corona virus btn
corona virus btn
Loading

ভূতে বিশ্বাস করেন পরমব্রত ! জন্মদিনে অভিনয় থেকে জীবন নিয়ে বিশেষ আড্ডায় অভিনেতা !

ভূতে বিশ্বাস করেন পরমব্রত ! জন্মদিনে অভিনয় থেকে জীবন নিয়ে বিশেষ আড্ডায় অভিনেতা !

চিত্রনাট্য ভাল ভাবে জানতাম বলেই হ্যাঁ বলেছি। অনুষ্কার প্রযোজনায় যখন ‘পরি’ করি, তখন থেকে এই স্ক্রিপ্টটার ব্যাপারে জানতাম।

  • Share this:

#কলকাতা: কেউ বলেন শহুরে নায়ক। কেউ বলেন তাঁর বয়সই বাড়ে না। তিনি অবশ্য নিজেকে নায়কের চেয়ে অভিনেতা বলতে, বেশি পছন্দ করেন। শুধু এইটুকুই নয়, তিনি পরিচালকও বটে, সঙ্গে প্রযোজনা করেন। তিনি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি ওয়েবে মুক্তি পেয়েছে তাঁর ছবি ‘বুলবুল’। বার্থ ডে বয়ের সঙ্গে আড্ডা জমালো নিউজ 18 বাংলা।

‘বুলবুল’ মুক্তি পেয়েছে, অনেকের ভাল লেগেছে ছবিটি। সুদীপ আপনার চরিত্র,  অনেকটা আপনার মতোই প্রগতিশীল, বলে মনে হয়.. (থামিয়ে দিয়ে পরমব্রত হেসে বললেন) ভাগ্যিস মনে হয়। এই মনে হওয়াটা যেন থাকে।

ছবির খুঁটিনাটি না জেনেই নাকি আপনি ‘বুলবুল’ করতে রাজি হয়েছিলেন?

তথ্যটা সামান্য ভুল। চিত্রনাট্য ভাল ভাবে জানতাম বলেই হ্যাঁ বলেছি। অনুষ্কার প্রযোজনায় যখন ‘পরি’ করি, তখন থেকে এই স্ক্রিপ্টটার ব্যাপারে জানতাম। অনভিতা (‘বুলবুল’-এর পরিচালক) ও আমার সুন্দর একটা বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল ‘পরি’-র সময় থেকে। সেই সময় ওঁ আমাকে বলেছিল ‘বুলবুল’-এর কথা। বলেছিল এটাকেই ওঁ প্রথম ছবি হিসেবে বানাতে চায়। একটা ড্রাফ্ট পড়েছিলাম। তখনই বলেছিলাম, যখনই তুমি বানাবে, আমাকে যেই চরিত্র-ই দাও, আমি করবো। তবে এটা ঠিক, কোন চরিত্র করবো,সেটা না জেনেই 'বুলবুল' করতে রাজি হয়েছিলাম। আমার আইডিয়াটা অসাধারণ লেগেছিল। তাই প্রস্তাবটা যখন আসে বলেছিলাম, দাঁড়াও ডেটটা ম্যানেজ করি। কী করছি ছবিতে, জিজ্ঞেস করিনি।

সুদীপ-এর মধ্যে কোন জিনিসটা আপনাকে আকৃষ্ট করেছিল?

ছবিতে ১৯-এর দশকের শেষ দিকটা তুলে ধরা হয়েছে। কুসংস্কার আচ্ছন্ন একটা গ্রাম। তার কিছু দূরে কলকাতায় নব জাগরণ চলছে। বিধবা বিবাহ আইন, পাস হয়ে গিয়েছে। নতুন করে সমাজ গড়ছে। কিন্তু কলকাতা থেকে সামান্য দূরে ওই গ্রামটিতে, তখনও পুরনো ধারণা গুলোই রয়ে গিয়েছে। সেটা তখনও সত্যি ছিল। আশ্চর্যভাবে সেটা এখনও সত্যি। ওপরে ওপরে নিজেকে অনেকেই আধুনিক দেখান। কিন্তু ভেতরে ভীষণ গোরা। সেটা সত্যি। বিদ্যাসাগর মশায় নিজেই বলেছেন, ‘আমি বিধবা বিবাহ আইন পাস করালাম। কিন্তু লাভ কী হলো। ক’টা মানুষ এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।’ সতীদাহ প্রথা রদ আইন হয়েছিল ১৮২৯ সালে। কিন্তু এই প্রথা লুকিয়ে-চুরিয়ে ১৮৫০-৬০ সাল আবধি চলেছে। ছবিতে সেই কুসংস্কার আচ্ছন্ন গ্রামে, কলকাতা থেকে আসে ডাক্তার সুদীপ। নব জাগরণের প্রতিনিধি হিসেবে তার প্রবেশ। বেশভূষায় আড়ম্বর নেই। তবে ভেতরটা অনেক বেশি উন্নত। সুদীপ কলকাতায় আরামে ডাক্তারি করতে পারতো, সেটা ও করেনি। এই গোরা মানুষগুলোর মনে আলোরণ ঘটানোর চেষ্টা করছে। তবে সুদীপ অভিজ্ঞ। একদিনে এই প্রাচীর গুরিয়ে ভেঙে দেওয়া যায় না, সেটা ও জানে। আস্তে আস্তে পাথর খসানোর চেষ্টা করে। অন্যদিকে বিজ্ঞান চর্চা করলেও, সুদীপ মানে, যে বিজ্ঞানের বাইরেও কিছু ঘটে ।চরিত্রের ভিন্ন শেডগুলো আমায় আমাকে অকৃষ্ট করেছিল।

আচ্ছা আপনি ভূত-রূপকথায় বিশ্বাস করেন?

