'চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে'! সব খারাপ ভুলে, তাপস পালকে আজ শুধু একটাই কথা বলার

'চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে'! সব খারাপ ভুলে, তাপস পালকে আজ শুধু একটাই কথা বলার

তাপস পাল শেষ জীবনটায় খুব খারাপ ছিলেন। তিনি বার বার চাইতেন বেঁচে উঠতে। চাইতেন আবার আগের মতো ফিরে এসে চুটিয়ে অভিনয় করতে।

  • Share this:

#কলকাতা: তাপস পাল ! এই নামটার সঙ্গে অনেক ভাল মন্দ স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। ভাল স্মৃতি বলতে, তাঁর অভিনয়। ২২ বছর বয়সের তরতাজা মিষ্টি দেখতে ছেলেটাকে কি বাঙালি কোনোদিন ভুলতে পারবে! তরুণ মজুমদারের ছবি 'দাদার কীর্তি"। এই ছবিতেই প্রথম অভিনয় করতে আসেন তাপস পাল। এই মিষ্টি ছেলের প্রেমে পড়েছিল সেদিনের গোটা বাঙালি কুল। তাপসকে ভীষণই পাশের বাড়ির ছেলের মতো দেখতে। তাই মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন সহজেই। এর পর তাঁর 'সাহেব' ছবি। যা ভেঙে দিয়েছিল তখনকার সব যুক্তিকেই। স্বাভাবিক সারল্যই তাপস পালের ইউএসপি। সে সময় সব পারিবারিক ছবিতেই তাপস ছিলেন সফল। ‘সাহেব’, ‘গুরুদক্ষিণা’, ‘পথভোলা’, ‘অনুরাগের ছোঁয়া’, ‘পারাবত প্রিয়া’, ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’, ‘মঙ্গলদীপ’, ‘বৈদুর্য রহস্য’, ‘উত্তরা’, ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’ এরকম বেশ কিছু কালজয়ী ছবিতে তাঁর স্বতঃস্ফুর্ত অভিনয় আমাদের মনে থেকে যাবে। ‘সাহেব’ ছবির জন্য ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার পেয়েছিলেন। মোট ৭৩ টা ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তাপস পাল। তরুণবাবু ছাড়া অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়, তপন সিংহ, সলিল দত্ত, ইন্দর সেন, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, পিনাকী মুখোপাধ্যায়, দীনেন গুপ্ত, হীরেন নাগ প্রমুখ খ্যাতনামা পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন ।মহুয়া রায় চৌধুরী, মুনমুন সেন, দেবশ্রী রায়, শতাব্দী রায় সকলের সঙ্গেই কাজ করেছেন তিনি।১৯৮৪ সালে মাধুরী দীক্ষিতের প্রথম ছবি, হীরেন নাগ পরিচালিত ‘অবোধ’-এ নায়কের ভূমিকায় ছিলেন তাপস পাল। তবে ২০০৯ সাল থেকে বদলে যায় তাপস পালের জীবন। ওই বছর কৃষ্ণনগর থেকে তৃণমূলের হয়ে যেতেন তিনি। তারপর সাংসদ হন। এর পর রাজনীতিতে পুরোপুরি ডুবে গেলেন অভিনেতা। যাত্রা, সিনেমা সব ছেড়ে দিলেন। আর এই সিনেমা থেকে দূরে চলে যাওয়াটাই তাঁর জীবনের সব থেকে বড় ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি শিল্পী মনের মানুষ ছিলেন, শিল্পী জগত থেকে দূরে চলে যাওয়াটা তাঁর জন্য ঠিক হয়নি। আর হয়তো এইসব নানা কারণেই অনেকবার বেফাঁস মন্তব্য করে ফেলেছিলেন তিনি। ভেঙে পড়েছিলেন মন থেকে। জড়িয়ে গেলেন নানা চক্রে। যা থেকে বেড়োতে আর তিনি পারলেন না। শরীর অকেজো হতে শুরু করেছিল। আর সেই অকেজো দুর্বল শরীর শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃত্যুর কোলে নিয়ে গেল। তাপস পাল শেষ জীবনটায় খুব খারাপ ছিলেন। তিনি বার বার চাইতেন বেঁচে উঠতে। চাইতেন আবার আগের মতো ফিরে এসে চুটিয়ে অভিনয় করতে। কিন্তু মনের জোর তাঁর আর ছিল না। তাই রোজ রোজ একটু একটু করে শেষ হয়ে গেলেন তিনি। আজ যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়াচ্ছে, তখনও অনেকে শুধু একটা কথাই মনে করে বসে আছেন, তাঁর বলা সেই খারাপ কথা। তার রাজনৈতিক কারণে করা খারাপ কাজ গুলোয় সবাইকে ভাবাচ্ছে। কিন্তু কেন ? কি করে আপনারা ভুলে যাচ্ছেন 'সাহেব'কে? যে ছেলেটা ৭০র বেশি বাংলা ছবি করে আপনাদের মন জয় করেছিল, তাঁর কাজের কি কোনও দাম নেই ! নিশ্চয়ই আছে। ভুল জীবনে কে না করে ! তাপস পাল আজ আর নেই ! তাঁর শেষ সময়ে, খারাপ সময়ে আমরা কেউ পাশে থাকিনি। নিন্দা ছাড়া কিই বা করেছি। তাই আজ না হয় শুধুই ভাল কথা হোক। আজ তাপস পালকে চোখের জলে বিদায় জানিয়ে বলাই যায়, "চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে, নিয়ো না, নিয়ো না সরায়ে \ জীবন মরণ সুখ দুখ দিয়ে বক্ষে ধরিব জড়ায়ে।"

First published: February 18, 2020, 6:28 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर