করোনার প্রভাব পড়েছে নাবালকদের মানসিক স্বাস্থ্যে, বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা!

করোনার প্রভাব পড়েছে নাবালকদের মানসিক স্বাস্থ্যে, বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা!

করোনার প্রভাব পড়েছে নাবালকদের মানসিক স্বাস্থ্যে, বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার জেরে বাচ্চাদের মানসিক স্বাস্থ্য সব চেয়ে বেশি বিঘ্নিত হয়েছে।

  • Share this:

#প্যারিস: করোনার প্রভাব পড়েছে চাকরি থেকে ব্যবসা সব ক্ষেত্রে। পালটেছে পড়াশোনার ধরন। বাইরে বেরোনোও কমেছে এই মারণ ভাইরাসের জেরে। যার ফলে একাধিক মানুষের মধ্যে মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। করোনার প্রত্যক্ষ প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যে না পড়লেও পরোক্ষ প্রভাব অবশ্যই রয়েছে। লকডাউনের শুরু থেকে একের পর এক এমন ঘটনা সামনে এসেছে যা এই তত্ত্বকেই উসকে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার জেরে বাচ্চাদের মানসিক স্বাস্থ্য সব চেয়ে বেশি বিঘ্নিত হয়েছে। কারণ এক দিকে স্কুল বন্ধ, অন্য দিকে বন্ধ খেলাধূলাও। বাড়িতে বসে বসে একঘেয়েমি, একাকিত্ব গ্রাস করেছে তাদের। শুরু হয়েছে অবসাদে ভোগা। যার ফলে খাওয়া দাওয়া বন্ধ থেকে সুইসাইড, সব কিছুর পরিমাণই বেড়েছে লক্ষ্যণীয় ভাবে।

যেমন প্যারিসের এক নাবালক কিছু দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়ে। রিপোর্ট থেকে জানা যায়, সে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। এমনকি জলও খাচ্ছিল না। ফলে ধীরে ধীরে একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সমস্যা শুরু হয়। কিডনি খারাপ হতে শুরু করে। চিকিৎসকের কাছে যখন তার বাবা-মা তাকে নিয়ে যান, তখন অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। তবুও চিকিৎসকরা তাকে ভালো করার চেষ্টা করছে। চিকিৎসকরা জানান, এই ১১ বছরের পাবলোর মানসিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। যার ফলে সে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়।

তথ্য বলছে, পাবলো একা নয়। এই সমস্যার শিকার বহু শিশু। যার ফলে সেপ্টেম্বরে একাধিক আত্মহত্যা দেখেছে বিশ্ব। ৮ বছরের নিচে এই ধরনের একাধিক ঘটনা দেখা গিয়েছে। যেখানে নিজেদের ক্ষতি করা, অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছ। জাপান ২০২০-তে বয়ঃসন্ধিতে থাকা ছেলেমেয়েদের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত আত্মহত্যা দেখেছে।

চিকিৎসক থেকে বিশেষজ্ঞ সকলে বলছেন, তাঁরাও বাচ্চাদের মধ্যে করোনার ফোবিয়া দেখতে পাচ্ছেন। যা খাওয়ায় সমস্যা তৈরি করছে। তৈরি করছে মানসিক সমস্যাও। এদের মধ্যে হাত ধোয়া, অতিরিক্ত স্যানিটাইজার লাগানো, গায়ে ডিজইনফেক্ট ছড়িয়ে রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যা আসলে খাবারের প্রতি অনিচ্ছা তৈরি করছে।

এর পাশাপাশি বাচ্চাদের প্যানিক অ্যাটাকও হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। হার্ট প্যালপিটিশন, মানসিক সমস্যা, মোবাইলের প্রতি আসক্তি ও ল্যাপটপের প্রতি আসক্তি ইত্যাদিও বাড়ছে।

এর মধ্যে অনেক বাচ্চাই সব কথা বাড়িতে খুলে বলে না বা আউটস্পোকেন নয়। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে বেশি প্রভাব পড়ছে। যার ফলে পড়াশোনার গতি কমছে। পড়া মনে রাখতে সমস্যা হচ্ছে। যা মানসিক অবসাদ তৈরি করছে। ফলে তা থেকে শারীরিক অসুস্থতা বাড়ছে।

প্যারিসের রবার্ট ডেবরি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের রিপোর্ট বলছে, প্রতি মাসে ১৫ বছরের নিচে ২০ জন করে আত্মহত্য়ার চেষ্টা করছে। যা সেপ্টেম্বরে আরও বেড়েছে। ফলে এই সমস্যার সমাধান দরকার। বাড়িতে হলেও বাচ্চাদের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রাখা দরকার। এবং বাচ্চাদের সময় দেওয়াও অত্যন্ত প্রয়োজন।

Written By: Gargi Das

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:

লেটেস্ট খবর