শুধু ভয় নয়, আর যা যা কারণে চিৎকার করে মানুষ, বলছে সমীক্ষা!

শুধু ভয় নয়, আর যা যা কারণে চিৎকার করে মানুষ, বলছে সমীক্ষা!

শুধু ভয় নয়, অবাক করা এই সব কারণেও চিৎকার করে মানুষ, বলছে সমীক্ষা!

চিৎকারে ভয়ের পাশাপাশি মিশে থাকতে পারে আনন্দ, উত্তেজনা, পারস্পরিক আকর্ষণ এমনকি তীব্র আগ্রাসন।

  • Share this:

#জুরিখ: স্রেফ ভয় নয়, মানব চিৎকার ভয়ের সঙ্গে একাধিক অনুভূতির দ্যোতনা বহন করে চলে। সম্প্রতি জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের, মনস্তত্ব বিভাগের গবেষণায় উঠে এল এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই গবেষণা জানাচ্ছে, স্রেফ ভয় পেয়ে অথবা নিজের কাছাকাছি ভয়ের কারণ অনুভব করতে পেরেই মানুষজন চিৎকার করে ফেলেন এমনটা নয়। চিৎকারে ভয়ের পাশাপাশি মিশে থাকতে পারে আনন্দ, উত্তেজনা, পারস্পরিক আকর্ষণ এমনকি তীব্র আগ্রাসন।

প্লস বায়োলজি (PlOS BIOLOGY) নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত এই নয়া সমীক্ষায় বলা হয়েছে মানুষের চিৎকার কখনই একমাত্রিক নয়। বরং তাতে মিশে থাকে বেশ কিছু বৈচিত্র্য। নানাবিধ কারণে মানুষ চেঁচিয়ে ওঠে, অনেক সময়ে সে সব কারণগুলি পরস্পরবিরোধী কারণ হিসাবেও কাজ করতে পারে। অর্থাৎ একজন মানুষ যেমন ভয় পেয়ে চিৎকার করতে পারেন, তেমনই তিনি প্রবল আনন্দ পেয়েও চিৎকার করে উঠতে পারেন।

গবেষণায় চিৎকারের কারণ হিসাবে মোট ছয়টি অনুভূতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্যথা, রাগ, ভয়, তৃপ্তি, দুঃখ ও আনন্দ। এর মধ্যে বেশ কিছু অনুভূতি পরস্পরবিরোধী হলেও, সেই অনুভূতির প্রতিক্রিয়া একই রকম হয় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় এও জানানো হয়েছে, মানুষ যদি ভয় অথবা উদ্বেগের বশবর্তী হয়ে চিৎকার করে, তবে মানব মস্তিষ্কের সেই চিৎকারের সঙ্গে তাল মেলাতে খানিক বেশি সময় লাগে। তুলনামূলকভাবে অ-উদ্বেগজনক বা অ-সতর্ক চিৎকারের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক অনেক বেশি সচল ও সপ্রতিভ হিসাবে কাজ করে থাকে।

একথা উল্লেখযোগ্য যে, এই গবেষণা, পূর্ববর্তী সকল গবেষণা অপেক্ষা বেশ কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করে থাকে। পূর্ববর্তী গবেষণাগুলি, চিৎকারের কারণ হিসাবে সতর্কতা বা ভয়'কে মুখ্য ধরেই তাদের সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে থাকে। ফলত মনস্তত্ত্ব ও মানব-মস্তিষ্ক সংক্রান্ত আলোচনা অথবা চর্চায় একটি বড় ফাঁক তৈরি হয়েছিল। এই গবেষণা যে সেই চর্চা বা আলোচনায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে তাই নয়, মানব-মস্তিষ্ক সংক্রান্ত আলোচনায় পূর্ববর্তী ফাঁক ভরাট করতেও বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে।

মানব-মনের উপর বিভিন্ন ধরনের চারটি পরীক্ষা এই গবেষণার ক্ষেত্রে চালানো হয়েছে। এই চারটি পরীক্ষা মূলত তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ, চেতনা ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্রিয়াকলাপের ওপর নির্ভরশীল ছিল। জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের, মনস্তত্ব বিভাগের একটি দল এই গবেষণা চালায়। গবেষণায় নেতৃত্ব দেন, 'শাসা ফ্রুহোলজ (Sascha Fruhholz)।' চিৎকারের প্রতি মানব-মস্তিস্কের সক্রিয়তা ও সচলতা পরীক্ষার জন্য মোট বারোজন মানুষকে বেছে নিয়েছিলেন তাঁরা। এই বারোজন মানুষের ওপর করা পরীক্ষার ফল হিসাবে, সাশা বলেছেন 'মানুষের ফ্রন্টাল, অডিটরি ও লিম্বিক মস্তিষ্কের অংশসমূহ অ-উদ্বগজনক চিৎকারের ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয়তা প্রদান করে থাকে।'

Published by:Pooja Basu
First published:

লেটেস্ট খবর