দরকার না হলে বাইরে থেকে কথা বলুন, কলিং বেলে নির্দেশিকা লিখে ঝোলালেন রুদ্রনীল

দরকার না হলে বাইরে থেকে কথা বলুন, কলিং বেলে নির্দেশিকা লিখে ঝোলালেন রুদ্রনীল
  • Share this:

DEBAPRIYA DUTTA MAJUMDAR

#কলকাতা: কোভিড ১৯-এর জেরে গৃহবন্দি রুদ্রনীল ঘোষ। টালিগঞ্জের ফ্ল্যাটে গেলেই চোখে পড়বে দরজার বাইরেই রয়েছে নোটিশ। হাত ঠিক করে স্যানিটাইজ না করে যেন কেউ বেল না বাজান। প্রয়োজন ছাড়া দরজার বাইরে থেকেই যেন কথা বলেন অতিথিরা। নিজেও মাস্ক, গ্লাভস পরে সুরক্ষা বজায় রাখছেন। আর এই হঠাৎ পাওয়া সময়টা ছবি এঁকে, গল্প লিখে, পছন্দের কোনও ওয়েব সিরিজ দেখেই কাটাচ্ছেন অভিনেতা। কখনও আবার নিজের অভিনীত কোনও সিরিজই দেখতে বসে পড়ছেন তিনি।

সচরাচর এতটা সময় পাওয়া যায় না। গৃহবন্দি থাকার জেরে এই সময়টা কাজে লাগাচ্ছেন রুদ্রনীল। অভিনেতা জানালেন, 'আমি অনেক কনসেপ্ট ক্রিয়েট করছি। বোর যে একেবারে হচ্ছি না, সেটা বললে মিথ্যে বলা হয়। তবে প্রাণের ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে বোর হওয়া ভালো। এখন প্রযুক্তির জন্য কত রকম অপশন রয়েছে। গ্রুপ ভিডিও চ্যাট করে নিচ্ছি বন্ধুদের সঙ্গে, আড্ডা মারা হয়ে যাচ্ছে। এভাবেই কাটছে সময়।'

অভিনেতার মতে আমাদের প্রচুর মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করা এটা একটা অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। তাই সেটা কাটাতে একটু অসুবিধা হচ্ছে। রুদ্রনীল মনে করেন, সেল্ফ আইসোলেশন করোনা রুখতে প্রচন্ডভাবে জরুরি। অভিনেতা সকলের কাছে আবেদন করেন, যাতে আমরা জমায়েতে না যাই। ঘন ঘন হাত ধুই। তাহলে এই প্রাণনাশক রোগকে আমরা আটকাতে পারব। জনতা কারফিউর প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন রুদ্র। অভিনেতা আরো বললেন 'এই যে প্রথম কারফিউর দিন সকলে মিলে শাঁখ বাজানো, হাততালি দেওয়া, উলু দেওয়া, থালা বাজানো এই নিয়ে অনেকের অনেক বক্তব্য। আমি উল্টো কথাটাই বলবো, এই উল্লাস, এই উত্তেজনাটার প্রয়োজন ছিল। আমরা যে সরকারের, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নরেন্দ্র মোদি এঁদের পাশে আছি সেটাই জানান দিলো সেই দিনের ঘটনা।'

রুদ্রনীল আরও বলেন, 'জনতা কারফিউ করার কারণটা বুঝতে হবে। বিশ্বের তাবড় তাবড় দেশ যোগান দিতে পারেননি। সেইভাবে মানুষদের পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমাদের দেশেও তা পারবে না। তাই রোগ ছড়িয়ে পড়েলে প্রচুর মানুষের মৃত্যু ঘটবে সেটা রুখতেই এই সিদ্ধান্ত।' অভিনেতা মনে করেন সরকারের তরফ থেকে একটা হেল্প লাইন নম্বর খুলে দেওয়া প্রয়োজন। কারণ মুখ্যমন্ত্রী অনেক কিছুই জানতে পারছেন আবার অনেক ছোট ঘটনা তাঁর পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না । এই হেল্পলাইন নাম্বারটি থাকলে সরাসরি তাঁকে নিজেদের কথা জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ । অভিনেতার আরও একটি পরামর্শ, করোনায় কী করা উচিত এবং কী করা উচিত না, সেটা রেকর্ড করা হোক। এবং পাড়ায় পাড়ায় একটি ভ্যান গাড়ি ঘুরে ঘুরে সেই রেকর্ডিংটা বাজানো হোক, সতর্কতা এবং আইন মেনেই। কোনও ডাক্তার বাবু কিংবা ডায়েটিশিয়ানের ভাষা নয়, একেবারে সরল ভাষায় যাতে সকলেই বুঝতে পারেন এই সময়ে ঠিক কী করা প্রয়োজন। কারণ রুদ্রনীল মনে করেন যত দিন যাবে তত মানুষ বাইরে বেরোনোর জন্য অস্থির হয়ে উঠবেন তাই সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি নিজেও নিজের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে থেকে ছড়াচ্ছেন সচেতনতা।

First published: March 24, 2020, 9:13 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर