খননকার্যে পাওয়া গেল ব্রোঞ্জযুগের অক্ষর; পাঠোদ্ধারে খুলতে পারে নতুন দরজা

খননকার্যে পাওয়া গেল ব্রোঞ্জযুগের অক্ষর; পাঠোদ্ধারে খুলতে পারে নতুন দরজা

খননকার্যে পাওয়া গেল ব্রোঞ্জযুগের অক্ষর; পাঠোদ্ধারে খুলতে পারে নতুন দরজা!

নয়া আবিষ্কৃত এই অক্ষরমালা, বর্তমান ও প্রাগৈতিহাসিক অক্ষরমালার মাঝে সেতুর মতো অবস্থান করবে

  • Share this:

    #ইজরায়েল: ইজরায়েলের তেল লাচিস শহরে খননকার্যে পাওয়া গেল নতুন অক্ষরমালা। প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করছেন, এই অক্ষরমালা প্রায় তিন হাজার চারশো বছরেরও পুরনো। খ্রিস্টের জন্মের আগে, পঞ্চদশ শতকে এই অক্ষরমালা ব্যবহার করা হয়েছে এমনই মত প্রত্নতাত্ত্বিকদের। নয়া এই আবিষ্কার যে অক্ষরমালা সম্পর্কিত পাঠে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, নয়া আবিষ্কৃত এই অক্ষরমালা, বর্তমান ও প্রাগৈতিহাসিক অক্ষরমালার মাঝে সেতুর মতো অবস্থান করবে।

    নয়া এই আবিষ্কারের ফলে উচ্ছ্বসিত প্রত্নতাত্ত্বিক ও ভাষাতত্ত্ববিদদের একাংশ। নতুন এই অক্ষরমালা মূলত ব্রোঞ্জ যুগের এবং তা খ্রিস্টের জন্মের আগে আঠারোশো শতকে সিনাই শহরে তৈরি বলে মত একাংশের। যদিও এই অক্ষরমালার সঙ্গে বর্তমানে সাদার্ন লেভান্তের ব্যবহৃত অক্ষরসমূহের যোগসূত্র আবিষ্কার করেছেন ঐতিহাসিকরা। তবে সিনাই শহরে তৈরি এই অক্ষর কী ভাবে লেভান্তে ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে কোনও সুষ্ঠু ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি ঐতিহাসিক অথবা প্রত্নতাত্ত্বিক কারও থেকেই।

    একাংশের ধারণা, সিনাই শহরে তৈরি হলেও কালের নিয়মেই অথবা অন্য কোনও কারণে তা এসে পৌঁছেছিল সাদার্ন লেভান্তে। অষ্ট্রিয়ার 'আ্যাকাডেমি অফ সায়েন্স-এর ড. ফেলিক্স হফমায়ার জানিয়েছেন, 'এই লিপি নিঃসন্দেহে পৃথিবীর ইতিহাসের প্রাচীনতম লিপিগুলির মধ্যে অন্যতম।' হফমায়ার, যিনি এই খননকার্যে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাঁর মতে এই লিপির সঙ্গে মিশরের হায়ারোগ্লিফিক্সের বেশ কিছু মিল রয়েছে। হফমায়ারের মতে, এত দিন পর্যন্ত লেভান্ত শহরের প্রাচীনতম লিপি হিসাবে খ্রিস্টের জন্মের আগে তেরোশো অথবা চোদ্দোশো শতকের লিপিকে গণ্য করা হয়ে এসেছে। যা এই অঞ্চলে সেই সময়কার মিশরীয় কর্তৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এত দিন পর্যন্ত লেভান্তের আদি লিপিকে মূলত মিশরীয়দের অবদান হিসাবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে নয়া এই লিপির আবিষ্কার সম্পূর্ণ অন্য এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

    যে শিলালিপি থেকে খোদাইকৃত ওই অক্ষরমালা আবিষ্কৃত হয়েছে, তা মোট ৪০* ৩৫ মিলিমিটার লম্বা। খণ্ডকৃত এই শিলালিপির ভিতরটা তির্যক ভঙ্গিতে কালো কালি দিয়ে লেখা ও বাইরের অংশটিও কৌণিক ভঙ্গিমায় কালো কালিতেই লেখা হয়েছে। এই অক্ষরমালা মূলত প্রাচ্যের, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে অক্ষরসংক্রান্ত পাঠের ক্ষেত্রে যে ফাঁকা জায়গাটি তৈরি হয়েছে, তা এই অক্ষরমালার হাত ধরেই ঘুচবে এমনটা মনে করছেন অনেকে।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: