নিজের বিয়েতে নিজেকেই চিনতে পারেননি, সঙ্গী ভেবে অন্য পুরুষের সঙ্গেও কাটিয়েছেন সময়!

নিজের বিয়েতে নিজেকেই চিনতে পারেননি, সঙ্গী ভেবে অন্য পুরুষের সঙ্গেও কাটিয়েছেন সময়!
33 year old woman suffering from face blindness fails to recognise herself in own wedding photos

ডার্বিশায়ারের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী লরেন নিকোল-জোনস ফেস ব্লাইন্ডনেস নামক একটি রোগে আক্রান্ত। একে প্রোসোপ্যাগনোশিয়া (Prosopagnosia)-ও বলা হয়।

  • Share this:

#ইংল্যান্ড: নিজের বিয়ের ফটো। কিন্তু বউয়ের বেশে যাঁকে দেখছেন, তাঁকে চিনতে পারছেন না। পরে ওই ছবিতে নিজের বিয়ের পোশাক অর্থাৎ ওয়েডিং গাউন দেখে বুঝলেন বিয়ের বেশে তিনিই দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তবে, মুখ মনে পড়ছে না। আসলে তিনি নিজের মুখ নিজেই ভুলে যান প্রায়। চিনতে পারেন না বেস্টফ্রেন্ডকেও।

আসলে ডার্বিশায়ারের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী লরেন নিকোল-জোনস ফেস ব্লাইন্ডনেস নামক একটি রোগে আক্রান্ত। একে প্রোসোপ্যাগনোশিয়া (Prosopagnosia)-ও বলা হয়। এই রোগের ফলে তিনি কারও মুখ মনে রাখতে পারেন না। ভুলে যান নিজের মুখও।

Mirror-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লরেন জানাচ্ছেন, লরেন শুধু যে নিজেকে চিনতে পারেননি এমন নয়। কাউকে তিনি চিনতে পারেন না অর্থাৎ মুখ মনে রাখতে পারেন না। যার ফলে বহু বার বহু সমস্যায় ও অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে তাঁকে। এমনও অনেক সময় হয়েছে, কেউ হয় তো তাঁকে নিজেদের ছবি দেখাচ্ছেন, কিন্তু তিনি কাউকেই মুখ দেখে চিনতে পারছেন না। সাক্ষাৎকারে তিনি একটি ঘটনা উল্লেখ করেন। বলেন, একবার গ্যালারি ঘাঁটতে ঘাঁটতে একটি ছবি দেখেন তিনি। তার পরই ভাবতে শুরু করেন, তিনি তো ওই জায়গায় কখনও যাননি। পরে জামা ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক জিনিস দেখে পুরো বিষয়টি বুঝতে পারেন।


আরেকটি ঘটনা শেয়ার করতে গিয়ে লরেন জানান, একমাস আগেই প্রিয় বান্ধবীর বিয়েতে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। কনেযাত্রী হিসেবে আনন্দ করেছিলেন অনেক দিন। কিন্তু একমাস পর তাঁর একটি অনুষ্ঠানে যখন ওই বান্ধবী আসেন এবং আলিঙ্গন করেন, তিনি চিনতে পারেননি। অদ্ভুতভাবে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কে তিনি!

এই রোগের শিকার তিনি হয়েছেন বহু বছর আগে, কিন্তু বুঝতে পারেন ১৯ বছর বয়সে। এই রোগের ফলে একবার তিনি প্রাক্তনকে অন্য ছেলের সঙ্গে গুলিয়ে তাঁর সঙ্গে ৪০ মিনিট সময় কাটিয়েছেন। এই রোগটির জন্য একাধিক সমস্যার সম্মুখীন জীবনে হয়েছেন তিনি। বারবার চিকিৎসকদের কাছে গেলেও লাভ হয়নি। কারণ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই রোগের কোনও চিকিৎসা নেই।

তাহলে কীভাবে এই ম্যানেজ করেন লরেন সব কিছু? সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, এই রোগ যেহেতু সারার নয়, তাই তিনি নিজেকে অন্য ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। মুখ চেনার বদলে তিনি মানুষের অভ্যাস, পোশাক ও কথাবার্তা লক্ষ্য করার চেষ্টা করেন, যাতে একজনের সঙ্গে আরেকজনকে গুলিয়ে না ফেলেন। আর এই সমস্যার জন্য সিনেমা দেখতেও সমস্যা হয় তাঁর। কারণ তিনি কাউকেই চিনতে পারেন না। এর ফলে বর্তমানে সিনেমা দেখা ছেড়ে বই পড়ার দিকে মনোনিবেশ করেছেন তিনি। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন এটি বিরল রোগ। ৫০ জনে একজন আক্রান্ত হন।

First published:

লেটেস্ট খবর