Football World Cup 2018

শুভ জন্মদিন শ্রেয়া

Rukmini Mazumder | News18 Bangla
Updated:Mar 12, 2018 03:56 PM IST
শুভ জন্মদিন শ্রেয়া
Rukmini Mazumder | News18 Bangla
Updated:Mar 12, 2018 03:56 PM IST

:#কলকাতা: এবছরের জানুয়ারি মাস। কবি শ্রীজাত তাঁর প্রিয় বন্ধু শ্রেয়া ঘোষালকে নিয়ে  একটা লেখা লিখেছিলেন...

''তার আবদার ছিল, রাত যতই হোক না কেন, আড্ডা একটা হতেই হবে। সঙ্গে খাওয়াদাওয়াও থাকবে অবশ্য, কিন্তু কোনওমতেই রেস্তোরাঁয় নয়। গান গাইতে কলকাতায় এলে আমাদের একটা আড্ডা বরাদ্দ থাকেই বরাবর, আর কলকাতায় পা রাখামাত্র সেই আড্ডার যাবতীয় দায়িত্ব সে নিজেই নিয়ে নেয়, আমরা কেবল মর্জিমতো ঘাড় নাড়ি। 

শ্রীজাত'র বাড়িতে গানে আড্ডায় শ্রেয়া, জয় সরকার সেদিন শ্রীজাত'র বাড়িতে গানে আড্ডায় শ্রেয়া, জয় সরকার

এবার পরপর দু’সন্ধে দু’জায়গায় শ্রেয়া’র শো, আমাদেরও নানা কাজে বেশ দৌড়ঝাঁপ যাচ্ছে। সুতরাং ধরেই নিয়েছিলাম যে দেখা হচ্ছে না। কিন্তু তার মর্জি, ছোট করে হলেও, বসতে একবার হবেই। আমাদের বাড়িতে বছর চারেক আগের সেই আড্ডার পর শ্রেয়া’র আর আসা হয়নি, অতএব এ’দফায় সেইটিই হল আড্ডাস্থল। গতকাল আমি, জয় আর দূর্বা হাজির হলাম পার্ক স্ট্রিটে, ওর গান শুনতে। সেখান থেকে বেরিয়ে সোওজা আমাদের বাড়ি। যখন ঢুকছি, রাত তখন সাড়ে দশটা এবং তার আগে টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা একটানা গান গেয়েছে শ্রেয়া। কিন্তু পাঁচতলার সিঁড়ি সব্বার আগে সে-ই লাফিয়ে পার করল, অধৈর্য কাঠবেড়ালির মতোই। তারপর মেঝেয় হাত-পা ছড়িয়ে বসা।

তিন বন্ধু: জয়, শ্রেয়া, শ্রীজাত তিন বন্ধু: জয়, শ্রেয়া, শ্রীজাত

শ্রেয়া’র বাবা, আমাদের বিশ্বজিৎ কাকু বেশ ক্লান্ত ততক্ষণে, তার ওপর ভোরবেলার ফ্লাইট ধরা আছে। আমরা কেউই বেশিক্ষণ আড্ডার জন্যে জোর করতে পারছি না তাই। অথচ শ্রেয়া গোপনে জয়কে বলেই রেখেছিল, ওর গিটারটা সঙ্গে রাখতে। হাসিঠাট্টায় মেতে উঠতে না উঠতেই শুরু হয়ে গেল একের পর এক গান, সঙ্গে জয়ের হাতখোলা বাজনা। আমরা তখন শ্রোতা। মুহূর্তের মধ্যে ঝলমলে মঞ্চের এক শিল্পী আমাদের ছোট্ট বসার ঘরের মেয়ে হয়ে উঠল, যার গলায় তখন খেলে যাচ্ছে একের পর এক মর্জিমতো গান, যেসব সে মঞ্চ থেকে শোনাতে পারে না কখনও। ‘রসম-এ-উলফত কো নিভায়েঁ’ থেকে ‘রঞ্জিশ হি সহি’, বা ‘ঝুকি ঝুকি সি নজর’ থেকে ‘আজ যানে কি জিদ না করো’।

