বিদেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

নাৎজি চক্রান্ত, বিমান দুর্ঘটনা, ক্যানসার, করোনা- মৃত্যুকে বার বার হারিয়ে ১০০ তে পা ব্রিটিশ মহিলার

নাৎজি চক্রান্ত, বিমান দুর্ঘটনা, ক্যানসার, করোনা- মৃত্যুকে বার বার হারিয়ে ১০০ তে পা ব্রিটিশ মহিলার
বার বার মৃত্যুকে হারিয়ে একশো পূরণ জয় অ্যান্ড্রুর৷

১৯২০ সালে লন্ডনে জন্মেছিলেন অ্যান্ড্রু। ওমেন অক্সিলারি এয়ার ফোর্সে সার্জেন্ট হিসেবে যখন যোগ দিয়েছিলেন, তখন তাঁর কৈশোর পেরোয়নি।

  • Share this:

#লন্ডন: নাৎজিরা প্রাণে মারতে চেয়েছিল, বেঁচে গিয়েছেন৷ বিমান দুর্ঘটনা থেকেও বরাতজোরে রক্ষা পেয়েছিলেন৷ এর পর হারিয়েছেন স্তন ক্যানসারকে৷ আর সবশেষে করোনা ভাইরাসকেও পরাজিত করে একশো বছরে পা দিলেন তিনি!

সব প্রতিবন্ধকতাকে পেরিয়ে এ বার ১০০তম জন্মদিন পালন করছেন জয় অ্যান্ড্রু। সম্প্রতি The Guardian-এ জয় অ্যান্ড্রুকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। জানা গিয়েছে, ডিমেনশিয়ায় ভোগা অ্যান্ড্রু মে মাসেই করোনা পজিটিভ হয়েছিলেন। এক সময়ে পরিস্থিতি খুব গুরুতর হয়ে গিয়েছিল। লাইফ কেয়ার ইউনিটে ছিলেন তিনি। কিন্তু সেখান থেকেও ফিরে আসেন। সম্প্রতি, তাঁর এই হার না মানা জীবনযুদ্ধকে সম্মান জানিয়ে ১০০তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন স্বয়ং ইংলন্ডের রানি ।

১৯২০ সালে লন্ডনে জন্মেছিলেন অ্যান্ড্রু। ওমেন অক্সিলারি এয়ার ফোর্সে সার্জেন্ট হিসেবে যখন যোগ দিয়েছিলেন, তখন তাঁর কৈশোর পেরোয়নি। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন। বম্বার কমান্ডের নানা অপারেশন রুমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এই বম্বার কমান্ডই জার্মানির বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরের দিকে ডাসেলডর্ফে পোস্টিং হয় তাঁর। নাৎজি মুভমেন্টের পরিবেশও নিজের মতো করে দানা বাঁধছিল। সেই সময়টায় বার্লিনে যেতে হত অ্যান্ড্রুকে। একদিন গাড়ির চালকই একটি দুর্ঘটনার ছক কষে মারতে চায় অ্যান্ড্রুকে। কিন্তু সে যাত্রায় কোনওক্রমে বেঁচে যান অ্যান্ড্রু। পরে জানা যায়, ওই চালক একজন নাৎজি ছিলেন।

তত দিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে। এর পর ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কর্পোরেশনের বিমান পরিচারিকার কাজে যোগ দেন অ্যান্ড্রু। এক দিন উত্তর আফ্রিকার লিবিয়ার কাছে এক বিমান দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান। মাত্র একজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল সেই দুর্ঘটনায়। বাকিদের উদ্ধার করা হয়েছিল।

RAF-এর স্কোয়াড্রন লিডার ছিলেন অ্যান্ড্রুর স্বামী ডেভিড। ২০১৩ সালে ক্যানসারে মারা যান তিনি। এই মারণ রোগ থেকেও রেহাই পাননি অ্যান্ড্রু। ১৯৭০ সালে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ক্যানসারকে জয় করেন জয়। মেয়ে মাইকেলের কথায়, সম্প্রতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন অ্যান্ড্রু। কিন্তু করোনাও হারাতে পারেনি তাঁকে। একের পর এক সমস্ত কঠিন পরিস্থিতিকে জয় করেছেন তিনি। বারবার ফিরেছেন মৃত্যু মুখ থেকে।

বর্তমানে ইয়র্কের একটি কেয়ার হোমে থাকেন অ্যান্ড্রু। করোনার জেরে দীর্ঘ দিন পরিবারের সঙ্গেও দেখা হয়নি। অতিমািরর মধ্যে মায়ের সঙ্গে দেখা না করতে পারার কথা জানিয়েছেন মেয়ে মাইকেলও।

প্রসঙ্গত দিন কয়েক আগেই অ্যান্ড্রুর মতো কানাডার উইনিফ্রেড মাভিস মাগরও তাঁর ১০০তম জন্মদিন পালন করলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সে রান্নার কাজ করতেন তিনি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্র্যুডোও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উইনিফ্রেডকে।

Published by: Debamoy Ghosh
First published: November 24, 2020, 9:04 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर