Bangladesh Fire: বাংলাদেশের অভিশপ্ত কারখানায় নতুন করে মিলল না দেহ, ঢাকায় মর্গের বাইরে হাহাকার

বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রিয়জনকে হারিয়ে হাহাকার৷

এ দিন কারখানার পঞ্চম এবং ষষ্ঠ তলে তল্লাশি শেষ করে উদ্ধারকারী দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, আর কোনও মৃতদেহের খোঁজ মেলেনি (Bangladesh Fire)৷

  • Share this:

    #ঢাকা: 'আমাদের কারখানায় আগুন লেগেছে৷ কেউ বেরোতে পারছি না৷ আমি যদি কোনও ভুল ত্রুটি করে থাকি, মাফ করে দিস৷' বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ছোট ভাইকে ফোন করে কোনওক্রমে এই কথাগুলো বলতে পেরেছিলেন ২৭ বছর বয়সি মহম্মদ আলি৷ সেই শেষ৷ বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার অভিশপ্ত জুস কারখানায় সিনিয়র অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন মহম্মদ আলি৷

    দাদার ফোন পেয়ে ভাই যখন কারখানার সামনে পৌঁছন, ততক্ষণে ছ' তলার গোটা বহুতলটিকে গ্রাস করেছে বিধ্বংসী আগুন৷ মহম্মদ আলির মতো অনেকেই সেই আগুনের গ্রাস থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেননি৷ জীবন্ত দগ্ধ হয়ে অন্তত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে ৷

    তবে এ দিন কারখানার পঞ্চম এবং ষষ্ঠ তলে তল্লাশি শেষ করে উদ্ধারকারী দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, আর কোনও মৃতদেহের খোঁজ মেলেনি৷ যদিও যে দেহগুলি উদ্ধার হয়েছে, তার মধ্যে অধিকাংশই শনাক্ত করার মতো অবস্থায় নেই৷ ফলে ডিএনএ পরীক্ষাই একমাত্র উপায়৷ মহম্মদ আলির মতো নিখোঁজ কর্মী এবং শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের হাহাকার বাড়ছে  হাসপাতালের মর্গের বাইরে৷ প্রবল ক্ষোভ থেকেই উদ্ধারকাজ চলাকালীন কারখানার বাইরে থাকা বেশ কিছু যানবাহনেও ভাঙচুর চালান নিখোঁজদের পরিজনেরা৷ যার জেরে ব্যাহত হয় উদ্ধারকাজ৷

    ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ প্রিয়জনের খোঁজ পাওয়ার আশায় সেখানেই এখন ভিড় করছেন নিখোঁজ কর্মী ও শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা৷

    এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই শেখ হাসিনা সরকারকে দায়ী করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি৷ এই ঘটনার দায় সরকার এড়াতে পারে না বলেই দাবি তাদের৷ করোনা সংক্রমণ রুখতে লকডাউনের বিধিনিষেধের মধ্যেই কেন কারখানা খুলে রাখা হল, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে৷

    অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে বাংলাদেশ সরকারের তরফে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ নিহত এবং আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: