চেনা মুখেই বিশ্বাস, না নতুনে আস্থা ? ভোট নিয়ে সরগরম টলিপাড়া

চেনা মুখেই বিশ্বাস, না নতুনে আস্থা ? ভোট নিয়ে সরগরম টলিপাড়া

প্রকাশ্যে কেউ একথা বেশিরভাগ আর্টিস্টরা স্বীকার না করলেও প্রার্থী তালিকা দেখেই দুই গোষ্ঠীর লড়াই পরিষ্কার। কোথাও আবার লড়াই ত্রিমুখী।

  • Share this:

#কলকাতা: টলিপাড়ায় মাসের দ্বিতীয় রবিবার মানেই ছুটির হাওয়া। কিন্তু ফেব্রু়য়ারি মাসের দ্বিতীয় রবিবারে হাওয়া গরম। নেপথ্যে আর্টিস্টস ফোরামের কার্যকরী সমিতির নির্বাচন। যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলে সকাল থেকেই নির্বাচনী তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। ১০ টা থেকে ১১.৩০ টা পর্যন্ত বার্ষিক সাধারণ সভা চলার পর বেলা ১২ টা থেকে শুরু হয় নির্বাচন। সাম্প্রতিক কালে টলিপাড়ার কোনও নির্বাচন ঘিরে এমন আয়োজন বা উৎসাহ দেখা যায়নি। সৌজন্যে টালিগঞ্জের রাজনৈতিক মেরুকরণ।

প্রকাশ্যে কেউ একথা বেশিরভাগ আর্টিস্টরা স্বীকার না করলেও প্রার্থী তালিকা দেখেই দুই গোষ্ঠীর লড়াই পরিষ্কার। কোথাও আবার লড়াই ত্রিমুখী।  কার্যকরী সভাপতি পদ থেকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে এই পদ। এই পদেই লড়ছেন চারজন প্রার্থী। তিন হেভিওয়েট প্রার্থী শঙ্কর চক্রবর্তী, ভরত কল এবং অঞ্জনা বসু, যিনি বিজেপির সক্রিয় সদস্য। প্রথম দুজনের রাজনৈতিক মতাদর্শ ও কারোর অজানা নয়। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কিছু অভিনেতাদের বক্তব্য রাজনৈতিক রং আটকাতেই শেষ মুহূর্তে এই তিনজনের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে অপেক্ষাকৃত  আন্ডারডগ পার্থসারথি দেবকে।  যদিও রাজনীতি নয় শিল্পী ও শিল্পের স্বার্থ রক্ষাই প্রত্যেকের লক্ষ্য এমনটাই দাবি করলেন অন্যতম প্রার্থী ভরত কল।

শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার কারণেই অভিমানী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সরে দাঁড়িয়েছেন এমনটা শোনা গেলেও তার দাবি নতুনদের জায়গা দিতেই তার এই সিদ্ধান্ত। আর্টিস্টস ফোরামের প্রথম সদস্য তিনি, প্রথম অফিস ঠিকানাও তার বাড়ির ঠিকানা তাই তিনি সব সময় যে কোনও প্রয়োজনে থাকবেন । রাজনীতির প্রশ্নেও তার সাফ জবাব রাজনীতির রং লাগতে দিইনি, দেবও না। অযথাই রাজনীতির রং লাগানো হচ্ছে।

অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় আবার ভোট দিতে এসে জানিয়ে গেলেন রাজনীতির রং লেগেছে টালিগঞ্জে। তিনি নিজে তার মতো অনেকেই  বিশেষ কোনও রাজনৈতিক দলের মনোভাবাপন্ন ছিলেন কিন্তু এভাবে রাজনৈতিক হয়নি কোনও নির্বাচন। যুগ্ম সম্পাদক পদে আবার ত্রিমুখী লড়াই বামপন্থী মনোভাবাপন্ন শন্তিলাল মুখোপাধ্যায়, শাসক ঘনিষ্ঠ সপ্তর্ষি রায় এবং  ২০১৫ র পুরসভা ভোটে ৯৬ নম্বর ওয়ার্ডের  বিজেপি প্রার্থী অভিনেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায়।  গেরুয়া শাড়ি, গেরুয়া টিপ পড়ে এদিন দেখা গেলেও শর্বরীর দাবি গেরুয়া শান্তি ত্যাগেরও প্রতীক। তারা চান ভোট হোক এবং যোগ্য প্রার্থীরাই জিতুন।

এমনকি ৫ জন  কার্যকরী সদস্য পদের নির্বাচনেও শাসক ঘনিষ্ট জুন মালিয়া, দিগন্ত বাগচীদের সঙ্গে লড়াইয়ে রয়েছেন ভোট সদ্য নাম লেখানো কৌশিক চক্রবর্তী, অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, লামারাও। ২ টি সহকারী সম্পাদক পদের জন্যও বহুমুখী লড়াই। রানা মিত্র, মানালির মতো শাসক ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে তালিকায় রয়েছেন দেবদূত ঘোষ, জ্যাকের সঙ্গে বিজেপির সক্রিয় সদস্য রূপা ভট্টাচার্য।

এছাড়াও সহ সভাপতির নির্বাচনে আবার চতুর্মুখী লড়াই। সুদেষ্ণা রায়, পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, সোহমের সঙ্গে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন জিৎও। এদের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হবে তিনজন বিজয়ীকে। সাধারণ সম্পাদক পদে আবার অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখোমুখি সমরে রাহুল চক্রবর্তী।

সর্বসম্মতি ভাবে সভাপতির পদে এবারও থাকছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। নির্বাচনের প্রার্থী হোক বা ভোটদাতা সবার মতেই শিল্পে রাজনীতির রং লাগা উচিত নয় কিন্তু আদৌ তা কতটা সম্ভব তা নিয়ে সন্দিহান তারাও। চেনা মুখেই বিশ্বাস না নতুনে  আস্থা ? সেই প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে টলিপাড়া।  হয়তো বা শাসক এবং বিরোধীরাও।

DEBAPRIYA DUTTA MAJUMDAR

First published: February 9, 2020, 9:09 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर