হোম /খবর /হাওড়া /
হারিয়ে ‌যাওয়া তরজা গানের আসর হাওড়ায়! উপভোগ করল আট থেকে আশি

Howrah News: হারিয়ে ‌যাওয়া তরজা গানের আসর হাওড়ায়! উপভোগ করল আট থেকে আশি

X
তরজা [object Object]

Howrah News: গ্রাম বাংলার মানুষের এক সময়ের ভীষণ পছন্দের তরজা গান, কোনও রকমে টিকে রয়েছে সরকারি সহযোগিতায়, লকডাউন আরও কোন ঠাসা করে দিয়েছে শিল্পীদের 

  • Share this:

রাকেশ মাইতি, হাওড়া: গ্রাম বাংলার মানুষের এক সময়ের ভীষণ পছন্দের তরজা গান। কোনও রকমে টিকে রয়েছে সরকারি সহযোগিতায়। বাংলা জুড়ে জেলায় জেলায় তরজা গান, কবি গানের রেওয়াজ ছিল বেশ। সেই সময় এলাকার যে কোনও পুজো বা অনুষ্ঠান মানেই আমন্ত্রণ পেতেন তরজা শিল্পীরা। সে সময় দীর্ঘ অভিজ্ঞ সম্পন্ন শিল্পীও ছিলেন বহু। মঞ্চে দুই শিল্পীর কথা ভাঁজে লড়াই।

সঙ্গে গানের কলি, রসিকতা, সাধারণ জ্ঞান এবং হাস্যকর বিষয়কে নিয়েই কয়েক ঘণ্টা যাবত অনুষ্ঠান হল ‘তরজা লড়াই ‘। সাধারণ নানা বিষয়কে নিয়ে এক শিল্পী অন্য শিল্পীর দিকে কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। এভাবেই একজন একের পর এক প্রশ্ন করবেন। সেই সমস্ত প্রশ্নের যথা যথা উত্তর দেবেন অন্য শিল্পী। দুই শিল্পী একে ওপরের প্রশ্ন উত্তর পর্বের মধ্যেই, দর্শক আসনে থেকেও বহু প্রশ্ন বা প্রস্তাব রাখা হয় শিল্পীদের। সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এবং যুক্তি দিয়ে থাকেন শিল্পীরা। মঞ্চে দুই শিল্পী ছাড়াও থাকেন এক জন ঢোল বাদক এবং একজন কাঁসি বাদক।

শিল্পীদের কথার তালে তালে কাঁসি বা ঢোলের বাজনা বেজে ওঠে। যদিও বর্তমানে তরজা গান মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে, ইলেকট্রিক বাদ্যযন্ত্রও ব্যবহার হচ্ছে। মঞ্চে দর্শকদের সামনে দুই শিল্পীর কথা ও গানের লড়াই চলবে। ঢুলি মঞ্চে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিভিন্ন ভাব ভঙ্গিমায় দর্শকদের মনোরঞ্জন দেবে। এই তরজা গান বা তরজা লড়াই আরও বেশি রসদ যোগাতে দেখা যায়। কলা মূলো উচ্ছে ঝিঙে পটল বিভিন্ন ফল মূল মঞ্চে দড়ি দিয়ে ঝোলানো হয় উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে। সেই সমস্ত ঝোলানো জিনিস দেখে প্রশ্ন-উত্তর শ্লোকে মধ্যে দিয়ে দর্শকদের আনন্দ দিয়ে থাকেন শিল্পীরা।

আরও পড়ুন :  আচমকা ‘বন্ধ হল’ মন্দিরের মনসা মূর্তির চোখ, অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হতে ভিড় পুণ্যার্থীদের

একসময় ছোট থেকে বড় সমস্ত বয়সের মানুষ তরজা লড়াইয়ে বেশ আগ্রহী ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই আগ্রহ নামমাত্র শুধু বয়স্ক মানুষদের কাছে দেখা যায়। বর্তমান সময়ে খুব অল্প সংখ্যক তরজা গান অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে হাওড়া জেলা বা বাংলা জুড়ে। এলাকার বয়স্ক মানুষদের কথায়, আগের মত অভিজ্ঞ তরজা শিল্পী তেমন নেই। ৭১ বছর বয়সী তরজা শিল্পী অষ্টম সরদার জানান, এখন আর তরজা গানের আগের মত চাহিদা নেই। ২-৩ দশক আগে পর্যন্ত প্রচুর তরজা অনুষ্ঠান হতো। তিনি আরও জানান, তরজা শিল্পীও অনেক কমে গেছে।

তরজা শিল্পী গুণধর সাঁতরা জানান, তরজা শিল্পী হতে অনেকটা সময় ও অনেক পরিশ্রম করতে হয়। পুরাণ সম্পর্কে যথা উপযুক্ত জ্ঞান থাকা দরকার। নানা বই পড়তে হয়। দর্শকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য সাধারণ জ্ঞান সঞ্চয় করতে হয় শিল্পীদের। সব মিলিয়ে যে পরিশ্রম করে একজন তরজা শিল্পী হতে হয়। কিন্তু বর্তমানে তরজা গানের সেভাবে চাহিদা নেই। তার ফলেই শিল্পীরা সেভাবে উপার্জন করতে পারে না এখন। এ জন্যই নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের এদিকে খুব বেশি আগ্রহ নেই। দীর্ঘ প্রায় দুই তিন দশক অনেকটাই কম তরজা গানের অনুষ্ঠান।বর্তমান সময় বহু শিশু থেকে যুবকের কাছে এই তরজা গান অদেখা । এ বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান নেই তাদের।

আরও পড়ুন :  বাবা বিজ্ঞানী, মা শিক্ষিকা, আইসিএসই পরীক্ষায় প্রথম হয়ে সম্বিতের আনন্দের ঘোর যেন কাটছেই না

পাঁচলার গঙ্গাধরপুর বারোয়ারী কালী মন্দিরে বাৎসরিক পুজো উপলক্ষে একসময় প্রতি বছর বা এক-দু বছর অন্তর ‘ তরজা গান’ অনুষ্ঠিত হতো। গ্রামের ৮ থেকে ৮০ বয়সের মানুষ সেই তরজা গানের সন্ধায় হাজির হতো মন্দির প্রাঙ্গণে। প্রায় ৩০ বছর পর এবার তরজা গানের আসর বসলো সেখানে। বয়স্ক মানুষজন ছাড়া, কিশোর-কিশোরী, যুবক- যুবতী অনেকের কাছেই এই প্রথম তরজা গানের অভিজ্ঞতা।

Published by:Arpita Roy Chowdhury
First published:

Tags: Howrah, Music