Afghanistan: অস্ত্র হাতে রাস্তায় মহিলারা! তালিবানি শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা

হাতে বন্দুক নিয়ে রণং দেহি মেজাজে উত্তর ও মধ্য আফগানিস্তানের মহিলারা পথে নেমেছেন।

হাতে বন্দুক নিয়ে রণং দেহি মেজাজে উত্তর ও মধ্য আফগানিস্তানের মহিলারা পথে নেমেছেন।

  • Share this:

#আফগানিস্তান: আফগানিস্তানে এবার তালিবানি (Taliban) শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন মহিলারা। হাতে বন্দুক ও উন্নতমানের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রণং দেহি মেজাজে উত্তর ও মধ্য আফগানিস্তানের পথে নেমেছেন মহিলারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয়েছে সেই ছবি। TheGurdian.com এর রিপোর্ট অনুসারে বলা হয়েছে মহিলাদের সব চেয়ে বড় বিক্ষোভটি হয়েছে সে দেশের কেন্দ্রীয় ঘোর (Ghor) এলাকায়। মহিলাদের মুখে শোনা গিয়েছে তালিবান বিরোধী স্লোগান।

সে দেশের সামাজিক সংস্কার ও পিছিয়ে পড়া মনোভাবের কারণে এখনই কোনও বড় বিদ্রোহের সম্ভাবনা নেই, তবে তালিবানদের বিরুদ্ধে মহিলাদের বিন্দু বিন্দু জমায়েত ভবিষ্যতে সমুদ্র প্রমাণ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থাকছে। যা তালিবানি মনোভাবকে আঘাত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট।

বিদ্রোহীকারী এক মহিলা পথে নেমে বলেছেন, “আমরা সকলে বড় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। গভর্নরকে আমাদের এই বিদ্রোহী মনোভাবের কথা আগেই জানিয়ে রেখেছি।” আফগানিস্তানের গ্রামাঞ্চলগুলিতে তালিবান গোষ্ঠী নিজেদের আধিপত্য ছড়িয়ে ফেলেছে। উত্তরাঞ্চলের বদখশান (Badakhshan) রাজ্যের বহু এলাকা নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে ফেলেছে। যেগুলি ২০ বছর আগেও তালিবান বিরোধী দুর্গ ছিল। তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলিতে ইতিমধ্যে মহিলাদের শিক্ষা, রাস্তাঘাটে চলাফেরা করার স্বাধীনতায় এবং পোশাকের ওপর নানা বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। যে নিয়ম বুদ্ধিমতী মহিলারা একেবারেই মেনে নিতে চাইছেন না।

একটি সমীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে রক্ষণশীল বড় পরিবারের কিছু মহিলা আছেন যাঁরা সমাজে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন, অথচ তাঁদের কথায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। ফলে এই মহিলারাই তালিবান শাসনের প্রতিকূল স্রোতে নিজেদের চালিত করতে চাইছেন। তাঁদেরই মধ্যে এক মহিলা বলেছেন, “আমি শুধু পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু তালিবানি শাসন আমাকে সেটা করতে দিচ্ছে না। তাই আমি এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে চাই। আমি অস্ত্র পরিচালনায় একদিনের প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলাম। এই খবর জানাজানি হতেই আমাকে প্রশিক্ষণ শিবিরে যাওয়া থেকে বিরত করা হয়েছে। আমি চাই পুরুষদের মতন বন্দুক হাতে যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হতে। কিন্তু আমাকে তা করতে দেওয়া হয়নি। কারণ, রক্ষণশীল জঙ্গি গোষ্ঠী মহিলাদের মুখোমুখি হওয়াকে অপমান মনে করে”।

প্রসঙ্গত, গত দুই দশক ধরে আফগানিস্তানের সুরক্ষা বাহিনীতে মহিলারা হেলিকপ্টার পাইলট হিসাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে যোগদান করেছেন। তাঁদের পুরুষ সহকর্মীদের থেকে বৈষম্য ও অসহযোগিতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে খবর রয়েছে। তালিবানি এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, “মহিলারা কখনই আমাদের বিরুদ্ধে বন্দুক তুলতে পারেন না, তাঁরা লড়াই করতেও পারবেন না”।

ঘোর অঞ্চলের গভর্নর আবদুল জাহির ফয়জাদার (Abdul Zahir Faizzada) দাবি, যে মহিলারা রাস্তায় নেমে তালিবানদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন, তাঁরা বেশিরভাগই তালিবানদের দখলে থাকা এলাকা থেকে পালিয়ে এসেছেন এবং প্রত্যেকেই তাঁদের পরিবার থেকে আলাদা রয়েছেন।

আফগানিস্তানের সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষ একটা ভালো নয়। ধীরে ধীরে মার্কিন সেনা সরানো হচ্ছে দেশ থেকে। অন্য দিকে, কঠোর তালিবানি আইনে বিধ্বস্ত হচ্ছে দেশটি।

Published by:Suman Majumder
First published: