মৌমাছিদের মস্তিষ্কে কোষের ঘনত্ব সর্বাধিক, তবুও বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে পিছিয়ে এই পতঙ্গ; দাবি গবেষকদের

মৌমাছিদের মস্তিষ্কে কোষের ঘনত্ব সর্বাধিক, তবুও বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে পিছিয়ে এই পতঙ্গ; দাবি গবেষকদের

মৌমাছিদের মস্তিষ্কে কোষের ঘনত্ব সর্বাধিক, তবুও বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে পিছিয়ে এই পতঙ্গ; দাবি গবেষণার!

সম্প্রতি নানা প্রজাতির পিঁপড়ে, মাছি, মৌমাছিদের মস্তিষ্কের মধ্যে একটি তুলনামূলক গবেষণা চালানো হয়। দেখা যায়, মৌমাছির মস্তিষ্কের মধ্যে কোষের ঘনত্ব সর্বাধিক।

  • Share this:

#অ্যারিজোনা: নানা প্রজাতির পিঁপড়ে, মাছি এমনকি ছোট ছোট পাখির থেকেও মৌমাছিদের মস্তিষ্কে কোষের ঘনত্ব অনেক বেশি। তবুও এই প্রজাতির পতঙ্গরা খুব একটা বুদ্ধিমান হয় না। মস্তিষ্কে কোষের ঘনত্ব বেশি হলেও বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে এরা অনেকটাই পিছিয়ে। সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এল এমনই তথ্য। আসুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক!

সম্প্রতি নানা প্রজাতির পিঁপড়ে, মাছি, মৌমাছিদের মস্তিষ্কের মধ্যে একটি তুলনামূলক গবেষণা চালানো হয়। দেখা যায়, মৌমাছির মস্তিষ্কের মধ্যে কোষের ঘনত্ব সর্বাধিক। এমনকি বেশ কয়েকটি ছোট পাখির প্রজাতির থেকেও বেশি। মৌমাছির তুলনায় পিঁপড়ের মস্তিষ্কের নিউরোনের ঘনত্ব অত্যন্ত কম। আর এর জেরে এই ধরনের পতঙ্গের জীবনশৈলীতেও একটি প্রভাব পড়ে। মৌমাছিদের মস্তিষ্কে কোষের এই অধিক ঘনত্ব, তাদের ওড়ার কাজে সাহায্য করে। কারণ ভিজুয়াল ইনফরমেশন, শব্দ, গন্ধ প্রতিটি জিনিসকে দ্রুত নিরীক্ষণ করতে কাজে লাগে এই ধরনের মস্তিষ্ক ও কোষের গঠন। তবে ঘনত্ব দেখে বা বেশি নিউরোনের সংখ্যার উপরে ভিত্তি করে আসল বুদ্ধিমত্তা পরিমাপ করা যায় না। এমনই জানাচ্ছেন গবেষকরা। এক্ষেত্রে কোনও পতঙ্গের কোষের ঘনত্ব কম হলেও, তারা অধিক বুদ্ধিমান হতে পারে। এর সব চেয়ে বড় উদাহরণ হল পাখি। আসলে নিউরোনের সংখ্যা বেশি থাকায় এই ঘনত্ব দেখা যায়। তবে এর উপরে বুদ্ধিমত্তা নির্ভর করে না।

NewScientist-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেই সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Arizona) গবেষক রেবেকা কিটিং গডফ্রের (Rebekah Keating Godfrey) নেতৃত্বে এই গবেষণা চালানো হয়। এক্ষেত্রে মৌমাছি, ভ্রমর, পিঁপড়ে-সহ এই জাতীয় নানা ধরনের প্রায় ৩২ প্রজাতির ৪৫০টি কীট-পতঙ্গের মস্তিষ্ক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তার পর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ওই পতঙ্গগুলির মস্তিষ্কের কোষের সংখ্যা গণণা করা হয়। মস্তিষ্কে কোষের ঘনত্বের ভালো করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। পরে কোষের নিউক্লিয়াসগুলি নিয়েও গভীরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। শেষমেশ এই তথ্য উঠে আসে।

কী বলছে গবেষণার ফল:

সম্পূর্ণ সমীক্ষা ও গবেষণা শেষে দেখা গিয়েছে একাধিক প্রজাতির বেশ কিছু মৌমাছির মস্তিষ্কের মধ্যে কোষের ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি। এই মৌমাছিদের মধ্যে আবার অগোক্লোরেলা (Augochlorella) প্রজাতির মেটালিক গ্রিন সোয়েট মৌমাছির মস্তিষ্কের মধ্যে কোষের ঘনত্ব সর্বাধিক। এর পরিমাণ প্রতি মিলিগ্রামে প্রায় ২ মিলিয়ন। অন্যদিকে নভোমেসর ককরেলি (Novomessor Cockerelli) প্রজাতির এক পিঁপড়ের মাথায় কোষের ঘনত্বের পরিমাণ ৪,০০,০০০ মিলিগ্রাম। এই বিষয়ে গবেষক উলফিলা গ্রোনেনবার্গ (Wulfila Gronenberg) জানিয়েছেন, মস্তিষ্কে কোষের ঘনত্ব থাকলেও তেমন কিছু প্রভাব পড়ে না। কারণ এই কোষের ঘনত্বের সঙ্গে বুদ্ধিমত্তার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং উড়ে বেড়ানোর সময় দেখার ক্ষেত্রে সাহায্য করে এই বিষয়টি। দৃষ্টিশক্তি আরও তীক্ষ্ণ করতে সাহায্য করে এই কোষের ঘনত্ব।

Written By: Sovan Chanda

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published: