বায়ুমণ্ডলে কমছে অক্সিজেনের মাত্রা! কত বছরে নিঃশেষ হয়ে যাবে?

বায়ুমণ্ডলে কমছে অক্সিজেনের মাত্রা! কত বছরে নিঃশেষ হয়ে যাবে?

বায়ুমণ্ডলে কমছে অক্সিজেনের মাত্রা, কত বছরে নিঃশেষ হয়ে যাবে তা?

ক্রিস রেইনহার্ড তাঁর এই লেখায় যখন অক্সিজেন একেবারে ফুরিয়ে যাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে, সেই অবস্থাটির তুলনা টেনেছেন গ্রেট অক্সিডেশন ইভেন্টের সঙ্গে।

  • Share this:

#জর্জিয়া: জর্জিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির আর্থ সায়েন্টিস্ট ক্রিস রেইনহার্ড বলছেন যে বায়ুমণ্ডলে দ্রুত কমে আসছে অক্সিজেনের পরিমাণ। আর তা মোটেও খুব একটা ধীর গতিতে হচ্ছে না। ঘটনাটা বিশ্লেষণ করতে যেটুকু সময় লাগে, তার মধ্যেও কিছুটা হলে কমে যাবে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ!

ক্রিস রেইনহার্ডের এই বৈজ্ঞানিক গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার জিওসায়েন্স নামের জার্নালে। দ্য ফিউচার লাইফস্প্যান অফ আর্থ'স অক্সিজেনেটেড অ্যাটমোসফিয়ার নামে এই সমীক্ষা সঙ্গত কারণেই দুশ্চিন্তার পরিবেশ তৈরি করেছে বিশ্ব জুড়ে। কেন না, পৃথিবী বসবাসের উপযুক্ত একমাত্র এই অক্সিজেনের জন্যই- উদ্ভিদ থেকে প্রাণীকুল, বায়ুমণ্ডলের এই উপকরণটির উপরে জীবনধারণের জন্য সকলেই নির্ভরশীল। কাজেই অক্সিজেন যদি না থাকে, বলাই বাহুল্য, পৃথিবীতে প্রাণেরও আর অস্তিত্ব থাকবে না।

ক্রিস রেইনহার্ড তাঁর এই লেখায় যখন অক্সিজেন একেবারে ফুরিয়ে যাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে, সেই অবস্থাটির তুলনা টেনেছেন গ্রেট অক্সিডেশন ইভেন্টের সঙ্গে। আজ থেকে ২.৪ বিলিয়ন আগে পৃথিবীর অবস্থা ছিল এই রকম! অর্থাৎ তখনও পৃথিবীতে প্রাণের জন্ম হয়নি, অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার আগের পর্যায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই গ্রহ। অক্সিজেন ফুরিয়ে গেলে আবার আমরা সেই জায়গাতেই ফেরত চলে যাব বলে জানিয়েছেন তিনি।

এই আর্থ সায়েন্টিস্ট আরও জানিয়েছেন যে এর আগে মনে করা হত এই সময় আসতে দেরি আছে। কিন্তু সেই ধারণা সম্প্রতি ভ্রান্তিতে পর্যবসিত হয়েছে। জানা গিয়েছে যে বড় জোর আর একটা বিলিয়ন বছর কোনও মতে প্রাণের অস্তিত্ব টিঁকে থাকবে পৃথিবীতে- তার পর অক্সিজেনের অভাবে সব ধ্বংস হয়ে যাবে। এই ঘটনাটি ঘটবে কয়েকটা ধাপের মধ্যে দিয়ে। প্রথমে পৃথিবীর সব জলাশয় শুকিয়ে যাবে। এর পর ধীরে ধীরে পৃথিবীর পরিমণ্ডল থেকে হ্রাস পাবে আর্দ্রতা। আর তার পরেই নেমে আসবে অমোঘ নিয়তি!

পৃথিবীর পরিমণ্ডল থেকে কী ভাবে জল শুকিয়ে যাবে, সেটাও নিজের লেখায় ব্যাখ্যা করতে ভোলেননি ক্রিস রেইনহার্॥ তিনি জানিয়েছেন সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মিগুলি সমুদ্রের জল খুব দ্রুত শুষে নিচ্ছে। যদি এই ভাবেই চলতে থাকে, তাহলে এক বিলিয়ন বছরের মধ্যেই সবুজের চিহ্ন হারিয়ে, প্রাণের চিহ্ন হারিয়ে পৃথিবী পরিণত হবে সৌরজগতের অন্য নিষ্প্রাণ গ্রহগুলোর মধ্যে আরেকটায়, বলছেন তিনি।

Published by:Pooja Basu
First published: