বিনোদন

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

কালবৈশাখীতে নস্টালজিক টলিউড তারকারা !

কালবৈশাখীতে নস্টালজিক টলিউড তারকারা !
photo source collected

'আজ মঙ্গলবার জঙ্গল পরিষ্কার করার দিন' আজ মঙ্গলবার বটে, জঙ্গল পরিষ্কার নয়, দুর্যোগের দিন।

  • Share this:

#কলকাতা: ছোটবেলা সহজপাঠের একটা লাইন ছিল, 'আজ মঙ্গলবার জঙ্গল পরিষ্কার করার দিন' আজ মঙ্গলবার বটে, জঙ্গল পরিষ্কার নয়, দুর্যোগের দিন। ভোর রাত থেকেই কেমন যেন গম্ভীর হতে শুরু করেছে প্রকৃতি। রাত কাটিয়ে আলো ফোটার পরিবর্তে যেন আরো অন্ধকার ঘনিয়ে। চারিদিক গুমোট। গাছের পাতা নড়ছে না। যেন ধরিত্রীর ওপর ভীষণ রাগ করেছেন প্রকৃতি। অভিমান হয়েছে তার। তারপর শো শো শব্দে হাওয়া বইতে লাগলো। বিদ্যুৎ চমকানো শুরু হলো। চললো ঝড়ের দাপট। বৈশাখ মাসের কালবৈশাখী।

গ্রীষ্মের দুপুরে অনেকেই আমরা দেখেছি এ ধরনের ঝড়। গ্রীষ্মের সময় গরম থেকে রেহাই পেয়ে আমোদ হয়েছে। কেউ আবার ছাদে উঠে ভিজেছেন। কেউ আম গাছের তলায় কাঁচা আম কুড়িয়েছেন। বৃষ্টি হলেই বাড়িতে চেপে যেতে খিচুড়ির হাঁড়ি। বর্ষা স্পেশ্যাল খাওয়াটুকু বোধহয় রয়েছে। কিন্তু বাকি সবই এখন নষ্টালজিয়া বললেই চলে। নস্টালজিয়ার মেমোরি লেনে স্মৃতির হ্যালোজিন জ্বালিয়ে নিজের ছোটবেলার কথা নিউজ 18 বাংলাকে জানালেন সেলিব্রেটিরা। কেমন ছিল তাঁদের বর্ষা উদযাপন সেই গল্পই বললেন তাঁরা।

নষ্টালজিয়ার সঙ্গে এই ভদ্রলোকের নিবিড় সম্পর্ক, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। স্মৃতির সাগরে প্রায়ই ডুব দিয়ে থাকেন তিনি। অনিন্দ্যর কথা, 'ছোটবেলা উত্তর কলকাতায় কাটিয়েছি। সরু  গলি, তাতে পর পর বাড়ি। তেমন ঝড় দেখা হয়নি। ঝড় উঠল মনে আছে, মা কাকিমারা বলতেন জামাকাপড় ভিজে যাবে ছাদ থেকে জামা-কাপড় নিয়ে আসার জন্য। পরিচারিকারা ছোটাছুটি করতেন। কালবৈশাখী আসে সঙ্গে ঠান্ডা হাওয়া নিয়ে আসে সেটা একটা মজার ব্যাপার, তবে আমার আসল ঝড় দেখা মামার বাড়িতে। সোনারপুর এলাকায়। তখন সোনারপুর গ্রামই। মামার বাড়িতে বড় বাগান ছিল। সেখানে আম গাছ ছিল। ফল কোড়ানো, আম কোড়ানো ওটা একটা ব্যাপার ছিল। মামার বাড়ির ওখানে আমরা একটা গ্যাং ছিলাম,  যারা সাঁতার কাটতাম, কবাডি খেলতাম। ওখানকার ছেলেরা সাইকেল রিকশা চালাতে পারে। পাই পাই করে দৌড়তে পারে। আমি বরং শহরের ছেলে হিসেবে ওখানে পিছিয়ে ছিলাম।' তিনি আরো বললেন, 'শীল পড়লে আমার মনে আছে আমরা সবাই মাথায় গামছা বেঁধে ছাদে গিয়ে নাচতাম।'

সুদীপ্তা চক্রবর্তীর কালবৈশাখীর অনেক স্মৃতি রয়েছে। তিন বোন মিলে ঝড় উঠলে বেশ মজা করতেন। তাঁর কথায়, 'ছোটবেলা কালবৈশাখী ঝড় উঠলে বেশ মজা পেতাম। বোনরা মিলে দৌড়ে দৌড়ে গিয়ে শীল কুড়াতাম। শীল তুলে খেয়ে টেস্ট করেছি। বরফ পড়ছে আকাশ থেকে এ যেন এক আশ্চর্য ব্যাপার। এই সমস্ত পাগলামি করতাম।' খুব ছোটবেলায় সুদীপ্তা ঝড় উঠলে ভয় পেতেন। তবে ঝড়ের পরে বৃষ্টি হবে সে কথা ভেবে মনটা আনন্দে ভরে যেত। বৃষ্টিতে ভিজতে ভীষণ ভালোবাসেন তিনি। বৃষ্টি উদযাপন এখনো বেশ ভালই হয় সুদীপ্তার। বাড়িতে মঙ্গলবার ঝড় ওঠার পর নিজের হাতে খিচুড়ি বানিয়েছেন সুদীপ্তার বর। ছোটবেলা তাঁর বাড়িতে বৃষ্টি হলেই খিচুড়ি রান্না হতো। তার সঙ্গে হত  ইলিশ মাছ ভাজা, বেগুন ভাজা, আরো কত কী। আগের মত এখনকার বাচ্চারা খুব একটা ঝড় বৃষ্টি উপভোগ করে না। ভিডিও গেম, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এসবে মুখ গুঁজে থাকে। এই প্রসঙ্গে সুদীপ্তা বললেন, 'আমার মেয়ে তো বেশ ভালবাসে বৃষ্টি। আসলে দোষটা বাচ্চাদের নয়। ওদের সঙ্গে সবকিছু পরিচয় করাতে হবে, সেটা অভিভাবকের দায়িত্ব। বাচ্চাদের আনন্দটা অনুভব করালে তারা মজা পাবে। বৃষ্টিতে ভিজলে শরীর খারাপ হবে। হাঁচি হবে, কাশি হবে, সারাক্ষণ এমন ভাবলে তো চলবে না।'

অভিনেতা-পরিচালক চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের ঝড়-বৃষ্টি স্মৃতিটা একেবারে অন্য। তাঁর ছোটবেলা কেটেছে কার্শিয়াং-এ। পাহাড়ে বৃষ্টি চেহারা অন্যরকমের। তিনি জানালেন, 'ছোটবেলায় দেখতাম টানা দু'মাস বর্ষাকালে বৃষ্টি হতো। দিনরাত বৃষ্টি চলছে। এরমধ্যে যদি কোনও দিন রোদ ওঠে, তাহলে আমাদের স্কুল ছুটি দিত। সেটাকে বলতো সানশাইন হলিডে।' পুরনো ব্রিটিশ বাংলোর ধাঁচে চূর্ণীর কার্শিয়াং-এর বাড়ি ছিল। টিনের চাল। ঝড়-বৃষ্টির সময় টিনের চালের উপর পাতা ঝরে পড়তো। দুমদাম আওয়াজে বেশ ভয় পেতেন তিনি। এতই ঝড় হত যে টিনের চালটাও যেন মনে হতো উড়ে বেরিয়ে চলে যাবে। চূর্ণী আরও বললেন, 'বড় বড় পাইন গাছে শো শো হওয়ার শব্দ গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো। রাতে কখনও ঝড় বাড়লে শেয়াল-কুকুর ডাকত সবমিলিয়ে গা-ছমছমে একটা ব্যাপার ছিল।' কৌশিক-চূর্ণী দুজনে বৃষ্টি খুব ভালোবাসেন। ঝড় বৃষ্টি হলে জানলার পর্দা সরিয়ে, জানলা, দরজা খুলে বৃষ্টি দেখা তাঁদের বাড়ির চল। ছোট থেকে সেটাই দেখে এসেছেন উজান। মঙ্গলবার সকাল থেকেই উজান তাঁর মাকে বলছেন, 'মা দেখো আজকের ওয়েদারটা কী ভাল।'

বিশ্বনাথ বসুর ছোটবেলা কেটেছে বসিরহাটের ছোট্ট একটা গ্রামে। গ্রামের ঝড়ের অন্য চেহারা। প্রকৃতি আরো সুন্দর। ছোট থেকে ঝড় বৃষ্টি, খুবই উপভোগ করেছে তিনি। বিশ্বনাথ বললেন, 'ছোটবেলা ঝড়ের সময় দেখতাম এই গাছ ওদিকে চলে যাচ্ছে। ওই গাছে এদিকে চলে আসছে। আম পড়ছে। অনেকেই হয়তো ঝামার নাম শুনেছেন। ঝড়ে আমি ঝামা কেও দৌড়াতে দেখেছি।' ছোটবেলা তিনি একটু ভয় পেতেন এই বৃষ্টির দিনে। কিন্তু একটু বড় হতে না হতেই ভয় কোথায় চলে গেল। বরং বৃষ্টি হলে মনটা আনন্দে ভরে যেত। বিশ্বনাথের কথা, 'একটু যখন বড় হলাম, ঝড় বৃষ্টি হলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়তাম। ছোটবেলা আম কুড়াতাম। আম কুড়ানোর মাঝে একটু চুরি ও করতাম। টুক করে কারো কাছ থেকে একটা কাঁঠাল পেরে নিয়ে চলে আসতাম। আর আকাশের পাখিদের দেখতাম। বকেদের দেখতাম। বাড়ি ফিরতে পারছে না তারা। এদিক ওদিক হয়ে যাচ্ছে কালবৈশাখীর সময়।' বিশ্বনাথের বাড়িতে বিশেষ খাওয়া হতো এই সময়ে। বৈশাখ মানেই আম শুরু হয়ে গিয়েছে। আমের ডাল, এচোরের তরকারি। খিচুড়ি হতো। তিনি আরও বললেন, 'আমার বাচ্চারা এসব দেখেনি। তবে ওরা বৃষ্টি খুব ভালো উপভোগ করে। ওদের মায়ের সঙ্গে গিয়ে ছাদে ভেজে।

ARUNIMA DEY 

Published by: Piya Banerjee
First published: April 21, 2020, 11:50 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर