ছেলের সঙ্গে ঝামেলা, অকল্যান্ডে নৃশংস ভাবে খুন ম্যাঙ্গালুরুর দম্পতি!

ছেলের সঙ্গে ঝামেলা, অকল্যান্ডে নৃশংস ভাবে খুন ম্যাঙ্গালুরুর দম্পতি!

Couple murdered in Auckland -Representative Image

পুলিশ সূত্রে খবর, ছুরি মেরে খুন করা হয়েছে দম্পতিকে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

  • Share this:

#অকল্যান্ড: এক নির্মম ঘটনার সাক্ষী থাকল নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড (Auckland)। ছেলের পড়াশোনার জন্য বিদেশে গিয়ে থাকতেন ম্যাঙ্গালুরুর এক দম্পতি। গতকাল বাড়ি থেকে তাঁদের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হল। গুরুতর ভাবে জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন দম্পতির ছেলে ও এক স্থানীয় বাসিন্দাও। পুলিশ সূত্রে খবর, ছুরি মেরে খুন করা হয়েছে দম্পতিকে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। খুনের সঠিক কারণও জানা যায়নি।

এলিজাবেথ বাঙ্গেরা (Elisabeth Bangera) ও হারমন বাঙ্গেরা (Herman Bangera)। কর্নাটকের ম্যাঙ্গালুরুর বলমট্টার (Balmatta) বাসিন্দা ছিলেন ওই দম্পতি। ঘটনাস্থানে গিয়ে জানা যায়, দম্পতির পাশাপাশি তাঁদের ছেলে শেল বাঙ্গেরাকেও ছুরি মারা হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। তবে এখানেই শেষ নয়। দম্পতির বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার শুনে একজন ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েন। তিনিও গুরুতর ভাবে জখম হয়েছেন। স্থানীয়রা তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। কিন্তু বা কে বা কারা এই ঘটনার পিছনে রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।

স্থানীয়দের তরফে জানা গিয়েছে, বলমট্টার শান্তি ক্যাথিড্রাল (Shanthi Cathedral) সানডে স্কুলের শিক্ষক এলিজাবেথের বাবার নাম এডওয়ার্ড আম্মান্না (Edward Ammanna)। মেরকারা হিল চার্চেও (Mercara HIill Church) একটি সম্মানীয় পদে ছিলেন তিনি। অন্য দিকে, মুম্বইয়ের একটি স্কুলে প্রশাসকের পদে ছিলেন হারমন। একই শহরেই গোদরেজ কম্পানিতে (Godrej company) কাজ করতেন এলিজাবেথ। সেই সূত্রেই দু'জনের মধ্যে পরিচয় হয়। পরে হারমানের সঙ্গে বিয়ে হয় এলিজাবেথের। বিয়ের কয়েকদিনের পর গোয়ায় গিয়ে থাকতে শুরু করেন দু'জনে। পরিবারে সন্তান আসে। এর পর ছেলের উচ্চশিক্ষার জন্য ২০০৭ সালে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি দেন দম্পতি। সম্প্রতি Facebook-এ ছেলের ডিগ্রি সার্টিফিকেটের ছবিও শেয়ার করেছিলেন তাঁরা। তবে হঠাৎই এই খুনের ঘটনা ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে।

দম্পতি কী ভাবে খুন হলেন, সে নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক ধরে দম্পতির ছেলের সঙ্গে একটা ঝামেলা চলছিল। বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা থাকতে চাইছিল ছেলে। নিজের ইচ্ছেমতো সমস্ত কাজ করছিল। বাবা-মায়ের সঙ্গেও আচার-আচরণেও পরিবর্তন আসে। আর এর জেরে প্রায়শই ঝগড়া হত। প্রাথমিক অনুমান, খুনের পিছনে এই ঝামেলাও একটা বড় কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে বাবা-মাকে খুন করার পর যুবক হয় তো নিজে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এই বিষয়ে এখনও কোনও প্রমাণ মেলেনি। আপাতত ঘটনার তদন্ত চলছে। মৃতের প্রতিবেশী ও আত্মীয়-পরিজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Published by:Pooja Basu
First published: