দারিদ্র্যমুক্ত চিন! জিনপিংয়ের দাবিতে শুরু নতুন বিতর্ক

দারিদ্র্যমুক্ত চিন! জিনপিংয়ের দাবিতে শুরু নতুন বিতর্ক

নিজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরলেন প্রেসিডেন্ট জিনপিং

তিনি জানিয়েছেন, এর আগে এত বিপুল জনসংখ্যার কোনও দেশ এত কম সময়ে দারিদ্রমুক্ত হতে পারেনি। এই কৃতিত্ব ইতিহাসের পাতায় উঠবে বলেও দাবি জিনপিংয়ের।

  • Share this:

    #বেজিং: মানব সভ্যতার একটি নতুন মাইলস্টোন স্পর্শ করেছে চিন। কিছুটা মিরাকেল বলতেও অসুবিধে নেই তাঁর। আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে যে প্রতিজ্ঞা তিনি নিয়েছিলেন, আজ তা পূর্ণতা পেয়েছে। এমনটাই দাবি করলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্প্রতি বেজিংয়ে কমিউনিস্ট পার্টির একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই দাবি করেন দেশের প্রধান। তিনি জানিয়েছেন, এর আগে এত বিপুল জনসংখ্যার কোনও দেশ এত কম সময়ে দারিদ্রমুক্ত হতে পারেনি। এই কৃতিত্ব ইতিহাসের পাতায় উঠবে বলেও দাবি জিনপিংয়ের।

    প্রসঙ্গত, করোনার জেরে একাধিক দেশ চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ে। ব্যতিক্রমী নয় চিনও। দ্রুত করোনার সংক্রমণ এড়াতে পারলেও অর্থনৈতিক খেসারত দিতে হয়েছে এই দেশকেও। করোনার আগে থেকেই চিনের একটি বড় সমস্যা ছিল দারিদ্রতা। রাতারাতি কীভাবে মিটল এই সমস্যা, উঠছে প্রশ্ন। মানতে অসুবিধা নেই শেষ কয়েক বছরে সার্বিক উন্নতির মাপকাঠিতে কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে চিন। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ আর্থিক শক্তিশালী দেশ।

    মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, ভারি মেশিন, রেললাইন, ব্রিজ তৈরির পরিকাঠামোয় প্রচুর এগিয়ে গিয়েছে চিন। দ্রুত উন্নত হয়েছে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (artificial intelligence) তৈরি করার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে ড্রাগন। দেশের মানুষের রোজগার অনেকটা ওপরে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছে জিনপিং প্রশাসন। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চিনের দাবি মিথ্যা নয়। আজ থেকে পনেরো বছর আগে চিনের মানুষের জীবন যাত্রার মান যা ছিল, আজ তিনগুণ উন্নত হয়েছে। দেশের প্রতিটি শহর বুলেট ট্রেনের মাধ্যমে যুক্ত। প্রয়োজনেই বিশ্ব ব্যাংককে ঋণ দেওয়ার মত সক্ষমতা অর্জন করেছে বেজিং।

    প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দাবি করেছেন, নিজের দেশের দারিদ্রতা দূরীকরণের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে এই দেশ। যদিও চিনা প্রেসিডেন্টের এমন দাবিতে কিছু প্রশ্ন উঠছে। প্রথমত পাকিস্তান থেকে ভুটান, নেপাল থেকে জিবুতি,চিন যাঁদের ধার দেয়, তাঁদের থেকে বিনিময় অনেক কিছু আদায় করে নেয়। চিনের স্ট্র্যাটিজি হল ঋণ দিয়ে বিভিন্ন দেশের আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে দেওয়া। অনেকেই মনে করছেন বিশ্বের কাছে নিজের উন্নয়নশীল কাজের ছবি তুলে ধরার জন্য এই প্রচেষ্টা।

    কেউ আবার মনে করছেন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির ভেতর এই বার্তা দিয়ে জিনপিং বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যানের ব্যাপারে প্রশ্ন করার জায়গা নেই কারও। তাঁকে চ্যালেঞ্জ করবেন এমন সাহস কার? অনেকেরই মনে আছে কিছুদিন আগে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল। তখন অতিরিক্ত বরাদ্দ কমানোর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর খাদ্য তালিকাতেও বদল আনা হয়েছিল। তাই সেই পরিস্থিতি থেকে এত দ্রুত দারিদ্র্য মুক্ত ঘোষণা, সন্দেহের অবকাশ তৈরি করে বটেই।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published:

    লেটেস্ট খবর