প্রচণ্ড ভাবে। সারাক্ষাণ ওটা নিয়েই থাকি পারলে। ওসব কল্পনা করে আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে পারি। আমার বাড়িতে এলে দেখবেন, মোটা মোটা অলৌকিক গল্প, ভৌতিক গল্প, এসবের বই ভরতি।

আপনি একজন পরিচালকও, হরর ছবি শ্যুট করা কী বেশি কঠিন?

হ্যাঁ। কোনওটাই সোজা নয়। তবে হরর একটা নির্দিষ্ট মুড দাবি করে। আসলে শ্যুটিং ফ্লোরে সারাক্ষণ চেঁচামেচি, হইচই হয়। আজ অবধি হরর-এ আমরা দেখিনি, খটখটে দিনের বেলা। প্রচুর লোকজন  হাঁটছেন, তার মধ্যে ভয়ের কিছু ঘটলো। হরর-এর আবহ তৈরি করাটা মুশকিল। এতোটা হই-হল্লার মধ্যেই সেটা করা, অবশ্যই শক্ত।

অনুষ্কার প্রযোজনা সংস্থায় আপনি আগেও কাজ করেছেন, ওঁদের সঙ্গে সম্পর্কটা কেমন, বন্ধুর মতো, না পেশাদারি?

খুব কম এমন সম্পর্ক হয়, যেখানে একদিকে এতটা ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব, স্বাধীনতা, আরামবোধ। আবার কাজের সময় এতটা পেশাদার হয় ব্যাপারটা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কী হয়, দু’টো একে অপরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। কোনও সময় একটা ওপর দিয়ে আরেকটা যাওয়ার চেষ্টা করে। 'গ্রিন স্লেট'-এর সঙ্গে এই সামঞ্জস্যটা খুব সুন্দর।

দ্বিতীয় পুরুষ’, ‘যকের ধন’, ‘সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’- পর পর আপনার সব ছবি সফল। তখন জানাও ছিল না করোনা হবে। লকডাউনে ওয়েবই বিনোদনের উপায় হয়ে উঠবে। সিরিজ করা তাও ঠিক আছে, ওয়েবে ছবি করার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?

দেখুন ওয়েব-এ পশ্চিম বাংলায়, আমরাই প্রযোজক হিসেবে প্রথম কাজ করা শুরু করি। ওয়েব মাধ্যমটাকে বোঝা, পড়াশোনা করা, কীভাবে কাজে লাগানো যায়, এই অভিজ্ঞতা রোডশো-এর সবচেয়ে বেশি রয়েছে। তাই মাধ্যম হিসেবে ওয়েব কী, সেটা আমি বুঝি। অভিনেতা হিসেবে কীভাবে দেখি? দেখুন অভিনেতা হিসেবে আমার মাধ্যম নিয়ে বাছ-বিচার নেই। আমি করতেও চাই না। আমি মনে করি মানুষের অডিয়ো ভিজুয়াল মাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক, চাহিদা, ধারণা অনেকটা পাল্টে গিয়েছে। সিনেমা ও ওয়েব পাশাপাশি বেঁচে থাকবে, এটা আমার মনে হয়। সেটা জরুরিও। শিল্পী হিসেবে দু’টো মাধ্যমেই সমান যাতায়াত প্রয়োজন।

তাহলে ওয়েব কিংবা ছবি, চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে আলাদা জিনিস মাথায় রাখেন না? গল্প ভাল লাগলেই রাজি হন?

ব্যাপারটা ভেঙে বলি। চিত্রনাট্যে  একটা বাধন প্রয়োজন। ইংরজিতে যেটা ‘কোহেসিভ’ বলে। তারপর আসে চরিত্রের কথা। আমি আগে একজন সিনেমার লোক। অভিনয়ের লোক পরে। আমি আগে দেখি গোটা জিনিসটা স্বয়ং সম্পূর্ণ হচ্ছে কি না। শুধু একজন অভিনেতার মতো আমারটা দেখি না। আমার দেখার দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা পরিচালকের মতো হয়। মাথার ভেতর থেকে একজন পরিচালক কথা বলে। তারপর অভিনেতা কথা বলে।

আপনার সবচেয়ে অ্যামবিশিয়াস প্রজেক্ট সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বায়োপিক। ৯ দিন শ্যুটিং-এর বাকি ছিল লকডাউন হয়ে গেল। আফশোস হয়?

জুলাই মাসে আবার শুটিং শুরু করবো।

কিন্তু এখন যতটা বিধি মেনে, করতে হবে, সেটা তো সমস্যার।

কিছুটা সমস্যার তো বটেই। আমি যদি আমারটা সমস্যার ভাবি, আমাকে দেখতে হবে আমার বাড়ির নিচের রিক্সা স্ট্যান্ডের রিক্সাওয়ালাগুলো তিন মাস রিক্সা চালাতে পারেননি। তাঁদের সরকারী ত্রাণের চাল, ডাল আলু, পেয়াজ খেয়েই কেটেছে। তার চেয়ে কি আমার, সমস্যাটা বেশি। প্রতিটি স্তরের মানুষই সমস্যায় রয়েছেন। তার মধ্যেই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

ARUNIMA DEY 

Published by: Piya Banerjee
First published: June 28, 2020, 12:24 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर