তৃতীয় লিঙ্গের বিশ্বজয়, মিস ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সে প্রথম ভারতীয় হিসেবে রানার আপের খেতাব আর্চি সিং-এর

তৃতীয় লিঙ্গের বিশ্বজয়, মিস ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সে প্রথম ভারতীয় হিসেবে রানার আপের খেতাব আর্চি সিং-এর

তৃতীয় লিঙ্গের বিশ্বজয়; মিস ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সে প্রথম ভারতীয় হিসেবে রানার আপের খেতাব জিতলেন আর্চি সিং!

সমগ্র বিশ্বের সামনে ভারতীয় ট্রান্স কমিউনিটিকে আরও একবার মাথা তুলে বাঁচার সাহস জোগালেন তিনি।

  • Share this:

#কলম্বিয়া: ট্রান্সজেন্ডার। শব্দটার সঙ্গে এখনও যেন অনেক বৈষম্য জড়িয়ে। তাচ্ছিল্য জড়িয়ে। এখনও এই মানুষজনকে অধিকারের জন্য লড়তে হয়। প্রতি পদে নানা সমালোচনার শিকার হতে হয়। তবে এই সমস্ত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও প্রতিভাকে আটকে রাখা অসম্ভব। ২২ বছরের মডেল আর্চি সিং (Archie Singh) যেন ফের সেটাই প্রমাণ করে দিলেন। প্রথম ভারতীয় ট্রান্স মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের ছাপ রেখে গেলেন। কারণ মিস ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্স ২০২১ (Miss International Trans)-এ দ্বিতীয় রানার আপের খেতাব জিতলেন তিনি।

বলা বাহুল্য, সমগ্র বিশ্বের সামনে ভারতীয় ট্রান্স কমিউনিটিকে আরও একবার মাথা তুলে বাঁচার সাহস জোগালেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন এই হাত রাস্তার মোড়ে মোড়ে শুধুমাত্র তালি বাজিয়ে ভিক্ষা করে না। এই হাতে শুধুই ব্যর্থতা লেখা নেই। পরিশ্রম আর প্রতিভার জেরে এই হাত দিয়েই লেখা যেতে পারে পরিবর্তনের ইতিহাস। আর দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত মিস ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্স ২০২১-এ সেই কাজই করলেন ভারতের আর্চি সিং।

এই বিষয়ে News18-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মডেল আর্চি জানান, অফিসিয়াল পরিচয়পত্রে তিনি একজন মহিলা। তিনি একজন ট্রান্সজেন্ডারও। তবে এ নিয়ে বিস্তর ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। অনেক বৈষম্যের স্বীকার হতে হয়েছে। সমাজের নানা স্তরের মানুষজনের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্যতাই পাননি। তবে শেষমেশ সাফল্য আসে।

এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাড়ি দেওয়া এতটা সহজ ছিল না। আর্চির কথায়, শুরুতেই অর্থাৎ সিলেকশন থেকে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। শেষমেশ কলম্বিয়ার দরজা খুলে যায়। সেখানে গিয়ে আমার মতো বাকি প্রতিযোগীদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। মনে হয়েছিল, এখানে আর প্রতি পদক্ষেপে জাজ করার কেউ নেই। মন খুলে নিজেদের মেলে ধরা যাবে। স্বতস্ফূর্ত ভাবে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরা যাবে।

প্রতিযোগিতা কতটা কঠিন ছিল? আর্চির কথায়, ভালো লাগার পাশাপাশি ভিতরে একটা ভয়ও কাজ করছিল। কারণ এই ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া একটা স্বপ্নের মতো। আর আমার পারফরম্যান্সের সঙ্গে গোটা দেশ, LGBTQ কমিউনিটি ও আমাদের মতো মানুষজনের পরিবারের স্বপ্ন, ভরসা সমস্ত কিছু জড়িয়েছিল।

দিল্লির এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়ে উঠেছেন আর্চি। স্কুলের সময় থেকে বুঝতে পেরেছিলেন, ভিতরে ভিতরে তিনি একজন মহিলা। পরের দিকে বিষয়টা জানাজানি হতে পরিবারও পাশে দাঁড়ায়। ১৭ বছর বয়সে মডেলিংয়ের কেরিয়ার শুরু। একটা নতুন লড়াইও শুরু হয়ে যায়। তিনি জানান, এত বড় একটা প্ল্যাটফর্মে প্রথম পুরস্কার না জিততে পারলেও এই সাফল্য তুলনাহীন। এখানে এসে মনে হয়েছে, গোটা বিশ্ব তাঁর পরিবার। তিনি একা নন, তাঁর মতো বহু মানুষ প্রতি দিন একই সমস্যার সঙ্গে লড়ছেন। তাঁরা সবাই তাঁর পরিবার। তাই এই যাত্রা অনেক কিছু শিখিয়েছে আর্চিকে। অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাই যে কোনও পুরস্কার বা খেতাবের থেকে অনেক বড় প্রাপ্তি এটি!

Written By: Sovan Chanda

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:
0