অক্লান্তভাবে হাসিমুখে গান থেকে গানে ছুটে বেড়ানো সেই ছটফটে কাঠবেড়ালিকে দেখে আমি ভাবছিলাম, সারা সন্ধের ওই পরিশ্রমের পর কীভাবে সে নিজের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখল এমন অবাক-করা ঝরনা? আর কীভাবে এত চড়া আলোর বৃত্তের মধ্যে থেকেও সে বুকের নীচে আগলে রাখল ছোট্ট ঘরোয়া রোশনাইয়ের নীচে ব’সে বন্ধুদের ভালবেসে গান গেয়ে চলবার খিদে বা ইচ্ছেটুকু?

২০০১ সালে, স্টুডিও ভাইব্রেশনস-এ গান গাইছেন শ্রেয়া, জয় ২০০১ সালে, স্টুডিও ভাইব্রেশনস-এ গান গাইছেন শ্রেয়া, জয়

আমাদের আড্ডায় সামিল হল মা, মদনমোহন জি’র একনিষ্ঠ অনুরাগী। মধুরানি’র গজল থেকে মধুবন্তী’র বন্দিশ তখন শ্রেয়া’র গলা খুলে ডানা ঝাপটে বেরিয়ে আসছে, যেন কতদিন পর ছাড়া পেল। গানবাজনা হয়তো থামতোই না কাল রাতে, যদি না বিশ্বজিৎ কাকু হেডমাস্টারের ভূমিকা নিতেন। কোনওরকমে রাতের খাওয়া সেরে, শিগগির আবার আড্ডার চাহিদা নিয়ে পালাতে হল শ্রেয়াকে, রওনা দিল জয়ও। ওদের গাড়িতে তুলে দিয়ে আমি আর দূর্বা যখন ফিরলাম বাড়িতে, তখন গলা আর গিটারের গন্ধে ম’ ম’ করছে গোটা ঘর আর বারান্দা। বন্ধুত্বের আলোয় ভেসে যাচ্ছে আমাদের ছোট্ট ছাপোষা ঠিকানা।

পরে মনে হল, তা-ই তো হওয়ার কথা। যাদের বন্ধুত্বে কোনও কাজ জড়িয়ে নেই, নেই কোনও ফল্গু স্বার্থ, এমনকী নিয়মিত দেখাসাক্ষাতের অবকাশও নেই, আছে কেবল মন উজাড় করে গানবাজনা করবার তোলপাড় খিদে, তাদের ভালবাসায় এটুকু আলো আর সুগন্ধ সেলাই করাই থাকে। জানি না ফের কবে জমিয়ে আড্ডা হবে আমাদের, কিন্তু এটুকু জানি, আবার যেদিন হবে, আলোর সেলাইয়ে সুগন্ধের গিঁট পড়বে। আর তৈরি হবে গানবাজনার পোশাক, আমরা যতই বড় হই না কেন, যা কোনওদিন গায়ে ছোট হবে না..."

একজন ওই মাপের সেলিব্রিটি, তাও এমন সাধারণ আটপৌরে জীবন-যাপন... ঠিক যেন পাশের বাড়ির মেয়েটা! এজন্যই বোধহয় এত অবলীলায়, এত সাবলীল ভাবে পৌঁছে যেতে পারেন অগুন্তি শ্রোতার কাছে, মিশে যেতে পারেন তাদের সত্ত্বায়।

আজ সুরের রানীর জন্মদিন। ৩৪-এ পা দিলেন শ্রেয়া। সকাল থেকেই টুইটার উপচে পড়ছে শুভেচ্ছা বার্তায়। শান্তনু মৈত্র,  জয় সরকার, বিশাল  দাদলানি, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, পাপন, সুনিধি চৌহান সহ আরও বহু তারকা শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। বাদ যান না শচীন তেন্ডুলকারও। শচীন-এর টুইট-এ উচ্ছশিত 'ঘুমর' কন্যা..

twitter twitter

First published: 03:53:35 PM Mar 12, 2018
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर