করোনাজয়ী রোগীর অ্যান্টিবডি থেকেই প্রথম প্যাসিভ ভ্যাকসিন! দাবি জার্মান গবেষকদের !

করোনাজয়ী রোগীর অ্যান্টিবডি থেকেই প্রথম প্যাসিভ ভ্যাকসিন! দাবি জার্মান গবেষকদের !

গবেষকরা বলছেন, অ্যাক্টিভ ভ্যাকসিনের তুলনায় প্যাসিভ ভ্যাকসিন অনেক বেশি দ্রুততার সঙ্গে শরীরে কাজ শুরু করে।

গবেষকরা বলছেন, অ্যাক্টিভ ভ্যাকসিনের তুলনায় প্যাসিভ ভ্যাকসিন অনেক বেশি দ্রুততার সঙ্গে শরীরে কাজ শুরু করে।

  • Share this:

#জার্মান: করোনা-আতঙ্কে জর্জরিত গোটা পৃথিবী। কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। বেড়েই চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে বাজারে ভ্যাকসিন আসার অপেক্ষায় গোটা দুনিয়া।

করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে বিগত ৬ মাস ধরে কাজ চলছে সারা বিশ্বেই। গবেষণার মাঝেই প্রকাশ্যে এল বিজ্ঞানীদের চাঞ্চল্যকর দাবি। কোভিড ১৯ ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার জন্য তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডিই নাকি কাজ করতে পারে প্যাসিভ ভ্যাকসিন হিসেবে। তবে অ্যাক্টিভ ভ্যাকসিনের তুলনায় প্যাসিভ বা পরোক্ষ ভ্যাকসিনের প্রভাব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে আসে।

বার্লিনের জার্মান সেন্টার ফর নিউরোডিজেনারেটিভ ডিজিজেস-এর বিজ্ঞানীরা ৬০০ জন কোভিডজয়ী মানুষের রক্তের নমুনা থেকে সংগ্রহ করা অ্যান্টিবডি সরিয়ে রেখেছিলেন। সেগুলি পরীক্ষা করে সেল কালচার করার পর গবেষণাগারে কৃত্রিম ভাবে অ্যান্টিবডি তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে জার্মান গবেষণাটি।রেডিমেড ভ্যাকসিন হওয়ায় এর সাফল্যের সম্ভাবনাও বেশি। দেহের ভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্যাসিভ ভ্যাকসিনের কাজ সহজ হয়।

গবেষকরা বলছেন, অ্যাক্টিভ ভ্যাকসিনের তুলনায় প্যাসিভ ভ্যাকসিন অনেক বেশি দ্রুততার সঙ্গে শরীরে কাজ শুরু করে। রোগীর দেহে এই ভ্যাকসিন প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ করা শুরু করে।  কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এর কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।চলতি বছরের শেষ অথবা ২০২১-এর প্রথমেই শুরু হয়ে যাবে প্রথম দফার ট্রায়াল।

প্রসঙ্গত, এক দিন আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্তা টেডরোজ আধানম গেব্রিয়েসুস এক ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে  বলেন, তাঁরা কোনও গ্যারান্টি দিতে পারবেন না যে পরীক্ষাধীন সব ভ্যাকসিনই কার্যকরী হবে। যত বেশি স্বেচ্ছাসেবকদের উপরে পরীক্ষা চলবে, তত একটি নিরাপদ ও কার্যকরী ভ্যাকসিনের খোঁজ পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। প্রায় দু’শোটি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ চলছে গোটা বিশ্বে। কেউ কেউ ব্যর্থ হবে, কেউ সফল হবে। তবে পৃথিবী জুড়ে অতিমারীর আবহে করোনা ভ্যাকসিন তৈরির কাজকে প্রতিযোগিতা হিসেবে না নিয়ে পরস্পরের প্রতি সহযোগিতার হাত পাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন 'স্পুটনিক ফাইভ' তৈরি করার দাবি করেছে রাশিয়ার পুতিন সরকার। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি পেতে বেশ দেরিই হয়েছে। যাই হোক, দেরি হলেও সম্প্রতি শেষমেশ বিশ্বের প্রথম কার্যকর করোনা ভ্যাকসিন তৈরির জন্য রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সংস্থা।

 
Published by:Piya Banerjee
First published: