বিনোদন

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

Exclusive: সবার অলক্ষ্যে প্রতি ষষ্ঠীতে উত্তম কুমারের ‘‌দেবীং ‌দুর্গতিহারিণীম্’‌ প্রচারিত হয় রেডিওতে, জানেন কখন?‌

Exclusive: সবার অলক্ষ্যে প্রতি ষষ্ঠীতে উত্তম কুমারের ‘‌দেবীং ‌দুর্গতিহারিণীম্’‌ প্রচারিত হয় রেডিওতে, জানেন কখন?‌

অনুষ্ঠান হিসাবে এটিও কিন্তু চমৎকার। চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ধ্যানেশনারায়ণ চক্রবর্তী, গীত রচনা করেছিলেন শ্যামল গুপ্ত, সুর করেছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। এতে গান গেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে।

  • Share this:

#‌কলকাতা:‌ সেবারে গোলমাল বেঁধেছিল কলকাতা শহরে। একদিকে বাণীকুমার রচিত ‘‌মহিষাসুরমর্দিনী’‌ অন্যদিকে, উত্তমকুমার, বসন্ত চৌধুরীদের ‘‌দেবীং ‌দুর্গতিহারিণীম্‌’‌। ১৯৭৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। সেদিন মহালয়ার ভোরে বেজেছিল ‘দেবীং ‌দুর্গতিহারিণীম্‌’, কিন্তু সে অনুষ্ঠান এককথায় চলেনি। তাই মানুষের চাপে সেবছর পুজোর আগেই, ষষ্ঠীর দিন ফের বাজাতে হয়েছিল‌ ‘‌মহিষাসুরমর্দিনী’। আকাশবাণীতে সেই বছরটা একটা ইতিহাস হয়ে আছে। কিন্তু সেই ইতিহাসের পর থেকেই আকাশবাণীতে একটি প্রথা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সবার অলক্ষ্যে। একদিকে যেমন মহালয়ার দিন বাজানো হয় ‘‌মহিষাসুরমর্দিনী’‌, তেমনই ষষ্ঠীর দিন নিয়মিত বাজানো হয়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, বসন্ত চৌধুরী, উত্তম কুমার, আশা ভোঁসলেদের শৈল্পিক ছোঁয়া সমৃদ্ধ বিতর্কিত ‌‘‌দেবীং ‌দুর্গতিহারিণীম্‌’। হ্যাঁ, এবছরেও সেই ট্র‌্যাডিশন থাকছে।

আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের প্রোগ্রাম হেড সুব্রত মজুমদার জানিয়েছেন, ১৯৭৬ সালে তৈরি হয় ‘‌দেবীং ‌দুর্গতিহারিণীম্‌’‌। ২৩ সেপ্টেম্বর সেবার মহালয়া ছিল। সেইদিন এই অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হয়। কিন্তু এই অনুষ্ঠানটা লোকে নেয়নি, সে কথা সকলেই জানে। মানুষের প্রতিক্রিয়া একটা ইতিহাসে লেখা আছে। তারপর থেকে ওই বিশেষ দিনের বদলে অনুষ্ঠান চলে আসে ষষ্ঠীর দিন। মানে ‘‌দেবীং ‌দুর্গতিহারিণীম্‌’ সম্প্রচারিত হয় ষষ্ঠীর দিন। আর ‌‘‌মহিষাসুরমর্দিনী’‌ যেমন মহালয়ার ভোরে সম্প্রচারিত হচ্ছিল, তেমনই হতে থাকে। আসলে বাঙালির কাছে মহালয়াটা একটা মিথে পরিণত হয়ে গিয়েছে। একদিকে বীরেন বাবুর কণ্ঠস্বর, বাণীকুমার বাবুর লেখা, সব মিলিয়ে দেবীপক্ষের শুরুর দিন আর ‘‌মহিষাসুরমর্দিনী’‌ যেন সমার্থক হয়ে গিয়েছে। সেই ট্র‌্যাডিশন ভেঙেই তখনকার, মানে ১৯৭৬ সালের কয়েকজন স্বনামধন্য, বিখ্যাত মানুষেরা নিজেদের মতো করে চেষ্টা করেছিলেন। আপনি দেখুন না, সরকারি, বেসরকারি সর্বত্র প্রতিবছর এক অনুষ্ঠান হয়, তেমন তো নয়, আলাদা আলাদা অনুষ্ঠান হয়। তেমনই আমাদের এখানেও হয়েছিল। একটা চেষ্টা করেছিলেন কয়েকজন। সেটা ভাল মন্দ বিতর্কের ব্যাপার, কিন্তু চেষ্টা তো করতেই পারেন, তাই না। কিন্তু ‘‌মহিষাসুরমর্দিনী’‌ বাঙালির জীবনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়ে এমন একটা অবস্থা করেছিল, যে বাঙালি নিজের অবস্থান থেকে সরতে পারেনি। বাঙালি ‘‌মহিষাসুরমর্দিনী’‌কেই চেয়েছিল। সেই কারণেই ’‌৭৬ সালে মহালয়া ষষ্ঠীর দিনে সম্প্রচারিত হয়। তারপর ৭৭ সাল থেকে নিয়মটা উল্টো হয়ে গেল। সেই থেকে মহালয়ার দিন সম্প্রচারিত হয় ‘‌মহিষাসুরমর্দিনী’‌, আর ‘‌দেবীং ‌দুর্গতিহারিণীম্‌’ হয় ষষ্ঠীর দিন। সকাল পাঁচটায় এই অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। কোনও বছর বিশেষ কারণে সময় বদলে হয়ত ছ’‌টায় করা হয়। কিন্তু ‘‌দেবীং ‌দুর্গতিহারিণীম্‌’ ’‌৭৭ সাল থেকে নিয়মিত সম্প্রচারিত হয়। লোকে আসলে অনুষ্ঠান বলতে জনপ্রিয় ‘‌মহিষাসুরমর্দিনী’–কেই বোঝেন। তাই হয়ত অনেকেই এখনও এই ‘‌দেবীং ‌দুর্গতিহারিণীম্‌’ অনুষ্ঠানের কথা জানেন না। কিন্তু অনুষ্ঠান হিসাবে এটিও কিন্তু চমৎকার। চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ধ্যানেশনারায়ণ চক্রবর্তী, গীত রচনা করেছিলেন শ্যামল গুপ্ত, সুর করেছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। এতে গান গেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে। বাংলা ভাষায় গ্রন্থনা করেছিলেন উত্তম কুমার ও বসন্ত চৌধুরী। এটি প্রায় ৯০ মিনিটের অনুষ্ঠান।’‌

Arunima Dey and Uddalak Bhattacharya

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: September 17, 2020, 7:43 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर