নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যের সূক্ষ্ম সীমারেখা মুছে দেবেন না, মুখ্যমন্ত্রীকে বার্তা হাইকোর্টের– News18 Bengali

নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যের সূক্ষ্ম সীমারেখা মুছে দেবেন না, মুখ্যমন্ত্রীকে বার্তা হাইকোর্টের

নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যের সূক্ষ্ম সীমারেখা মুছে দেবেন না, মুখ্যমন্ত্রীকে বার্তা হাইকোর্টের

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Sep 22, 2017 04:27 PM IST
নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যের সূক্ষ্ম সীমারেখা মুছে দেবেন না, মুখ্যমন্ত্রীকে বার্তা হাইকোর্টের
CM Mamata Banerjee
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Sep 22, 2017 04:27 PM IST

#কলকাতা: প্রতিমা বিসর্জন মামলায় বৃহস্পতিবারই রায়দান করেছে কলকাতা হাইকোর্ট ৷ সব দিনই প্রতিমা বিসর্জন করা যাবে বলে জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ রাজ্যের বিজ্ঞপ্তিকে খারিজ না করে মহরমের দিনও বিসর্জনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ ৷ সেক্ষেত্রে বিসর্জনের দিন আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য ভাসান শোভাযাত্রা ও মহরমের শোভাযাত্রার জন্য সেদিন পুলিশকে আলাদা রুট করার নির্দেশ জারি করেছে কোর্ট ৷ রাত ১২টার মধ্যে ঘাটে পৌঁছতে হবে পুজো উদ্যোক্তাদের ৷

মহরমের দিনও দুর্গাপুজোর বিসর্জন হবে। তবে থাকছে কিছু বিধিনিষেধ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাজিয়া ও বিসর্জনের আলাদা রুট করতে হবে। রাত বারোটার মধ্যে পৌঁছতে হবে ঘাটে। বিসর্জন মামলায় অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় কলকতা হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার শুনানির সময় আদালত বর্তমান ইস্যু ছাড়াও রাজ্যের ক্ষমতা সংক্রান্ত একটি বড় প্রশ্ন নিয়েও আলোচনা করে ৷ সরকার কি অনুমানের ভিত্তিতে নাগরিকদের উপর অনুমানের ভিত্তিতে অবাধ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ?

কলকাতা হাইকোর্টের একটি বিভাগীয় বেঞ্চ সংবিধানের ২৫ ও ২৬ অনুচ্ছেদ পেশ করে, যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি তাদের পছন্দের ধর্ম প্রচার ও ধর্মীয় আচরণের নিশ্চয়তা দেয়। আদালতে তাতে প্রশ্ন ওঠে, যে বর্তমান নিষেধাজ্ঞাগুলি এই অধিকারগুলির উপর লঙ্ঘন করেছে কিনা।

মামলায় অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তকে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কোনও লোক বা বিক্ষোভ নেই। তার আগেই কি গুলি চালানো ঠিক? রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য ডিভিশন বেঞ্চের। কীসের ভিত্তিতে বিজ্ঞপ্তি? প্রশ্ন করেন বিচারপতিরা।

Loading...

বিসর্জন নির্দেশ নিয়ে রাজ্যকে প্রবল ভর্ৎসনা হাইকোর্টের। কী কারণে বিসর্জন নিষেধাজ্ঞা? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে বিঘ্নিত হবে না তা কী নিশ্চয়তা আছে? রাজ্যের নির্দেশ নিয়ে এমনই প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট।

গন্ডগোল হবে এই অনুমানের ভিত্তিতে রাজ্যের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন উদাহরণ দিয়ে বলেন, আকাশ থেকে কোর্টের মাথায় স্যাটেলাইট ভেঙে পড়বে, এই অনুমানের ভিত্তিতে কি আদালতের সব কাজ বন্ধ করে রাখা হবে ?

এজিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাকেশ তিওয়ারি বলেন, ‘প্রয়োজন ছাড়াই চূড়ান্ত ক্ষমতা ব্যবহার করছে রাজ্য ৷ নিয়ন্ত্রণ করা ও নিষেধাজ্ঞায় পার্থক্য আছে ৷ কোনও লোক বা বিক্ষোভ নেই ৷ তার আগেই কি গুলি চালানো ঠিক? রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি ভিত্তিহীন ৷ কীসের ভিত্তিতে বিজ্ঞপ্তি, স্পষ্ট করুক রাজ্য ৷' অ্যাডভোকেট জেনারেলের পাল্টা মন্তব্য, ‘ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণ শেষপর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা হতে পারে ৷’

দুই বিচারপতিই বারংবার এই বিষয়ে জোর দেন যে ‘নিষেধাজ্ঞা’ ও ‘নিয়ন্ত্রণ’, এই দুইয়ের মধ্যে সুক্ষ্ম হলেও একটি পার্থক্য আছে ৷ রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে কোর্টের পরামর্শ ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে এই সীমারেখা যেন মুছে না দেওয়া হয় ৷ বিশেষ করে যখন এতে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে ৷

এরপরই ফের আদালত প্রশ্ন তোলে, পূর্বের এরকম কোনও ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকেই কি মহরমের দিন বিসর্জন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য? এর উত্তরে মামলাকারী প্রিয়াঙ্কা তিব্রেয়াল বলেন, যতদূর ধারণা এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি ৷ এমনকি মুখ্যমন্ত্রীকে বিসর্জনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আর্জি জানানোর সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের তরফ থেকেও কোনও আপত্তি আসেনি এবং কেউ কোর্টে এই পিটিশনকে চ্যালেঞ্জও জানায়নি ৷ আদালতও জনস্বার্থ মামলাকারীর দ্বিতীয় অংশটিকে গুরুত্ব দিয়ে মহরমের দিন প্রতিমা বিসর্জনের অন্তবর্তী নির্দেশ জারি করেন ৷

এরপর কোর্টের আদেশ মেনে নিয়েই বিসর্জনের প্রস্তুতি শুরু করে রাজ্য সরকার ৷ আদালতের নির্দেশের প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘চাইলে আমার গলা কেটে ফেলতে পারেন কিন্তু আমাকে এটা বলতে পারেন না শান্তি রক্ষা করতে আমার কি করা উচিত ৷ উৎসবে কোনও অশান্তি মেনে নেব না ৷ আমি মানুষের দায়িত্ব নেব ৷ দাঙ্গাকারীদের দায়িত্ব আমার নয় ৷ কেউ দাঙ্গা করলে দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে ৷’

আদালতের নির্দেশ মেনেই বিসর্জন শেষ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন। তারই মধ্যে বিসর্জন ঘিরে শুরু হয়ে গেল পুরোদস্তুর রাজনীতি। হাইকোর্টের রায়কে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ বিরোধীদের । বিসর্জন বিতর্ককে পিছনে ফেলে সুষ্ঠুভাবে উৎসব শেষ করাটাই এখন রাজ্য প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ।

রিপোর্ট- সৌগত মুখোপাধ্যায়

First published: 04:16:52 PM Sep 22, 2017
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर