গুজরাতে এবার রেকর্ড ভোট পড়ল NOTA-এ ! উল্টে যেতে পারত ফল

Siddhartha Sarkar | News18 Bangla
Updated:Dec 18, 2017 08:07 PM IST
গুজরাতে এবার রেকর্ড ভোট পড়ল NOTA-এ ! উল্টে যেতে পারত ফল
NOTA
Siddhartha Sarkar | News18 Bangla
Updated:Dec 18, 2017 08:07 PM IST

#আহমেদাবাদ: এক কথায় যাকে বলে চোখে চোখ রেখে লড়াই। সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল বিজেপি। গুজরাতের মহারণে কংগ্রেসের আসল প্রাপ্তি নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর খাস তালুকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করানো। টক্কর যে সেয়ানে সেয়ানে তা আগেই আঁচ করেছিল বিজেপি। নির্ভুল অঙ্ক কষেই রাহুল গান্ধির মুখের গ্রাস ছিনিয়ে নিলেন অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদিরা। তবে এবারের গুজরাতের বিধানসভা নির্বাচনে আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল NOTA ভোট ৷  ১.৮ শতাংশ ভোটার বোতাম টিপেছেন NOTA-এ ৷ যার অনেকাংশেই প্রভাব পড়েছে ভোটের রেজাল্টেও ৷

হিসেব যা বলছে, তাতে প্রায় প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রেই একাধিক মানুষ NOTA-এ ভোট দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে ৷ বিজেপি (৪৯.১%), কংগ্রেস (৪১.৪%) এবং নির্দল (৪.৩%)-এর পরেই চতুর্থ স্থানে রয়েছে NOTA (১.৮ %) ৷ যা বিএসপি (০.৭%) , এনসিপি-র (০.৬% ) মতো অন্যান্য অনেক রাজনৈতিক দলের চেয়ে বেশি !

গুজরাত মডেলকে সামনে রেখে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ক্ষমতায় এসেই সংস্কারের নামে নোটবন্দি, জিএসটি-র মতো একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এর জেরে ঘরে-বাইরে প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হন প্রধানমন্ত্রী। এমনই এক আবহে নিজের গড় গুজরাতে বিধানসভা নির্বাচন হয়। বাইশ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাকে ঠেলে গুজরাটে ক্ষমতা ধরে রাখাই মোদির কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জ কোনওরকমে উতরে গেলেও শক্তিক্ষয় হয়েছে বিজেপির।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কোথায় কিছুটা হলেও এগিয়ে মোদি ?

এবারের গুজরাট ভোটের অন্যতম বড় ইস্যু ছিল নোটবন্দি এবং জিএসটি।

Loading...

নোটবন্দি এবং জিএসটির পর গুজরাতের ব্যবসায়ী মহলে, বিশেষ করে সুরাটে যথেষ্ট ক্ষোভ বাড়ে। বিপদ বুঝে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন মোদি। জিএসটির হার একধাক্কায অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়। মোদির এই পদক্ষেপে কিছুটা হলেও আশ্বস্ত ব্যবসায়ীরা। ভোটের ফলেও সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে। সুরাটে অধিকাংশ আসনেই জয় পেয়েছে বিজেপি। ক্ষোভ থাকলেও শেষপর্যন্ত মোদিতেই আস্থা রেখেছেন তাঁরা।

 জাতপাতের রাজনীতি 

‘গুজরাতে বিকাশ পাগল হয়ে গিয়েছে...’। এই স্লোগানকেই এবার হাতিয়ার করেছিল কংগ্রেস। তারা পাশে পেয়ে যায় তিন তরুণ তুর্কি নেতা হার্দিক প্যাটেল, অলপেশ ঠাকোর এবং জিগনেশ মেবানিকে। বিজেপি-র বাইশ বছরের শাসনে পতিদার, ওবিসি এবং দলিতদের কোনও উন্নয়ন হয়নি। বিজেপির পালটা প্রচার, উন্নয়ন বিরোধী কংগ্রেস। কংগ্রেসের পরিবারতন্ত্রকেও নিরন্তর আক্রমণ করেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা। তবে গ্রামীণ এলাকায় বিজেপির এই কৌশল কাজ দেয়নি। বেশিরভাগ গ্রামীণ আসনেই জয়ী হয়েছে কংগ্রেস।

পাকিস্তান বিরোধিতা 

উন্নয়ন নিয়ে প্রচারে রা না কাড়লেও পাকিস্তান বিরোধিতাকেই শেষলগ্নে ভোটের হাতিয়ার করেন মোদী। গুজরাত নির্বাচনে জিততে পাক-পরামর্শে চক্রান্ত করছে কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে। কংগ্রেস প্রতিবাদে সরব হলেও ভোট ময়দানে তা খুব একটা দাগ কাটেনি।

মণিশঙ্করের 'নীচ' আক্রমণ 

গুজরাতের নির্বাচনে কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করেছেন মণিশংকর আইয়ার। প্রধানমন্ত্রীকে নীচ বলতেই তা লুফে নেন মোদি। ঘরের ছেলে, প্রধানমন্ত্রীকে ‘নীচ’ বলছে কংগ্রেস। মোদির এই আবেগের প্রচারেই হাওয়া অনেকটাই ঘুরে যায়।

First published: 07:59:41 PM Dec 18, 2017
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर