পরপর কন্যা সন্তান হওয়ার অপরাধে গৃহবধূকে খুনের চেষ্টা, শ্বশুরবাড়ি ঘিরে এলাকাবাসীদের বিক্ষোভ– News18 Bengali

পরপর কন্যা সন্তান হওয়ার অপরাধে গৃহবধূকে খুনের চেষ্টা, শ্বশুরবাড়ি ঘিরে এলাকাবাসীদের বিক্ষোভ

পরপর কন্যা সন্তান হওয়ার অপরাধে গৃহবধূকে খুনের চেষ্টা, শ্বশুরবাড়ি ঘিরে এলাকাবাসীদের বিক্ষোভ

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Nov 23, 2017 02:44 PM IST
পরপর কন্যা সন্তান হওয়ার অপরাধে গৃহবধূকে খুনের চেষ্টা, শ্বশুরবাড়ি ঘিরে এলাকাবাসীদের বিক্ষোভ
Representative Image
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Nov 23, 2017 02:44 PM IST

 #দুর্গাপুর : কেন্দ্র এবং রাজ্য, দুই সরকারেরই প্রকল্প আছে "বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও” ও "কন্যাশ্রী ” । অনেকাংশে তা সফল হলেও সর্বত্র যে এর আলো পৌঁছায়নি, তার আবারও প্রমাণ মিলল । শুধুমাত্র কন্যা সন্তান হবার অপরাধে গৃহবধুকে হত্যা করার চেষ্টা, কপালগুণে প্রাণে বাঁচলেন ওই গৃহবধু । অন্ডাল থানার উখড়া কাঁকড়ডাঙ্গার ঘটনা ।

২০১০ সালে ঝাড়খন্ডের গিরিডির রাজধানোয়ার বাসিন্দা সীমাদেবীর সাথে বিয়ে হয়েছিল উখড়ার কাঁকরডাঙ্গার বাসিন্দা ওমপ্রকাশ সাউয়ের । বিয়ের পর প্রথমে একটি পুত্রসন্তান হলেও দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সে মারা যায় । এরপর দুটি কন্যাসন্তান হয় ওই দম্পতির । অভিযোগ, এরপর থেকেই সীমার ওপর অত্যাচার শুরু হয় । প্রায়শই মারধর চলতে থাকে । এর পাশাপাশি বাপের বাড়ি থেকে পণ বাবদ টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হতে থাকে ।

অত্যাচার চরমে ওঠে বুধবার । স্বামী ওমপ্রকাশ, দেওর ছোটু ও শাশুরি যশোদা দেবী ব্যাপক মারধর করে সীমাকে । গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ । সীমা অচৈতন্য হয়ে পড়লে মারা গেছে ভেবে তাকে উখড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় । কিন্তু কপালজোরে বেঁচে যান এই গৃহবধূ ।

বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে এলাকাবাসীরা । খবর দেওয়া হয় উখড়া ফাঁড়ির পুলিশকে । পুলিশ এসে শাশুড়ি যশোদা দেবি ও দেওর ছোটুকে আটক করলেও স্বামী ওমপ্রকাশ পলাতক ।

উখড়া পঞ্চায়েতের সদস্যা সাগরা বিবির অভিযোগ, এর আগেও বাক্সে বন্ধ করে ওই গৃহবধূকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন । সেবারেও সময়মত প্রতিবেশীরা জেনে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যায় সীমা । পঞ্চায়েত সদস্যা নিজে উদ্যোগ নিয়ে বেশ কয়েকবার সীমার স্বামী শাশুড়িকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল বলে জানা গিয়েছে ৷ তাতে কোনও কাজ হয়নি, বরং বেড়েছে অত্যাচারের মাত্রা । খবর দেওয়া হয়েছে সীমার বাপের বাড়ীর লোককে ।

Loading...

গুরুতর অসুস্থ সীমা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেডে শুয়ে শোনালেন তাঁর অত্যাচারের করুন কাহিনী । তবে সব কিছু কে ছাপিয়ে গেল তাঁর করুন আর্তি, " মেয়ে হয়েছে বলে মেরে ফেলবে ” ? ইন্ডিয়া “ডিজিটাল” এর পথে এগোলেও মানসিকতা যে এখন ও প্রাগৈতিহাসিক যুগেই অবস্থান করছে, উখড়ার সীমা তার জলন্ত উদাহরণ ।

First published: 02:44:09 PM Nov 23, 2017
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर