‘তুমি একা নও’, আত্মহত্যা করতে চাওয়া ৯ বছরের শিশুর পাশে এসে দাঁড়াল প্রিয় তারকারা

‘তুমি একা নও’, আত্মহত্যা করতে চাওয়া ৯ বছরের শিশুর পাশে এসে দাঁড়াল প্রিয় তারকারা

স্কুলে লাগাতার হেনস্থা অর্থাৎ bulliying-এর শিকার হয়ে এতটাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল ৯ বছরের একরত্তি শিশু কোয়াদেন, যে নিজেকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল ৷

  • Share this:

#ব্রিসবেন : এক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী রইল অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল রাগবি লিগ ৷ কেন্দ্রে কোয়াদেন বাইলস ৷ ৯ বছরের ছোট একরত্তি শিশুকে অসহায়তা থেকে মুক্তি দিতে পাশে এসে দাঁড়াল গোটা স্টেডিয়াম ৷ ছোট শিশুটির মুখে হাসি ফোটাতে তাঁকে চিয়ার করতে থাকে হাজার হাজার রাগবি সমর্থক ৷ স্কুলে লাগাতার হেনস্থা অর্থাৎ bulliying-এর শিকার হয়ে এতটাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল ৯ বছরের একরত্তি শিশু কোয়াদেন, যে নিজেকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল ৷ হাউহাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বারবার বলছিল, ‘আমাকে দড়ি দাও, আমি নিজেকে শেষ করে দেব ৷ আমি চাই আমাকে কেউ মেরে ফেলুক ৷’ পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন খোদ কোয়াদেনের মা ৷ মর্মস্পর্শী সেই ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ৷ ‘ হেনস্তা’ যার ইংরাজি শব্দ bulliying একটা ভয়ানক শব্দ ৷ সারা পৃথিবীতে এই জিনিস এতটাই দাপট দেখাচ্ছে তা রোগের আকারে দাঁড়িয়েছে ৷ হেনস্থা বা বুলিয়িং যে একটা শিশুর মনে কতটা ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলতে পারে তার উদাহরণ এই কোয়াদেন ৷  ৯ বছরের সন্তানের মর্মস্পর্শী কান্না এবং বারবার বলা ‘আমি নিজেকে মেরে ফেলতে চাই’ এই কথা বলার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন খোদ কোয়াদেনের মা ৷  গোটা ভিডিওটি ছ ' মিনিটেরও বেশি, কোয়াদেনের মা পুরো পরিস্থিতিটা বর্ণনা করেছেন কীভাবে প্রতিটা জায়গায় তাঁর সন্তানকে হেনস্তা করা হয় ৷ ৯ বছরের ছেলেটির নাম কোয়াদেন ৷ সে আর পাঁচজন ৯ বছরের শিশুর চেয়ে বেশি বেঁটে তাই স্কুলে হোক বা খেলার জায়গায় কেউ তার সঙ্গে মেশে না ৷ ব্রিসবেনের একটি স্কুলে পড়াশুনো করে কোয়াদেন সে আসলে ‘বামন’ ৷ ভিডিওতে দেখা যায় নিজের স্কুলের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় গাড়ির ব্যাকসিটে বসে সে কাঁদছে সে ৷ আর বারবার বলছে আমাকে একটা দড়ি দাও আমি নিজেকে শেষ করে ফেলতে চাই ৷ ’ এই ভিডিও-র একটি অংশে কোয়াদেন জানিয়েছে, ‘ আমি নিজেকে বুকে ছুরি ঢুকিয়ে মেরে ফেলতে চাই , আমি চাই কেউ আমায় মেরে ফেলুক ৷ ’

ইয়ারাকা বেয়লিস নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এই ভিডিওটি লাইভ করা হয়েছিল বুধবার ৷ এরমধ্যেই ১ কোটি ৭০ লক্ষ ভিউ হয়েছে ৷ পাশাপাশি ভিডিওটি শেয়ার হয়েছে ৩ লক্ষেরও বেশি ৷ স্কুলে একটি ঘটনা নিজের চোখে দেখার পর ছেলেটির মা জানিয়েছেন তিন স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রিন্সিপ্যালকে পুরো বিষয়টি জানান ৷ এরপরেই তিনি ঘটনাটি আরও বড়স্তরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ফেসবুক লাইভ করেন ৷ মায়ের পরিষ্কার বার্তা এই বিষয়টি এতটাই মারাত্মক অসুখ তাঁর পরিণতিও মারাত্মক হতে পারে ৷ কোয়াদেনের সেই কাকুতি চোখের পাতা ভিজিয়ে দেয় নেটিজেনদেরও ৷ ছোট শিশুটির মনের জোর বাড়াতে হাত বাড়িয়ে দেন সকলে ৷ শনিবার ন্যাশনাল রাগবি লিগের অল স্টার টিম খুদে কোয়াদেনকে ম্যাচে আসার আমন্ত্রণ জানায় ৷ কোয়াদেন মাঠে এলে তাঁকে শুধু খেলোয়াড়রাই নয়, চিয়ার আপ করতে উঠে দাঁড়ায় গোটা স্টেডিয়ামের হাজার হাজার দর্শক ৷ এত লোকের ভালবাসা পেয়ে অবশেষে হাসি ফোটে ছোট কোয়াদেনের মুখে ৷

First published: February 23, 2020, 10:14 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर