Kabul compared with Saigon: কাবুলকে দেখে কেন ফিরে আসছে সাইগনের স্মৃতি? ৪৬ বছর পর ফের কাঠগড়ায় আমেরিকা

সাইগনে মার্কিন দূতাবাস থেকে আমেরিকানদের উদ্ধারের ছবি (বাঁদিকে)৷ ৪৬ বছর পর কাবুল বিমানবন্দরেও যেন তারই পুনরাবৃত্তি (ডানদিকে)৷ Phptp-Reuters

৯৭৩ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনাম থেকে কার্যত সব সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আমেরিকা৷ এর ঠিক দু' বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানী সাইগনের দখল নিয়ে নেয় উত্তর ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট সরকার (Kabul compared with Saigon)৷

  • Share this:

    #কলকাতা: ১৯৭৫ থেকে ২০২১৷ মাঝে পেরিয়ে গিয়েছে ৪৬ বছর৷ কিন্তু কাবুল বিমানবন্দর থেকে মার্কিন বায়ুসেনার বিমানের পিছন পিছন দেশ ছাড়তে মরিয়া কয়েকশো আফগানের দৌড়, প্লেনের ডানা ধরে ঝুলে পড়া, এমন কি মাঝ আকাশে বিমানের বাইরে ঝুলতে থাকা মানুষের পড়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সাইগনের স্মৃতি টেনে আনছেন অনেকেই৷ দীর্ঘ সাড়ে চার দশক আগে এভাবেই হঠাৎ দক্ষিণ ভিয়েতনাম ছেড়ে চলে গিয়েছিল মার্কিন সেনা৷ তার পর দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানী সাইগনের দখল নিয়েছিল কমিউনিস্ট শাসিত উত্তর ভিয়েতনাম৷ এর পর গোটা দক্ষিণ ভিয়েতনামের উপরও দখল নিতে বেশি সময় লাগেনি তাদের৷ ঠিক যেভাবে মাজার-ই-শরিফ, কান্দাহারের মতো একের পর এক প্রদেশ, শহরের দখল নিতে নিতে কাবুলও চলে এসেছে তালিবানদের হাতে৷ সেই কারণেই ৪৬ বছরের ব্যবধানে মিলে গিয়েছে সাইগন আর কাবুল৷ আর দু' ক্ষেত্রেই একই ভুল করার অভিযোগে বিদ্ধ আমেরিকা৷

    আরও পড়ুন- অতীতের ভুল আর নয়, তবে আফগানদের পাশে থাকবে আমেরিকা: জো বাইডেন

    ৯/১১ হামলার পর আফগানিস্তানকে তালিবান শাসন মুক্ত করে দীর্ঘ দু' দশকেরও বেশি সময় ধরে সেদেশে আধিপত্য ছিল মার্কিন সেনার৷ একই ভাবে ফরাসিদের বিদায়ের পর কমিউনিস্ট শাসিত উত্তর ভিয়েতনামের আগ্রাসন থেকে দক্ষিণ ভিয়েতনামকে রক্ষা করতে দীর্ঘ ১৯ বছর ঘাঁটি গেড়েছিল মার্কিন বাহিনী৷ কারণ উত্তর ভিয়েতনামের সঙ্গে চিন, সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো অন্যান্য কমিউনিস্ট শাসিত দেশগুলির সমর্থনও ছিল৷ দক্ষিণ ভিয়েতনামকে রক্ষা করতে আফগানিস্তানের থেকে অনেক বেশি সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছিল আমেরিকা৷ তার পরেও ১৭৭৩ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনাম থেকে ধাপে ধাপে প্রায় সমস্ত বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয় আমেরিকা৷ এর দু' বছরের মধ্যেই রাজধানী সাইগন দখল করে নেয় উত্তর ভিয়েতনাম৷ পরে যে শহরের নাম হয় হো চি মিন সিটি৷ ১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল সায়গনের ক্ষমতা দখলের মধ্যে দিয়েই ভিয়েতনাম যুদ্ধেরও পরিসমাপ্তি ঘটেছিল৷

    আরও পড়ুন- নাগরিকদের দেশে ফেরাচ্ছে বায়ুসেনার বিশেষ বিমান, তালিবানি কাবুলে হাহাকার

    ভিয়েতনামের যুদ্ধই প্রথমবার টেলিভিশনে দেখেছিল গোটা বিশ্ব৷ ১৯৫৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে প্রায় আড়াই লক্ষ ভিয়েতনামি সেনার মতো ৫০ হাজার মার্কিন সৈন্যও প্রাণ হারায়৷ ভিয়েতনামে সেনা পাঠিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য সেই সময় দেশের মধ্যেও প্রবল সমালোচিত হয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিনডন বি জনসন৷ ভিয়েতনামে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ সেনা মোতায়েন করেছিল আমেরিকা৷ আফগানিস্তানে ২০১০ আমেরিকা যে সর্বোচ্চ সেনা মোতায়েন করেছিল৷ সেই তুলনাতেও ভিয়েতনামে পাঁচ গুন বেশি সেনা মোতায়েন করেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লিনডন বি জনসন৷

    ৩০ এপ্রিল, ১৯৭৫৷ সাইগনের মার্কিন দূতাবাসের উপরে আমেরিকার হেলিকপ্টার৷ পালানোর জন্য ভিড় মার্কিন নাগরিকদের৷

    এতকিছুর পরেও ১৯৭৩ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনাম থেকে কার্যত সব সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আমেরিকা৷ এর ঠিক দু' বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানী সাইগনের দখল নিয়ে নেয় উত্তর ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট সরকার৷ তার পরের দিন সকালে সংবাদপত্রে গোটা বিশ্ব দেখেছিল, কীভাবে সাইগনের মার্কিন দূতাবাসের ছাদে জড়ো হয়েছেন তখনও সেদেশে থাকা অবশিষ্ট মার্কিন সেনা, আধিকারিক এবং নাগরিকরা৷ যাতে আমেরিকার হেলিকপ্টার এসে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যেতে পারে৷ কাবুলে যেমন বিমানের ডানা, চাকা ধরে আফগানদের ঝুলে পড়ার দৃশ্য চোখে দেখে আঁতকে উঠেছে বিশ্ব, ঠিক একই ভাবে সাইগনেও মার্কিন হেলিকপ্টার ধরে ঝুলে ঝুলে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বহু মানুষ৷

    তৎকালীন মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট হেনরি কিসিংগার দাবি করেছিলেন, সাইগনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এশিয়ার নতুন নীতি তৈরি করবে আমেরিকা৷ সেই সময় মার্কিন নীতির সমালোচনা করেছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধিও৷

    কথায় বলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়৷ নিন্দুকরা বলছেন, আমেরিকা হয়তো সায়গনের পর কাবুলেও সেটাই প্রমাণ করল৷ আর এই নীতির জন্য আফগানিস্তানের পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে আমেরিকার দিকেই অভিযোগের আঙুল উঠছে৷ এমন কি, তালিবান শাসনের ভয়ে ত্রস্ত আফগানদের দেখে আমেরিকাকে বিশ্বাসঘাতক বলেও তোপ দাগছেন অনেকেই৷ মার্কিন সরকারের অবশ্য যুক্তি, এ ছাড়া তাদের কাছে কোনও বিকল্প ছিল না৷ কারণ আফগানিস্তানে সংঘর্ষের মধ্যে দেশের বাহিনীকে ফেলে রাখার পক্ষপাতী নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বিডেন৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: