Home /News /international /

ঘরে থাকুন, এই লড়াইটা হারবেন না,করোনার আঁতুড় চিন থেকে বার্তা বাঙালি গবেষকের

ঘরে থাকুন, এই লড়াইটা হারবেন না,করোনার আঁতুড় চিন থেকে বার্তা বাঙালি গবেষকের

এ শহরে এখনও নির্জনতাই ছেয়ে আছে। ১৪ মার্চের ছবি: অভিষেক মুখোপাধ্যায়।

এ শহরে এখনও নির্জনতাই ছেয়ে আছে। ১৪ মার্চের ছবি: অভিষেক মুখোপাধ্যায়।

"অভিজ্ঞতা থেকে বলছি করোনা সংক্রমণ আটকাতে সবচেয়ে ভাল দাওয়াই হল হোম কোয়ারেন্টাইন। নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা। জমায়েত না করা। চিন সেটাই সফল ভাবে করে এই বিপর্যয় সামাল দিয়েছে।"

  • Share this:

    আমি থাকি সুঝহউ শহরে। এই শহরটা সাংহাই লাগোয়া। গত কয়েক মাসে যেন শীতঘুমে চলে গিয়েছিল এই অঞ্চলটা। এখন একটু একটু করে সে আবার আড়মোড়া ভেঙে ছন্দে ফিরছে। হ্যাঁ, সব দিক খুঁটিয়ে দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের বিপদ কেটে গিয়েছে। শেষ পঁচিশ দিনে এই শহরটায় কোনও আক্রান্তের খবর নেই। তবে, আমার দেশের সমস্ত খবরাখবরই পাচ্ছি। পরিস্থিতি সত্যিই খুব উদ্বেগজনক।

    আমাদের আবাসনটায় সব মিলে প্রায় ৫০টা দেশের নাগরিক থাকে। এই প্রতিবেশীদের বেশির ভাগই দেশে ফিরে গিয়েছিল জানুয়ারি নাগাদ। ফিরিনি আমরা হাতেগোনা কয়েক জন। তবে, এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি আমরা এখানেই অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছি। দেশে ফেরার কথা ভাবছে না কেউই।

    জানুয়ারির শুরুতেই এখানে করোনার কথা লোক জানাজানি হয়। সংক্রমণ ঠেকাতে এখানে অতি অল্প সময়ের মধ্যে শহর থেকে ঢোকা বেরোনো বন্ধ করে দেওয়া হয়।বন্ধ করে দেওয়া হয় পার্ক, টুরিস্টদের বেড়ানোর জায়গাগুলিও। তবে সুপারমার্কেট খোলা ছিল। আমরা ঘরবন্দি ছিলাম একেবারে। শহরে ঢুকতে গেলে রেজিস্ট্রেশান করতে হত।

    ক্রমে অবস্থাটা বদলেছে। তবে মানুষ এখনও তেমন একটা বাইরে বের হচ্ছে না। কাজ সারা হচ্ছে ঘরে বসে। ছোটরা অনলাইনেই ক্লাস সারছে।

    আসতে আসতে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন: ছবি-অভিষেক মুখোপাধ্যায়

    এখন আমাদের রোজ টেম্পারেচার চেক করে রিপোর্ট দিতে হয়। কোনও দোকানবাজারে গেলেও টেম্পারেচার চেক করা হয়। রেজিস্ট্রেশান ফর্ম ফিল আপ করার ঝক্কিও থাকে। তাই সাধারণত একদিন বেরিয়েই গোটা সপ্তাহের দোকান বাজার সারছে লোকজন।

    এখানে স্থানীয় প্রশাসন একটি অ্যাপ চালু করেছে। আমাদের সেই অ্যাপে প্রতিদিন নিয়ম করে নিজেদের স্বাস্থ্যের অবস্থা বর্ণনা করতে হয়। কেউ যদি অ্যাপটা সঙ্গে না রাখে তবে তাকে সার্বজনীন যানবাহনে উঠতে দেওয়া হবে না। যে টুরিস্ট স্পটগুলো এখানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল তা খুলছে। তবে খুব অল্প লোককেই এখানো ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।

    অভিজ্ঞতা থেকে বলছি করোনা সংক্রমণ আটকাতে সবচেয়ে ভাল দাওয়াই হল হোম কোয়ারেন্টাইন। নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা। জমায়েত না করা। চিন সেটাই সফল ভাবে করে এই বিপর্যয় সামাল দিয়েছে।

    কাজটা কঠিন জানি। সেক্ষেত্রে আগে থেকেই অত্যাবশকীয় পণ্য মজুত রাখতে হহে। সরকারেরও উচিত সমস্ত পণ্যের সরবরাহ যাতে ঠিক থাকে তা দেখা। সবচেয়ে বড় কথা এই জরুরি অবস্থাতেও অত্যাবশকীয় পণ্যগুলির দাম বাড়েনি এখানে। আমাদের এখানে মাস্ক ব্যবহার করতে হয়েছে একদম প্রথম থেকে। ভারত সরকার কেন মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে না আমি জানি না।

    আমাদের দেশে বহু মানুষ রাস্তায় থাকেন। বহু লোক অপরিচ্ছন্ন জীবনকেই বেছে নেয়। জনসংখ্যাও বেশি। কাজেই চিন যে ভাবে করোনা সামলেছে ভারতের পক্ষে সেটা সম্ভব না। আমি আশা করি, সচেতনতা দিয়েই রেখেই সকলে এই যুদ্ধটা জিতবে।

    অভিষেক মুখোপাধ্যায়

    (লেখক রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাইনিজ স্টাডিজ প্রোগ্রামে অধ্যায়নরত। বেল্ট অ্যান্ড রোড স্কলারশিপ পেয়েছেন।)

    Published by:Arka Deb
    First published:

    Tags: Corona outbreak, Coronavirus

    পরবর্তী খবর