'ভুল করে' ৭ সন্তানের জন্ম! এখন ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে দম্পতিকে...

'ভুল করে' ৭ সন্তানের জন্ম! এখন ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে দম্পতিকে...

৩৪ বছর বয়সি মহিলা এবং তাঁর ৩৯ বছরের স্বামী ৭ সন্তানের অভিভাবক৷ পাঁচ ছেলে এবং ২ মেয়ে রয়েছে তাঁদের৷

৩৪ বছর বয়সি মহিলা এবং তাঁর ৩৯ বছরের স্বামী ৭ সন্তানের অভিভাবক৷ পাঁচ ছেলে এবং ২ মেয়ে রয়েছে তাঁদের৷

  • Share this:

    #বেজিং: সাতটি সন্তানের বাবা-মা৷ কেন এতগুলো সন্তান? সেই প্রশ্নে ফলও ভুগতে হয়েছে তাদের৷ দিতে হয়েছে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ৷ সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সন্তানের জন্ম দেওয়ার কারণে এই দম্পতিকে দিতে হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ১ কোটিরও বেশি! সোশ্যাল সাপোর্ট তহবিলে এই টাকা জমা করতে হয়েছে তাঁদের৷ ৩৪ বছর বয়সি মহিলা জাং রংরং এবং তাঁর ৩৯ বছরের স্বামী ৭ সন্তানের অভিভাবক৷ পাঁচ ছেলে এবং ২ মেয়ে রয়েছে তাঁদের৷ চিনে বহু বছর ধরেই ২ সন্তান নীতি রয়েছে৷ ইচ্ছে এবং স্বচ্ছ্বলতা থাকলেও, দুইয়ের বেশি সন্তান রাখতে পারবেন না কোনও দম্পতি৷ সেখানে এদের তো ৭টি সন্তান! ফলে ক্ষতিপূরণ দিতেই হল এদের৷ ক্ষতিপূরণ না দিলে, দুইয়ের বেশি সন্তানের কোনও সরকারি নথি বা পরিচিতি থাকত না৷ ফলে দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের গ্রহণ করা হত না৷ সরকারি পরিচিতি ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব নয়৷ তাই সন্তানদের বাঁচাতে এবং দেশের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতেই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলেন চিনা দম্পতি৷

    চিনের স্কিনকেয়ারে জংজং-এর গহনা এবং পোশাকের ব্যবসা রয়েছে। একাকীত্ব চাননি তিনি ও তাঁর স্বামী৷ ফলে তিনি একাধিক সন্তানের জন্ম দিতে চেয়েছিলেন৷ ব্যবসার কারণে স্বামীও প্রায়ই বাইরে থাকতেন৷ যার ফলে তিনি খুবই অসহায় বোধ করতেন, মাঝেমধ্যে৷ ইতিমধ্যেই বড় সন্তানদের বয়স বেশি হয়েছে এবং তারা পড়াশুনার সূত্রে বাইরে৷ স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করেই চেয়েছিলেন একের বেশি সন্তান৷ মানতে চাননি দেশের নিয়মও৷ এক সংবাদসংস্থার সঙ্গে আলোচনায় এই কথা জানা জংজং৷ এই পরিস্থিতিতে তিনি আরও সন্তান চান৷ তবে দম্পতি জানায় যে সাত সন্তানের পর, আর বাচ্চা চান না তাঁরা৷

    আরও পড়ুন মেয়ের জন্য যা করলেন মা, তা চোখ জুড়িয়ে দিল নেটিজেনদের, আপনিও দেখুন

    তবে শুধু একাকিত্ব কাটাতে সন্তান জন্ম নয়, সন্তানদের ভবিষ্যৎও নিশ্চিত করেন তাঁরা৷ সেভাবেই গড়েছিলেন তাঁদের আর্থিক ক্ষমতা৷ উল্লেখ্য ১৯৭৯-এ এক সন্তান নীতি লাঘু হয় চিনে৷ ৩৬ বছর পর ২০১৫-এ সেই নীতি সরিয়ে ফেলা হলেও, ২ সন্তান অধিক জন্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখেছে চিনা সরকার৷

    ওয়ান চাইল্ড নীতির কারণে, চিনে জন্মের হার কমেছে৷ ২০১২ সালে দেখা গিয়েছে যে প্রতি ১ হাজার জনসংখ্যায় মাত্র ১০টি শিশুর জন্ম হচ্ছে৷ এই হিসেব খুবই ভবিষ্যতের জন্য খুবই বিপজ্জনক৷ কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনে যুব সমাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে, যা কোনও দেশের বিকাশের পক্ষে নেতিবাচক৷ গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরও চিনে এক দম্পতির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়, কারণ এই দম্পতি দুটি শিশু নীতি লঙ্ঘনও করেছিলেন। আদালত এই দম্পতির তৃতীয় সন্তানের জন্য ৪৫ হাজার ডলার অর্থাত্ ৩২ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছিল।

    Published by:Pooja Basu
    First published: