কংক্রিটের জঙ্গল ছেড়ে প্রকৃতির মধ্যে বাসা বেঁধেছে বিশ্বের এই কয়েকটি সম্প্রদায়!

এখানকার লোকেরা নিজেরাই নিজেদের খাবার, জল এবং অন্যান্য বস্তুর চাহিদা সরবরাহ করেন। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তাঁদের খুব একটা যোগাযোগ নেই।

এখানকার লোকেরা নিজেরাই নিজেদের খাবার, জল এবং অন্যান্য বস্তুর চাহিদা সরবরাহ করেন। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তাঁদের খুব একটা যোগাযোগ নেই।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: বিশ্বে এমন অনেকগুলি সম্প্রদায় রয়েছে, যাঁদের কথা আমরা সে ভাবে জানি না। এঁরা সর্ব দিক দিয়ে স্বাবলম্বী। অর্থাৎ এখানকার লোকেরা নিজেরাই নিজেদের খাবার, জল এবং অন্যান্য বস্তুর চাহিদা সরবরাহ করেন। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তাঁদের খুব একটা যোগাযোগ নেই।

অনেকেই জানেন এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম চর্চিত বিষয় হল জলবায়ুর পরিবর্তন। এই নিয়ে চর্চা, লেখাপ্রকাশ এবং আন্দোলন কোনও কিছুই বাদ নেই। কিন্তু এর ফলে মানুষ যে ক্রমাগত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এই সম্প্রদায়গুলি যেন সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে। এত প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা হওয়ার পরেও মানুষ প্রযুক্তির হাত ধরে প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অথচ এই সম্প্রদায়ের মানুষ যে বাড়িতে বাস করে এবং এঁদের জীবনযাত্রা যে রকম, তার প্রতি পদক্ষেপে জড়িয়ে আছে প্রকৃতি।

১) আমেরিকার আর্থশিপ প্রোজেক্ট যা তৈরি করেছেন মাইকেল রেনল্ড। যিনি পরিবেশবান্ধব বাড়ি তৈরির জন্য বিখ্যাত। এই বাড়ির ৪৫% উপাদান রিসাইকেল করা যায়। এই বাড়ি তৈরির সময়ে কোনও দূষণ হয়নি, তাই এর কার্বন ফুটপ্রিন্ট শূন্য। এই বাড়িটি স্বয়ংনির্ভর। অর্থাৎ বিদ্যুৎ, জল, সবজি সব এখানেই উৎপন্ন হয়।

২) ইতালির একটি ছোট্ট গ্রাম তোরি সুপিরিওরে। এখানে এরকম তিনটি বিল্ডিং আছে এবং এগুলো ত্রয়োদশ শতাব্দীর। বিল্ডিং-এ ১৬০টি ঘর আছে আর প্রত্যেকটি ঘর পরস্পরের সঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে যুক্ত। এটাকে স্থাপত্যবিদ্যার একটি উজ্জ্বল রত্ন বলা যেতে পারে।

৩) পুদুচেরির অরোভিল এরকমই আরেকটি সম্প্রদায়। এটি শ্রী অরবিন্দ সোসাইটির অন্তর্গত। দেশ-বিদেশ থেকে এখানে মানুষ এসে বসবাস করেন। কাদামাটি এবং কাঠের তৈরি বাড়িতে এখানে নানা আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অরোভিলে বাইরে থেকে কিছু কেনা হয় না, কারণ বাকি সব এখানেই উৎপন্ন হয়।

৪) আয়ারল্যান্ডের তিয়ার বিও সম্প্রদায়ের মানুষ মাত্র দশ একর জায়গায় বাস করেন। এক টুকরো জমিকে ভাগ করেই সবাই এখানে চাষাবাদ করেন। এঁদের জীবনযাত্রায় প্রতিফলিত হয় প্রকৃতি প্রেম।

৫) জাপানের করোহামা পরিবার একটি পরিবেশবান্ধব পরিবার। এই পরিবারে ৮০ জন সদস্য আছে। এঁরা ২৫০ রকম শাকসবজি, ১০ রকমের চাল উৎপন্ন করেন। বাইরের বিশ্ব থেকে এঁরা শুধু নুন আর চিনি কেনেন।

৬) দক্ষিণ আফ্রিকার খুলা ধম্ম সম্প্রদায় খুব পুরনো নয়। ২০০০ সালে পাঁচ জন বন্ধু মিলে এই কমিউনিটি তৈরি করেন। পরিবেশবান্ধব এই বাড়িতে সব কিছুই উৎপন্ন হয়।

৭) অস্ট্রেলিয়ার ক্রিস্টাল ওয়াটার গ্রাম বিশ্বের প্রথম পার্মাকালচার গ্রাম। এক সময়ে এই গ্রাম খরার কবলে ছিল। তখন গ্রামবাসীরা বৃষ্টির জল সংগ্রহ করতে শুরু করেন। কোনও কিছুর জন্য এই গ্রাম বাইরের বিশ্বের উপরে নির্ভরশীল নয়।

৮) রাশিয়ার কোভচেগ গ্রামে এক ব্যবসায়ী তাঁর পরিবারকে সুস্থ জীবন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে এই কমিউনিটি গড়ে তোলেন। এখানে ৪০টি পরিবার আছে যারা নিজেদের খাবার নিজেরাই উৎপন্ন করে। এখানে স্কুল আছে এবং বনসৃজনের কাজ করা হয়।

৯) ওয়েলসের লামাস ইকো ভিলেজ হল একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রাম। এই গ্রামের মানুষ খাদ্য, জল ও বিদ্যুৎ নিজেরাই উৎপন্ন করেন। এখানকার বাড়ির উপাদানও রিসাইকেল করা যায়।

First published: