Woman in Taliban Regime: খাঁচাবন্দি পশুর মতো কেটেছে ৪০ বছর, নতুন তালিবান কি মহিলাদের কিছুটা ছাড় দেবে?

নতুন তালিবানি জামানায় মুক্তি চান মেয়েরা।

Woman in Taliban Regime:। ৪০ বছরের যুদ্ধ ঘৃণার ইতিহাসে যারা সব থেকে বেশি বিপর্যস্ত, সেই মহিলাদের কতটা ছাড় দিতে চলেছে তালিবান?

  • Share this:

    #কাবুল: রাজক্ষমা, এই শব্দটি অভিধানের রয়েছে কিন্তু আজকের বিশ্বে তার প্রয়োগ প্রায় নেই বললেই চলে। এই পুরনো পরিত্যক্ত শব্দটি উঠে আসছে আফগানিস্তানে তালিবানি আধিপত্য কায়েম হতেই। তালিবানরা বুঝিয়ে দিচ্ছেন তাদের নতুন ইনিংস আগের বারের থেকে অনেকটাই আলাদা।  পান থেকে চুন খসলেই যারা মৃত্যুদণ্ডের বিধান দিত তারাই মঙ্গলবার রাজক্ষমার কথা বলল। মঙ্গলবার তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ একদিকে জানিয়েছেন আফগানিস্তান ইসলামিক আমিরশাহী কোন রক্তপাতে চায় না। অন্যদিকে বলা হয়েছে , যারা পূর্বতন সরকারের সঙ্গে নৈকট্য রেখে কাজ করেছেন, এমনকী যারা পশ্চিমী সেনার হয়ে কাজ করেছেন, তাদের সকলকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে উচ্চতর নেতৃত্বের নির্দেশে।

    তালিবানের বিবৃতিতে আরও দুটি বিশেষ জায়গা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে সমস্ত নাগরিকদের জীবন সম্পত্তি সম্মান রক্ষা করে একটি শান্তির বাতাবরণ তৈরি করতে চায় ইসলামিক এমিরেট। তারা কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে হাত দেবে না। এখান থেকেই প্রশ্নটা আসছে। ৪০ বছরের যুদ্ধ ঘৃণার ইতিহাসে যারা সব থেকে বেশি বিপর্যস্ত, সেই মহিলাদের কতটা ছাড় দিতে চলেছে তালিবান?

    কূটনৈতিক মহলকে কিছুটা চমকে দিয়েই নতুন তালিবান তাদের পূর্বসূরীদের অতি সংরক্ষণশীল ইসলামী চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। কিছুটা হলেও ছাড় দিতে পারে মহিলাদের, এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন তারাই। অতীতে এমন একটা পরিস্থিতি ছিল যখন তালিবানি শাসনাধীন আফগানিস্থানে মহিলারা বাড়ির বারান্দায় পা রাখতে পারতেন না। রেডিও বা টেলিভিশনের কোনও অনুষ্ঠান শুনতে পারতেন না। প্রকাশ্য জমায়েতে অংশ নিতে পারতেন না। শাস্তির মধ্যে ছিল পাথর ছুঁড়ে মারা, অঙ্গচ্ছেদ, প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে দেওয়া।

    কিন্তু বিনা রক্তপাতে ক্ষমতা দখল করা তালিবানরা ২০১১ পূর্ববর্তী কট্টর তালিবানীদের মতো নৃশংস নাও হতে পারে। বিশ্বের গুডবুকে নাম লেখাতে তারা একটি নতুন ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারে যেখানে মহিলারা আগের থেকে কিছুটা বেশি সুযোগ-সুবিধা পাবে।

    মঙ্গলবার তালিবান কালচারাল কমিশনের সদস্য এমানুল্লা সমানগনি সাংবাদিকদের সামনে বলেন, আফগানিস্তানের ৪০ বছর ধরে মহিলারাই সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান চায় না মহিলারা এভাবে কোণঠাসা হতে হোক। তারা মহিলাদের জন্য লেখাপড়া এবং কাজের সুযোগ এনে দেবে। এর মানে এই নয় যে কোনও শরিয়ত বিরোধী কাজ করা হবে। শরিয়ত ও সংস্কৃতিকে মান্যতা দিয়েই প্রশাসনিক স্তরে মহিলাদের উপস্থিতিকে সুনিশ্চিত করা হবে।

    একটা সময় ছিল যখন আফগানিস্তানের রাস্তায় পরিবারের সদস্য ছাড়া বের হতে পারতেন না মহিলারা। এমনকী ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোও নিষেধ ছিল। নতুন তালিবান কিন্তু মুখে উদারতার কথা বলছে। গত কয়েকদিনে নাভিশ্বাস উঠেছে যে মহিলাদের, যারা পল অনুপল মৃত্যুর প্রহর গুনছেন পুরনো স্মৃতিকে সাক্ষী রেখে, তারা কি এই নয়া শাসনে ভয়াবহ অতীতের তুলনায় একটু ভালভাবে বাঁচবেন! উত্তর মিলবে অদূর ভবিষ্যতে।

    Published by:Arka Deb
    First published: