'দেখলে বোঝা যায় না, কিন্তু আমি অসম্ভব খেতে ভালবাসি', বললেন গৃহবন্দি রুক্মিণী মৈত্র

'দেখলে বোঝা যায় না, কিন্তু আমি অসম্ভব খেতে ভালবাসি', বললেন গৃহবন্দি রুক্মিণী মৈত্র

মা রোজই বলছেন ঢোকো রান্নাঘরে তাহলে তো বুঝবে তোমার জন্য অন্যদের কী অবস্থা হয়। রান্নার ক্ষেত্রে আমি ডিরেক্টর। অ্যাক্টর একেবারে না

  • Share this:

#কলকাতা: আইসোলেশন বলুন বা কোয়ারেন্টাইন, গৃহবন্দি মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম কিছু নয়। রুপোলি জগতের মানুষরাও আটকা পড়েছেন নিজ নিজ বাড়িতে। একই অবস্থা নায়িকা রুক্মিণী মৈত্রর। সম্প্রতি 'সুইৎজারল্যান্ড' ছবির শুটিং করছিলেন তিনি। জিৎ প্রোডাকশন হাউজের এই ছবিতে প্রথমবার রুক্মিণী কাজ করছেন আবির চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। দেবের প্রযোজনা সংস্থার বাইরে তাঁর এই প্রথম ছবি। কলকাতা ও শহরের আশপাশে জোর কদমে চলছিল ছবির শুটিং। বিশেষ একটি সিকোয়েন্সের জন্য বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল আবির এবং রুক্মিণীর। তবে করোনার জেরে ভেস্তে গিয়েছে সেই পরিকল্পনা। আপাতত গৃহবন্দি রুক্মিণী মৈত্র।

নায়িকার কথায়, 'গরমের ছুটির সময় যেরকম অনুভব করতাম, অনেকটা সেরকম লাগছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে বেরোতে পারছি না। আমাদের সকলেরই সতর্ক হওয়া উচিত। নিজে থেকেই সমস্ত বারণ মেনে চলা উচিত। কিন্তু আমি বলব, অভিশাপের মধ্যেও আশীর্বাদ লুকিয়ে থাকে। এই সময়টা কিছুটা তেমন। আমরা প্রতিদিনই ইঁদুর দৌড়ে দৌড়চ্ছি। থ্রিজি-ফোরজি, ফিফটিনজি, নতুন সব আবিষ্কার করে চলেছি। কোথাও যেন থামতে ভুলে গিয়েছি আমরা। নিজের জন্য কিছুটা হলেও সময় বের করার সুযোগ দিয়েছে এই রোগ।'

জীবন সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করা এবং আশপাশের মানুষের কথার ভাবার ফুরসত দিয়েছে করোনা, এমনটাই মনে করেন রুক্মিণী। তিনি আরো বললেন, 'আমরা সব সময় মাই সিটি, মাই কান্ট্রি, এই কথাগুলো বলে থাকি। কিন্তু কখনো বলিনা মাই প্ল্যানেট। এটা কিন্তু সবচেয়ে জরুরি। আমার মনে হয়, করোনা হওয়ার পরে মানুষ এটা বুঝতে পেরেছেন। মানুষের মধ্যে সেই বোধটা ফিরে এসেছে। আমার মনে হয়, এই চোদ্দ পনেরো গৃহবন্দি দিনে আমরা নিজেকে ফিরে পাব।' রুক্মিণী মৈত্র খুব ঘরকুনো গোছের। কোনও কাজ না থাকলে নিজের বাড়িতেই সময় কাটাতে ভালবাসেন তিনি। কোয়ারেন্টাইন হওয়ায় বিশেষ অসুবিধা হচ্ছে না তাঁর। আড্ডা মারা, বাইরে ঘুরতে যাওয়া একটু মিস করছেন। তবে খুব অসুবিধে হচ্ছে না নায়িকার।

মায়ের সঙ্গে অভিনেত্রী মায়ের সঙ্গে অভিনেত্রী

অন্য মায়েদের মতো রুক্মিণীর মাও তাঁকে ঘর গোছাতে বলছেন। একটু রান্না শিখতে বলছেন। কিন্তু এখনো এই সমস্ত কিছুই শুরু করেননি রুক্মিণী। তিনি বই পড়ে, ভিডিও দেখে, দিন কাটাচ্ছেন এবং বাড়িতে প্রচুর স্ক্রিপ্ট রয়েছে যেগুলো খুঁটিয়ে পড়ার সময় পেয়েছেন।  এই প্রসঙ্গে একটা মজার কথা বললেন রুক্মিণী, ' কোয়ারেন্টাইন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি প্রথম প্রশ্নটা মাকে করি আচ্ছা, হোমে ডেলিভারিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে না তো। দেখলে বোঝা যায় না, কিন্তু আমি অসম্ভব খেতে ভালবাসি। মা রোজই বলছেন ঢোকো রান্নাঘরে তাহলে তো বুঝবে তোমার জন্য অন্যদের কী অবস্থা হয়। রান্নার ক্ষেত্রে আমি ডিরেক্টর। অ্যাক্টর একেবারে না'।

ARUNIMA DEY

First published: March 19, 2020, 10:35 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर