অশুভ বিবেচনায় বিতাড়িত হয়েছিল খামার থেকে, ছ'পেয়ে বাছুর অবশেষে পেল শান্তির আশ্রয়!

অশুভ বিবেচনায় বিতাড়িত হয়েছিল খামার থেকে, ছ'পেয়ে বাছুর অবশেষে পেল শান্তির আশ্রয়!

ছ'পেয়ে বাছুরটি

অনেকেই এই অদ্ভুত বাছুরকে কুসংস্কারের বশে খারাপ সংকেত বলে বিবেচনা করেন। খামারের বাকি পশুরাও মিশতে চায় না।

  • Share this:

    #ডাবলিন: বাছুরের পিঠ থেকে নেমে এসেছে দু'টো পা। হাঁটলে সেটাও নড়তে থাকে। কিন্তু সেই পা মাটি পর্যন্ত আসেনি, তাই তার উপরে ভর করে হাঁটা সম্ভব নয়। এক ঝলকে দেখলে মনে হবে পিঠে কিছু একটা রাখা আছে। কিন্তু আদতে এটি তার পা'ই! এখন এই পা নিয়েই শুরু হয় যত সমস্যা। তাকে অদ্ভুত দেখতে, তাই রাখতে চায় না খামারের মালিক। অগত্যা সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমের প্রচেষ্টায় বাছুর পেল ঘর। অদ্ভুত এই বাছুরকেই নিজেদের খামারে জায়গা দিল একটি সংগঠন।

    উত্তর আয়ারল্যান্ডে একটি খামারে কয়েকদিন আগে জন্ম হয় বাছুরটির। যাকে দেখে অবাক হন খামারের মালিক। তিনি বাছুরের ওই অতিরিক্ত পা নিয়ে চিন্তায় পড়েন। অনেকেই এই অদ্ভুত বাছুরকে কুসংস্কারের বশে খারাপ সংকেত বলে বিবেচনা করেন। খামারের বাকি পশুরাও মিশতে চায় না। এই নিয়ে এলাকায় ঝামেলা হোক, তা চাননি ওই ব্যক্তি। ফলে তার ওই পা দু'টি অস্ত্রোপচার করে বাদ দিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। সব ঠিক হয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান, ওই পা দু'টি বাদ দেওয়া যাবে না। কারণ সেটি শিরদাঁড়ার সঙ্গে যুক্ত আছে। বাদ দিলে শিরদাঁড়ায় চোট আসতে পারে।

    পা বাদ দিতে না পারায় এবার বাছুরকে নিয়ে আরও চিন্তায় পড়েন তিনি। ঠিক করেন, ওই খামারে আর রাখবেন না। কিন্তু কোথায় পাঠাবেন? এই ভেবে দত্তক নেওয়ার আবেদন জানান। তিনি Battery Hen Rescue নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

    ওই ব্যক্তি বাছুরের ওই পা দু'টিকে অতিরিক্ত পা বললেও অনেকেই তাকে পরির ডানা অর্থাৎ অ্যাঞ্জেল উইংস বলে আখ্যা দেয়। একই আখ্যা দেয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও। পরে ওই Battery Hen Rescue-ই তাকে উদ্ধার করে।

    https://www.facebook.com/NutHouseHenRescue/posts/3301408009964468

    উদ্ধারের পরেই Battery Hen Rescue-এর তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানানো হয়, বাছুরটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। সে সারা জীবনের মতো আমাদের কাছে সুরক্ষিত রইল। জানা গিয়েছে, নিজেদের কাছে রাখার পর এবার তারা ওই বাছুরের জন্য বাড়ি খুঁজবে। কেউ যদি তাকে দত্তক নেয়, তার চেষ্টা করবে।

    অনেকেই বলছেন, Battery Hen Rescue যদি এই বাছুরকে উদ্ধার না করত, তাহলে কী ভাবে ও বাঁচত জানা নেই। তাই তাকে খুবই বিশেষ এক বাছুর বলে আখ্যা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যত প্রচার শুরু হয়েছে। যাতে তাকে কেউ দত্তক নেয় ও সে শান্তিতে থাকতে পারে।

    সংস্থার তরফে Facebook, Instagram ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালানো হচ্ছে। এই প্রচারে অংশ নিয়েছে সংবাদমাধ্যমও।

    সংস্থার এই পোস্টটি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, তারা প্রচুর মেসেজ পাচ্ছে। অনেকেই বাছুরটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। সকলের মেসেজ পড়ার চেষ্টা চলছে। যদি কাউকে রিপ্লাই না দেওয়া হয়, তাহলে যেন তিনি ভেবে নেন বাছুরটি বাড়ি পেয়ে গিয়েছে!

    গার্গী দাস

    First published:

    লেটেস্ট খবর