গ্রাম জুড়ে একের পর এক আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ! ভূতুড়ে কাণ্ড না অন্য কিছু ?

গ্রাম জুড়ে একের পর এক আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা !

Siddhartha Sarkar | News18 Bangla
Updated:Oct 12, 2017 12:05 AM IST
গ্রাম জুড়ে একের পর এক আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ! ভূতুড়ে কাণ্ড না অন্য কিছু ?
Photo: News18 Bangla
Siddhartha Sarkar | News18 Bangla
Updated:Oct 12, 2017 12:05 AM IST

#উলুবেড়িয়া: গ্রাম জুড়ে একের পর এক আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ! বাদ যাচ্ছে না শিশু থেকে যুবক কেউই। আক্রান্ত পরিবার ওঝার দারস্থ হলে তার নিদান,ভূতে ধরেছে এই সমস্ত বালক ও যুবকদের ! আর এটা কোনও প্রত্যন্ত গ্রামের ঘটনাও নয় ৷ ঘটনাটি ঘটেছে খোদ উলুবেড়িয়া পুরসভা এলাকার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গঙ্গারামপুরের রানা পাড়ায়।

ঘটনার সূত্রপাত একমাস আগে এলাকায় পরপর মৃত্যু হয় এক বালক-সহ তিন জনের এবং এক কয়েকদিন আগে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় এক গৃহবধুরও। তার পর থেকেই শুরু হয় এই ভুতের উপদ্রব। দিন কয়েক আগে হঠাৎই আক্রান্ত হয় এলাকার এক বালক।

আক্রান্ত বালকের বাবা স্বপন সিং জানান, ছেলেকে এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হলে সেই ওঝা জানান, এলাকায় যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের ভূত ধরেছে ছেলেকে ! স্বপন বাবুর দাবী ওঝার ঝাড়ফুকের পরেই সুস্থও হয়ে যায় তার ছেলে। তেমনিই সোমবার রাতে হঠাৎই বাড়ির ভিতরেই গলায় দড়ি লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে এক যুবক। বাড়ির লোকজন দেখতে পেয়ে কোনওক্রমে রক্ষা করে ওই যুবককে। রাতেই আক্রান্ত যুবকের বাড়ি গিয়ে দেখা যায় হাঁত পা তার বেঁধে রাখা হয়েছে। তার পরেও তাকে ধরে রাখতে হিমসিম খাচ্ছে ছয় থেকে সাত জন যুবক !

এরপর একটি গাড়ি ভাড়া করে এই যুবককে যথারীতি ওঝার কাছে নিয়ে যায় এলাকার যুবকরা। তাদের দাবি তার পর থেকেই সুস্থ রয়েছেন এই যুবক। আক্রান্ত যুবকের মা গীতা রানা জানান, সোমবার রাতে বাড়িতে খেতে বসার পর খাওয়া ছেড়ে বাড়ির বাইরে বাথরুমে যায় তার ছেলে। ফিরে এসে হঠাৎই গলায় দড়ি লাগিয়ে ঝুলে পড়ার চেষ্টা করে। তাকে উদ্ধার করার পরেই ভুল বকতে শুরু করে এবং সেই সময় গায়ের জোর এতটাই বেড়ে যায় যে, এলাকার ছয় সাত জন যুবক মিলেও তাকে ধরে রাখতে পারেনি।

অগত্যা হাত পা বেঁধে রেখে, একটি গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হয় ওঝার কাছে। পাশাপাশি এলাকায় নানারকম অলৌকিক ঘটনা ঘটছে বলে দাবি এলাকার বাসিন্দাদের। এলাকার মানুষের আরও দাবি, সেখানকার একটি নিম গাছ ও একটি আমড়া গাছ থেকেই ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। রাতের বেলা দূর অস্ত দিনের বেলাও এই দুটি গাছ মুখো হচ্ছেন না গ্রামবাসীরা। সন্ধ্যা হলেই এলাকা হয়ে যাচ্ছে শুনশান। খুব প্রয়োজন ছাড়া সচারচর বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন না কেউই। গোটা এলাকা জুড়ে এখন আতঙ্কের ছায়া।

Loading...

vlcsnap-2017-10-10-17h12m58s142

এলাকার এক যুবক মোহন রানার বক্তব্য, সে নিজে ভুতে বিশ্বাস না করলেও এলাকার মানুষ যথেষ্টই আতঙ্কিত। আগে রাত ১২টা পর্যন্ত পাড়ার ক্লাব সরগরম থাকত। চলত এলাকার ছেলেদের চুটিয়ে আড্ডা। কিন্তু এখন ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। সন্ধ্যা হলেই যে যার বাড়ি চলে যাচ্ছে, এলাকা পুরোই শুনশান। তার আরও আবেদন, এলাকায় আসুক বিজ্ঞান মঞ্চের লোকজন এবং সত্য উৎঘাটিত হোক। এলাকার পরিবেশ আবার আগের মত স্বাভাবিক হবে তাহলে ৷

বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্য কালি কৃষ্ণ বসু জানিয়েছেন এই ধরনের ঘটনা নতুন কিছু নয়, এর আগেও এই ধরনের বহু ঘটনা ঘটেছে। অলৌকিক ঘটনা বলে কোনও ঘটনা হয় না। সব কিছুর পিছনেই রয়েছে বিজ্ঞান। এটি গন হিস্টিরিয়ার ঘটনা হতে পারে। তবে এলাকায় গিয়ে সব কিছু খতিয়ে দেখার পরেই সমস্ত বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তিনি আরও জানান আলোচনার পর কয়েকদিনের মধ্যেই এই এলাকায় যাবে বিজ্ঞান মঞ্চের প্রতিনিধি দল।

First published: 05:27:24 PM Oct 10, 2017
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर