষ সঙ্গীকে খুঁজে নেয় এবং এই কোলাহলের আওয়াজ তাদের কানে পৌঁছায় না।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: