corona virus btn
corona virus btn
Loading

চাকরি থাকলেও, তিন মাসের জন্য স্যালারি অর্ধেক হয়ে গেছে ! দুবাই থেকে লিখছেন বুদ্ধ নাথ

চাকরি থাকলেও, তিন মাসের জন্য স্যালারি অর্ধেক হয়ে গেছে ! দুবাই থেকে লিখছেন বুদ্ধ নাথ

আসামের ছেলে। কর্মসূত্রে এখন দুবাইয়ের বাসিন্দা। ওই দেশে গিয়ে সেরেছেন বিয়ে। পেতেছেন সংসার। কিন্তু তাঁর বাকি পরিবার ভারতেই রয়েছে। হঠাৎ করে লকডাউন হয়ে পড়ায় থমকে গেছে জীবন

  • Share this:

#দুবাই:  চাকরির জন্যই দেশ ছেড়ে দুবাই উড়ে আসা। কেটে গিয়েছে দশ বছরের বেশি সময়। এই দেশই আমায় দিয়েছে আমার ভালবাসা। বিয়ে করে ছোট্ট মেয়ে নিয়ে সব কিছু চলছিল বেশ। কখনও এই দেশ তো কখনও ভারতে পরিবারের সঙ্গে মিলে মিশে কেটে যাচ্ছিল দিন। বছরে এক-দুবার তো যাতায়াত ছিলই। কিন্তু কোথা থেকে যে এই মহামারী করোনা এলো কে জানে ! এক মুহূর্তে সব কিছু কেমন ওলোট-পালোট করে দিয়ে গেল। মাথায় এক রাশ দুশ্চিন্তা ছাড়া এখন আর কিছুই নেই। করোনা হয়তো সত্যিই ছুঁতে পারবে না। চলছে লকডাউন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি কেটে গেলে সব কিছু স্বাভাবিক হবে তো ! চাকরি থাকবে তো ! চাকরি থাকলেও স্যালারি দিতে পারবে তো কোম্পানি গুলো ! সারাক্ষণ এই সব চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরছে।

দুবাইতে সারা বছর প্রচুর ট্যুরিস্ট আসেন। তার উপর নির্ভর করেই অনেক কোম্পানি ব্যবসা করছে। লকডাউন, করোনার জন্য ট্যুরিস্ট আসা তো বন্ধ। ধুকছে কোম্পানি গুলো। এখানে এখনই অনেক কোম্পানি তিন মাসের জন্য হাফ স্যালারি বা অর্ধেক মাইনে দিচ্ছে। কেউ কেউ নো ওয়ার্ক নো পে করে দিয়েছে। কিছু কোম্পানি বাড়ি থেকে কাজ করাচ্ছে। তবে সেই সংখ্যা খুব কম। তাই সব কিছু ঠিক হওয়ার পর এই অর্থনৈতিক মন্দা আদৌ ঠিক হবে কিনা বলা মুশকিল। আমার ছোট বাচ্চা আছে। তার পড়াশুনো। এখানে থাকার খরচা। সব কিছুই এখন দোটানায় ভুগছে ! কেরিয়ার ছেড়ে দেশে ফেরাও এখন সম্ভব না !

তবে এইরকম লকডাউন আমি কখনও এই দেশে দেখিনি ! আসামের ছেলে আমি। ওখানে মাঝে মধ্যেই বন্ধ হতে দেখেছি। কিন্তু দুবাইতে কখনও হয়নি। আমি আমার দশ বছরের কেরিয়ারে দেখিনি। এখানে রাস্তায় এখন লোক নেই। সবাই ঘরে বন্দি। ব্যাঙ্ক আর হসপিটাল খোলা আছে। যেহেতু এই পরিষেবাগুলো খোলা রাখতেই হবে তাই। তবে বাজার খোলা আছে। সবজি বাজার, প্রয়োজনীয় জিনিসের মার্কেট খোলা আছে। কিন্তু বাড়ি থেকে বেরোতে হলে দরকার হচ্ছে পারমিট। দুবাই পুলিশের একটি অ্যাপ রয়েছে। সেখানে অ্যাপ্লাই করতে হচ্ছে, যে কতক্ষণের জন্য কি কারণে বাইরে যেতে চাইছি সেটা লিখে। তারপর ওরা পারমিট দিচ্ছে। এবার সেটার স্ক্রিনশট তুলে রাখতে হচ্ছে। এবার বাজারে গিয়ে ওই পারমিট দেখিয়ে দু ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার জন্য বাজার করে ফিরে আসতে হচ্ছে। মোট কথা পারমিট না দেখাতে পারলেই পুলিশ ধরছে। তাই কেউ খুব দরকার ছাড়া বাইরে যাচ্ছে না। আমি নিজেই আট থেকে ন'দিন হয়ে গেছে বাইরে যাচ্ছি না। যা কিনে রাখা আছে তাই দিয়েই চালাতে হচ্ছে। কারণ এখানে ভারতের মতো পুলিশ বোঝাবে না যে বাড়িতে থাকুন। মোবাইলে এস এম এস পাঠিয়েছে পুলিশ বাড়ি থেকে বেরোবে না, মানে বেরোবে না। ধরা পড়লে অনেক টাকার ফাইন দিতে হচ্ছে। তাই পুরো লকডাউন হচ্ছে। এখন আই ডি আর পারমিট ছাড়া বাড়ি থেকে বেরোলেই বিপদ।

করোনা সামলে উঠবে দুবাই। কিন্তু অর্থনৈতিক বিপর্যয় কতটা সামলাতে পারবে ! সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে ! আর এটাই এখন সব থেকে বড় ভয় ! যা সব সময় ভাবাচ্ছে মানুষকে। দেখা যাক তিন মাস পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায় ! আমরা কেউ জানি না ভবিষ্যৎ কি হতে চলেছে !

Published by: Piya Banerjee
First published: April 17, 2020, 1:22 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर