Asteroid Apophis: এবার রক্ষা পেলেও ফাঁড়া কাটেনি, গ্রহাণু অ্যাপোফিজ ডেকে আনছে মহা বিপদ! শঙ্কিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

Asteroid Apophis: এবার রক্ষা পেলেও ফাঁড়া কাটেনি, গ্রহাণু অ্যাপোফিজ ডেকে আনছে মহা বিপদ! শঙ্কিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

এবার রেহাই পেলেও ফাঁড়া কাটেনি, ২০২৯ সালে গ্রহাণু অ্যাপোফিজ কোন বিপদ ডেকে আনছে?

২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল পৃথিবীর বেশ কিছু জায়গা থেকে খালি চোখেই দেখা যাবে এই গ্রহাণুর গতিপ্রকৃতি।

  • Share this:

#ওয়াশিংটন: বিগত শুক্রবারে সে বেরিয়ে গিয়েছে পৃথিবীর পাশ ঘেঁষে। সত্যি কথা বলতে কী, সংবাদের শিরোনামে মাঝে মাঝেই উঠে আসে পৃথিবীর দিকে নানা গ্রহাণু ধেয়ে আসার কথা। সে সব নিয়ে কখনও কখনও আতঙ্কের পরিবেশও তৈরি হয়। সেই সব সম্ভাবনা, বলতে নেই, এখনও পর্যন্ত সত্যি হয়ে দেখা দেয়নি। তা বলে কোনও গ্রহাণু যে পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়বে না, সে কথা জোর দিয়ে বলা যায় না। কাজেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সব সময়েই সতর্ক থেকে গবেষণা চালিয়ে যেতে হয়।

তা, অ্যাপোফিজ (Apophis) নামের এই যে গ্রহাণুটি গত শুক্রবার পৃথিবীর পাশ ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছে, বিজ্ঞানীরা বলছেন যে তার আকার না কি উচ্চতার দিক থেকে পৃথিবীর অন্যতম আশ্চর্য প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের মতোই! সঠিক হিসেবে বললে ১,১২০ ফুট বা ৩৪০ মিটার। মোটামুটি ভাবে তিনটে এবং আরেকটার অর্ধেক ফুটবল মাঠ এই আকারের মধ্যে ধরে যায়। এর থেকেই অনুমান করে নেওয়া সম্ভব যে এই গ্রহাণু পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়লে কতটা ক্ষতির পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে এবারে অ্যাপোফিজ পৃথিবীর কক্ষপথে ১০.৪ মিলিয়ন মাইলের মধ্যে চলে এসেছিল। পৃথিবী থেকে চাঁদের যে দূরত্ব, এটা তার ৪৪ গুণ বেশি বলে সিলমোহর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আর এখান থেকেই তাঁরা সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছেন। বলছেন যে ২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল অ্যাপোফিজ যখন আবার পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করবে, তখন এই দূরত্বটা অনেকটাই কমে যাবে, এসে দাঁড়াবে মাত্র ১৯ হাজার মাইলে। এটা পৃথিবী আর চাঁদের দূরত্বের সমান!

অর্থাৎ, ২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল পৃথিবীর বেশ কিছু জায়গা থেকে খালি চোখেই দেখা যাবে এই গ্রহাণুর গতিপ্রকৃতি। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে সাউদার্ন হেমিস্ফিয়ারে স্পষ্ট প্রত্যক্ষ করা যাবে এই গ্রহাণুকে। প্রথমে তা অস্ট্রেলিয়ার উপর দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে চলে যাবে আলো ছড়াতে ছড়াতে। এর পর অ্যাপোফিজ পেরিয়ে যাবে ভারত মহাসাগর। এর পর ক্রমশ পশ্চিমের দিকে তার যাত্রা অব্যাহত থাকবে। আফ্রিকার উপর দিয়ে সে ইক্যুয়েটর পেরিয়ে যাবে। ন্যাশনাল এয়ারোনটিকস অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ওরফে NASA বলছে যে ২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল মোটামুটি সন্ধ্যে ৬টা নাগাদ এটি আটলান্টিক ওসানের উপরে অবস্থান করবে। তার গতিবেগ ভালোই হবে, সাগর পেরিয়ে যেতে সে সময় নেবে বড় জোর ঘণ্টাখানেক।

আর এই যাত্রাপথে সে মুখোমুখি হতে পারে নানা গ্রহাণু এবং স্পেসশিপের, যা পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের অনুমান- এই সময়ে দু'-একটার সঙ্গে সে ধাক্কা খেতেই পারে। পরিণামে বেশ কিছু স্পেসশিপ বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সেই জন্যই এখন থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তবে আশঙ্কার পাশাপাশি অ্যাপোফিজের ফিরে আসা তাঁদের কাছে উল্লাসেরও কারণ হয়েছে। NASA-র ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনার জেট প্রোপলশন ল্যাবরেটরির র‌্যাডার সায়েন্টিস্ট মারিনা ব্রোজোভিক জানিয়েছেন যে অ্যাপোফিজের এই ফিরে আসা বিজ্ঞানের কাছে এক অভূতপূর্ব সুযোগ এনে দিতে চলেছে- এই প্রথম কোনও গ্রহাণুর গতিবিধি অপটিক্যাল এবং র‌্যাডার দুই ধরনের টেলিস্কোপেই পরখ করে দেখা যাবে!

Published by:Shubhagata Dey
First published: