ব্রেন ডেড, অঙ্গদানের অপেক্ষা! হঠাৎ জেগে উঠল কিশোর, দেখুন ভিডিও

ব্রেন ডেড, অঙ্গদানের অপেক্ষা! হঠাৎ জেগে উঠল কিশোর, দেখুন ভিডিও

হাসপাতালের মনিটরে কিশোরের নিজে থেকে শ্বাস নেওয়ার ইঙ্গিত৷ Photo- Facebook

সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বোধহয় মিরাকেল ঘটে৷ শুধু সিনেমায় নয়, বাস্তবেও এমনটা হয়েছে৷

  • Share this:

    #লন্ডন: ব্রেন ডেড ঘোষণা করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা৷ অঙ্গদান করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়ে গিয়েছিল৷ ১৮ বছরের কিশোর লুইস রবার্টসের পরিবার কঠিন বাস্তবটাকে মেনেই মন বোঝাতে শুরু করেছিল, ঘরের ছেলে আর ঘরে ফিরবে না৷ কিন্তু সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বোধহয় মিরাকেল ঘটে৷ শুধু সিনেমায় নয়, বাস্তবেও এমনটা হয়েছে৷

    ইংল্যান্ডের স্ট্যাফোর্ডশায়ারের বাসিন্দা ১৮ বছরের লুইস রবার্টস একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছিল৷ নিজে থেকে নিঃশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতাও হারিয়েছিল লুইসের শরীর৷ অনেক চেষ্টার পর চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত তার ব্রেন ডেড হয়েছে বলে ঘোষণা করে৷ এর পর লুইসের অঙ্গদানের প্রস্তুতি শুরু হয়৷ কিন্তু চিকিৎসকদের অবাক করে দিয়ে ফের স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে শুরু করেছে লুইস৷ এমন কি, চোখ মেলেও তাকিয়েছে সে৷

    গত ১৩ মার্চ নিজের শহরেই দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পায় লুইস৷ মেল অনলাইনের খবর অনুযায়ী, তাকে আকাশপথে রয়্যাল স্টোকস ইউনিভার্সিটি হসপিটালে নিয়ে আসা হয়৷ কিন্তু চারদিন বাদে চিকিৎসকরা কিশোরের পরিবারকে জানিয়ে দেন, সব আশা শেষ৷ লুইসের ব্রেন ডেড হয়েছে৷ লুইসকে চিরবিদায় জানানোর জন্য পরিবারের সদস্যদের মানসিক প্রস্তুতি নিতে বলা হয়৷ এর পর চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে লুইসের অঙ্গগুলি আরও সাতজনকে দান করার সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার৷ কিন্তু সেই অঙ্গদানের কয়েক ঘণ্টা আগেই নিজে থেকে নিঃশ্বাস নিতে শুরু করে লুইস৷

    এই অবিশ্বাস্য ঘটনা দেখেই লুইসের পরিবার আশাবাদী, ওই কিশোর ঠিক সুস্থ হয়ে উঠবে৷ কীভাবে লুইস নিজে থেকে শ্বাস নেওয়া শুরু করল, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে লুইসের দিদি জেড রবার্টস একটি আবেগঘন ভিডিও শেয়ার করেছেন ফেসবুকে৷

    জেড লিখেছেন, শেষ বারের মতো লুইসকে বিদায় জানাতে পরিবারের সবার সঙ্গে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি৷ ভাইয়ের হাত ধরে তখনই দিদি বলেন, 'শ্বাস নেও লুইস'! হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছিল, লুইস নিজে থেকে নিঃশ্বাস নিলে শয্যার পাশে মনিটরে একটি খয়রি রঙের রেখা দেখা দেবে৷ কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে অধীর আগ্রহে থাকলেও সেই রেখা দেখতে পাননি লুইসের পরিবারের সদস্যরা৷ নিজের ফেসবুক পোস্টে লুইসের দিদি লিখেছেন, 'মাঝরাতে আমি যখন বললাম লুইস নিঃশ্বাস নেও, মনিটরে একটি খয়রি রেখা দেখালাম৷ মনিটরের মাঝখানে একটি খয়রি রেখা দেখা যাচ্ছে, যার অর্থ লুইস নিজে নিঃশ্বাস নিচ্ছে৷ যখন আমি হাসাপাতালে বললাম যে খয়রি রেখা দেখেছি, আমাকে বলা হল এটা অসম্ভব৷ '

    লুইসের দিদি জানিয়েছেন, হতাশ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরে আসার পরই ফের হাসপাতাল থেকে ফোন আসে৷ লুইসের পরিবারকে জানানো হয়, যে সত্যিই সে নিজে থেকে শ্বাস নিচ্ছে৷ চোখও খুলেছে৷ লুইসের পরিবার তো বটেই, এমন কি চিকিৎসকরদের কাছেও এই ঘটনা অবিশ্বাস্য বলেই মনে হচ্ছে৷ গোটা পৃথিবীতে লুইসই নাকি দ্বিতীয় কোনও রোগী, যার ক্ষেত্রে এমন ঘটল৷ লুইসকে সুস্থ করে তোলার খরচ জোগাড় করতে তহবিল গড়ার জন্য সবার কাছে সাহায্য চেয়েছে তার পরিবার৷ এর পাশাপাশি ওই দুর্ঘটনারও তদন্ত শুরু হয়েছে৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: