হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু, তার পরেও ফাঁসিতে ঝোলানো হল স্বামী খুনে অভিযুক্ত মহিলার দেহ

প্রতীকী ছবি৷

যে জেলে জাহরাকে ফাঁসি দেওয়ার কথা ছিল, সেই রাজাই শাহর জেল বন্দিদের উপরে অত্যাচারের জন্য কুখ্যাত৷

  • Share this:

    #তেহরান: ফাঁসিতে ঝোলানোর আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক মহিলার৷ কিন্তু তার পরেও সেই নিথর দেহকেই ফাঁসিতে ঝোলানো হল৷ এমনই অমানবিক ঘটনা ঘটেছে ইরানের রাজাই শাহর জেলে৷

    মৃত ওই মহিলার নাম জাহরা ইসমাইলি৷ তাঁর বিরুদ্ধে নিজের স্বামীকে হত্যার অভিযোগ ছিল৷ সেই অভিযোগেই জাহরার ফাঁসির শাস্তি হয়৷ যদিও পেশায় গোয়েন্দা অফিসার ওই মহিলার স্বামী আলিরেজা জামানি জাহরা এবং তাঁর মেয়ের উপরে অত্যাচার করতেন বলে অভিযোগ৷

    যে জেলে জাহরাকে ফাঁসি দেওয়ার কথা ছিল, সেই রাজাই শাহর জেল বন্দিদের উপরে অত্যাচারের জন্য কুখ্যাত৷ জাহরার আইনজীবী ওমিদ মোরাদির অভিযোগ, ফাঁসির আগে আরও ১৬ জন সাজাপ্রাপ্তের পিছনে লাইনে দাঁড় করানো হয়েছিল দুই সন্তানের মা জাহরাকে৷ চোখের সামনে একের পর একজনকে ফাঁসিতে ঝুলতে দেখে সেই মানসিক ধাক্কা সামলাতে পারেননি জাহরা৷ লাইনে দাঁড়িয়েই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর৷ কিন্তু তারপরেও তাঁকে রেয়াত করা হয়নি৷

    জাহরার আইনজীবীর অভিযোগ, মৃত্যুর পরেও জাহরার দেহটি ফাঁসিকাঠে নিয়ে গিয়ে দড়িতে বেঁধে ঝোলানো হয়৷ যাতে ফাঁসিতে ঝোলানোর পর তাঁর শাশুড়ি লাথি মেরে জাহরার পায়ের নীচ থেকে চেয়ারটি সরিয়ে দিতে পারেন৷ মোরাদির দাবি, ডেথ সার্টিফিকেটে জাহরার মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কথাই উল্লেখ করা হয়েছে৷ তাঁর আরও দাবি, অত্যাচারী স্বামীর হাত থেকে দুই মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়েই খুন করতে বাধ্য হন জাহরা৷

    আরব নিউজ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবাধিকার কর্মী এবং বিশেষজ্ঞরা এই মৃত্যুর চরম নিন্দা করেছেন৷ এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারাও যাতে সরব হন, সেই দাবিও তুলছেন মানবাধিকার কর্মীরা৷

    শরিয়ত আইনেই খুন হওয়া ব্যক্তির পরিবার সদস্যদের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়৷ যাতে অভিযুক্তকে সরাসরি শাস্তি দেওয়ার সুযোগ পান তাঁরা৷ আর ইরানে একই দিনে ১৭ জনের ফাঁসির ঘটনাও খুব একটা অস্বাভাবিক নয়৷ কারণ চিনের পর ইরানেই সবথেকে বেশি প্রাণদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়৷ মাদক পাচার, মদ্যপান, সমকামিতা, বিয়ের আগেই যৌন সম্পর্কের মতো অভিযোগেও সেদেশে প্রাণদণ্ডের শাস্তি দেওয়ার নজির রয়েছে৷ ১২ বছর বয়সি শিশুকেও ফাঁসির সাজা থেকে রেয়াত করা হয় না৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: