একটুর জন্য পৃথিবীর ধার ঘেঁষে বেরিয়ে গেল ২০২১ সালের সব চেয়ে বড় গ্রহাণু, ধাক্কা লাগলে কী হতে পারত?

একটুর জন্য পৃথিবীর ধার ঘেঁষে বেরিয়ে গেল ২০২১ সালের সব চেয়ে বড় গ্রহাণু, ধাক্কা লাগলে কী হতে পারত?

একটুর জন্য পৃথিবীর ধার ঘেঁষে বেরিয়ে গেল ২০২১ সালের সব চেয়ে বড় গ্রহাণু, ধাক্কা লাগলে কী হতে পারত?

ঠিক কী কী বিপদের সম্ভাবনা ছিল? আসুন জেনে নেওয়া যাক!

  • Share this:

#ওয়াশিংটন: ২১ মার্চ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এল বর্তমান সময়ের সব চেয়ে বড় গ্রহাণু। বিজ্ঞানীদের কথায়, এটি সম্ভবত সব চেয়ে বড় ও দ্রুততম গ্রহাণু, যা বিগত ২০০ বছরে পৃথিবীর সব চেয়ে কাছে এসেছে। NASA-র তরফে এই গ্রহাণুর নাম দেওয়া হয়েছে 2001 FO32। তবে ভালোয় ভালোয় সব কিছু পেরিয়ে গিয়েছে। যদি গ্রহাণুটি পৃথিবীর আরও কাছে আসত বা পৃথিবীর উপরে পড়ত, তা হলে বড়সড় ধ্বংসলীলার সম্মুখীন হত আমাদের গ্রহ। ঠিক কী কী বিপদের সম্ভাবনা ছিল? আসুন জেনে নেওয়া যাক!

2001 FO32

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA জানিয়েছে, এটি পৃথিবীর সব চেয়ে কাছে অর্থাৎ প্রায় ২ মিলিয়ন কিলোমিটার বা ১.২৫ মিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থান করেছিল। গ্রহাণুটির ব্যাস ছিল প্রায় ৯০০ মিটার বা ৩ হাজার ফুট। গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার কিলোমিটার বা ৭৭ হাজার মাইল। আর এই রকম তীব্র গতিবেগে বেশিরভাগ গ্রহাণুর সঙ্গেই পৃথিবীর সংঘর্ষের সম্ভাবনা প্রবল। তবে পৃথিবীবাসীর ভাগ্য ভালো ছিল এবারে তা দেখা যাচ্ছে।

সম্ভাব্য বিপদ

পৃথিবীর কাছাকাছি আসা কোনও গ্রহাণু বা ধুমকেতু থেকে একাধিক গবেষণার দরজা খুলে যায়। আসলে এই ধরনের নিয়ার-আর্থ-অবজেক্ট তথা NEO পৃথিবী বা সৌরজগতের উপরে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। সামগ্রিক সৌরজগৎ ও গ্রহমণ্ডলের মাঝে কোনও গ্রহাণু এসে পড়লে বা কোনও গ্রহের সঙ্গে ধাক্কা খেলে বড় বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞানীদের একাংশের কথায়, মহাকাশ থেকে প্রবল গতিতে ছুটে আসা কোনও পাথর খণ্ড সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকে। এক্ষেত্রে পৃথিবীর খুব কাছে আসতে আসতে যদি কখনও পৃথিবীকে সরাসরি ধাক্কা দেয়, তাহলে বড়সড় ধ্বংসলীলা ঘটে যেতে পারে।

NASA-র তরফে জানা গিয়েছে, প্রতি দিন ৮০-১০০ টন পর্যন্ত ক্ষুদ্রাকৃতির গ্রহাণু বা ছোট কণা পৃথিবীর সংস্পর্শে আসে। এদের মধ্যে অনেকগুলি সোজা গিয়ে পৃথিবীর উপরে পড়ে। তবে এতে তেমন কোনও বিপদের সম্ভাবনা নেই। তবে অস্বাভাবিক ভাবে বড় কোনও মহাজাগতিক বস্তু পৃথিবীকে ধাক্কা মারলে যে কোনও সময়ে অঘটন ঘটে যেতে পারে।

তবে, এই ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা খুবই কম। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, দুই শতকে হয় তো একবার এইরকম ঘটনার সাক্ষী থাকে পৃথিবী। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পৃথিবীর খুব কাছ থেকে বেরিয়ে যায় গ্রহাণু বা ধুমকেতু।

উল্লেখ্য, Asteroid 2001 FO32-এর একটি দীর্ঘ ইতিহাসও রয়েছে। আজ থেকে ২০ বছর আগে অর্থাৎ ২০০১ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবার লিঙ্কন নিয়ার আর্থ অ্যাস্টেরয়েড রিসার্চের (Lincoln Near-Earth Asteroid Research) তরফে এই গ্রহাণু আবিষ্কার হয়েছিল। সেই সময়ে জানানো হয়েছিল, প্রতি ৮১০ দিনে নিজ কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে এই গ্রহাণু। নিউ মেক্সিকোর সোকোরোর লিঙ্কন ল্যাবরেটরির এক্সপেরিমেন্টাল টেস্ট সাইটে এই গ্রহাণু আবিষ্কারের যন্ত্রাংশগুলিও এখনও সংরক্ষিত রয়েছে। ২০ বছর পেরিয়ে শেষমেশ পৃথিবীর খুব কাছে এসেছিল গ্রহাণুটি। তবে তেমন কোনও বিপরীত পরিস্থিতি হয়নি। আপাতত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সবাই। হয় তো ফের পৃথিবীর বুকে তাণ্ডব চালাতে ঘুরে আসতে পারে এই গ্রহাণু!

Published by:Ananya Chakraborty
First published: