ঘণ্টাখানেক মরে গিয়ে ফের বেঁচে ওঠে! শিকারিকে বোকা বানাতে ওস্তাদ এই ফড়িংয়ের দল!

ঘণ্টাখানেক মরে গিয়ে ফের বেঁচে ওঠে! শিকারিকে বোকা বানাতে ওস্তাদ এই ফড়িংয়ের দল!

antlion larva fakes their to death for sixty one minutes to protect themselves from predators

প্রকৃতিজগতের দুর্বল প্রাণীদের অনেকেই কিন্তু মানুষের মতো এত অসহায় নয়! গায়ের জোরে তাদের আত্মরক্ষা করা সম্ভব না হলেও রয়েছে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য যা ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত তারা ঠিক প্রাণে বেঁচে যায়।

  • Share this:

#লন্ডন: মানুষের সমাজে যে দুর্বল, তাকে সহজেই অন্যে পর্যুদস্ত করতে পারে। অস্বীকার করার উপায় নেই যে সমাজ অনেক দিক থেকেই নিষ্ঠুর। কিন্তু এই এক নিষ্ঠুরতা লক্ষ্য করা যায় প্রকৃতিজগতেও। কেন না, সেখানে বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য আর খাদকের সম্পর্কটির একেবারে সরাসরি প্রতিফলন চোখে পড়ে। আর ঠিক এই জায়গায় এসেই আশ্চর্য হয়ে যেতে হয়।

প্রকৃতিজগতের দুর্বল প্রাণীদের অনেকেই কিন্তু মানুষের মতো এত অসহায় নয়! গায়ের জোরে তাদের আত্মরক্ষা করা সম্ভব না হলেও রয়েছে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য যা ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত তারা ঠিক প্রাণে বেঁচে যায়। এবার ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিস্টলের স্কুল অফ বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের প্রফেসর নাইজেল আর ফ্র্যাঙ্কস তার এক অভিনব নিদর্শন হাজির করলেন আমাদের সামনে। জানালেন যে অ্যান্টলায়ন নামে এক ধরনের ফড়িং মরে গিয়েও আবার বেঁচে উঠে শিকারির চোখে ধুলো দিতে পারে!

মরে গিয়ে বেঁচে ওঠা, সত্যি বলতে কী, এই মরজগতের নিয়মের মধ্যে পড়ে না। মৃত্যু মানে মৃত্যুই- সেখান থেকে আর কেউ ফিরে আসে না। তাহলে প্রকৃতপক্ষে শিকারিকে কী ভাবে বোকা বানায় এই ফড়িংয়ের দল?সে কথা আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন নাইজেল। তিনি বলছেন যে, আদতে এই ফড়িংরা নিশ্বাস বন্ধ করে অনেকক্ষণ পর্যন্ত পড়ে থাকতে পারে। সেই সময়ের মেয়াদ নেহাত কম নয়- পাক্কা ৬১ মিনিট! যেহেতু শিকারি প্রাণীরা মৃত পশু স্পর্শ করে না, সেই জন্য এই উপায় কাজে লাগিয়ে প্রাণে বেঁচে যায় অ্যান্টলায়নরা! দীর্ঘ সময় তারা মরার মতো পড়ে থাকে, যা দেখতে দেখতে এক সময়ে শিকারি প্রাণীটি বিরক্ত হয়ে ওঠে। তার ধৈর্য চলে যায় এবং একটা সময়ে তার মনে হয় যে শিকারটি আদতে মৃত; ফলে সে স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র শিকারের খোঁজে চলে যায়। পরিণামে, প্রাণে বেঁচে যায় ফড়িংটি, নির্ধারিত সময়ের পর আবার চলাফেরা শুরু করে সে।

তবে এই মরার ভান করার একটা বিপদও আছে! নাইজেলের বক্তব্য- বার বার এই ভাবে আত্মরক্ষা করতে হলে বা ঘন ঘন অনেকক্ষণ মরার মতো পড়ে থাকলে তা এই ফড়িংদের শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, পরিণামে এক সময়ে সত্যিই মরে যেতে পারে তারা! আর এই পদ্ধতি একমাত্র তখনই কাজে আসে, যখন শিকারের প্রাচুর্য রয়েছে। তা না হলে শিকারি প্রাণীটি অন্তত তাদের ধরে দেখতে পিছ-পা হয় না। আর তাতেই মৃত্যু ঘনিয়ে আসে অ্যান্টলায়নের!

antlion larva fakes their to death for sixty one minutes to protect themselves from predators

Published by:Subhapam Saha
First published:
0

লেটেস্ট খবর