Joe Biden to address on Afghanistan Crisis: আমেরিকার বিশ্বাসঘাতকতার জন্যই সংকটে আফগানিস্তান? চাপে পড়ে মুখ খুলছেন জো বিডেন

আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রবল চাপে জো বিডেন৷

অধিকাংশ বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আফগানিস্তানের বোঝা ঘাড় থেকে নামানো নিয়ে রিপাব্লিকানদের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিল ডেমোক্র্যাটরাও (Joe Biden to address on Afghanistan Crisis)৷

  • Share this:

    #ওয়াশিংটন: আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডো বিডেন৷ মঙ্গলবার ভারতীয় সময় রাত ১.১৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা৷

    মার্কিন সেনা দেশে ফেরা শুরু করতেই আফগানিস্তানের দখল নিয়ে নিয়েছে তালিবানরা৷ আফগানিস্তানের এই পরিস্থিতির জন্য গোটা বিশ্বই আমেরিকার দিকে আঙুল তুলতে শুরু করেছে৷ কুড়ি বছর আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েন করে রাখার পর হঠাৎ আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হোয়াইট হাউস কেন নিল, কেনই বা মার্কিন সেনার সঙ্গে প্রায় দু' দশক থাকার পরেও আফগান সেনা এত দ্রুত তালিবানদের কাছে আত্মসমর্পণ করল, এ রকম নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ শুধু তাই নয়, আমেরিকাকে বিশ্বাসঘাতক বলে অভিযোগ করে অনেকেই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনার ফিরে আসার মধ্যে ৪৮ বছর আগের ভিয়েতনামের ছবি দেখছেন৷ কারণ প্রায় দু' দশক পরে মার্কিন সেনা তড়িঘড়ি দক্ষিণ ভিয়েতনাম ছাড়ার পর এ ভাবেই রাজধানী সায়গনের দখল নিয়ে নিয়েছিল উত্তর ভিয়েতনাম৷

    আফগানিস্তানে তালিবানরা একের পর এক প্রদেশের দখল নিলেও সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরেনি আমেরিকা৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বিডেনও শনিবার একটি লিখিত বিবৃতি দেওয়া ছাড়া বিষয়টি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি৷ বরং ছুটি কাটাতে চলে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷ কিন্তু তালিবানরা কাবুলের দখল নেওয়ার পর বিমানবন্দরে অসহায় আফগানদের দেশ ছাড়ার যে হৃদয় বিদারক ছবি ধরা পড়েছে, তার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷

    এর পরই ছুটি কাটছাঁট করে তড়িঘড়ি ক্যাম্প ডেভিড প্রেসিডেন্সিয়াল রেসিডেন্স থেকে ওয়াশিংটন ফিরছেন জো বিডেন৷ আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে হোয়াইট হাউস থেকে বিবৃতি দেবেন তিনি৷

    আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে এখন দেশের ভিতরে বাইরে যথেষ্টই চাপে জো বিডেন৷ ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে তিনি দেশ শাসনের ভার নেওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন পরিচালনায় স্থিরতা আসবে বলেও ডেমোক্র্যাটদের প্রতিশ্রুতি ছিল৷ কিন্তু আফগানিস্তানের পরিস্থিতি জো বিডেনের শাসন কালের শুরুতেই বড়সড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হয়েছে৷

    আফগানিস্তানের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত অবশ্য বিডেনের পূর্বসূরি ট্রাম্পই নিয়েছিলেন৷ অধিকাংশ বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আফগানিস্তানের বোঝা ঘাড় থেকে নামানো নিয়ে রিপাব্লিকানদের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিল ডেমোক্র্যাটরাও৷ কারণ ৯/১১ হামলার এত বছর পরেও আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েন করে রেখে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্তে সায় ছিল না অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের৷

    তবে বর্তমানে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি দেখে অনেকেই আমেরিকাকেই বিশ্বাসঘাতক বলে অভিযুক্ত করছেন৷ এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের দাবি, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার ছাড়া আমেরিকার সামনে আর কোনও বিকল্প ছিল না৷ আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভানের কথায়, 'আরও একটা দশক সংঘর্ষের মধ্যে কাটানোর জন্য হাজার হাজার বাহিনীকে ঠেলে দেওয়ার পক্ষে ছিলেন না প্রেসিডেন্ট৷ আর সেটাই ছিল একমাত্র বিকল্প৷' এই পরিস্থিতি দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বিডেন কী বলেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: