EXCLUSIVE: ‘‘আমি আমার মতো করেই চলি, ব্যবহারেও কোনও বদল আসেনি’’: নুসরত

EXCLUSIVE: ‘‘আমি আমার মতো করেই চলি, ব্যবহারেও কোনও বদল আসেনি’’: নুসরত

মেমোরি লেনে উঁকি দিলেন নুসরত জাহান ৷

  • Share this:

Arunima Dey

#কলকাতা: তিনি নায়িকা। তিনি সাংসদও। শোবিজ, রাজনৈতিক নানা চাপে, একটু হারিয়ে যাওয়া মানুষ তিনি। নুসরত জাহানের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় নিউজ 18 বাংলা। ছোটবেলার স্মৃতি। স্কুল-কলেজে পড়ার সময় জীবন যাপন। পুরনো দিনে ফিরে গেলেন নুসরত।

প্রঃ শীত কালের এই সময়টা মানে নিউ ইয়ার টইমে কিছু করা হয়?

নুসরত: একসময় হতো। পার্কস্ট্রিটে আমার ঘুরতে খুবই ভাল লাগে। আর এই সময়টা কেমন সেজে ওঠে বলুন তো শহরটা। গোটা জানুয়ারি মাসে সেই রেশটা থাকে।

প্রঃ স্কুল-কলেজ সবই তো কলকাতায়, তাই এই শহরকে নিয়ে নস্ট্যালজিয়া রয়েছে। তাই তো ? নুসরত: কলকাতায় যাঁরা পড়াশুনো করেন, কেউ আছে এমন যে পার্কস্ট্রিটে আড্ডা মারেননি? সম প্লেস এলস-এ লুকিয়ে-লুকিয়ে আসতাম সিনিয়র বন্ধুদের সঙ্গে। পরমদাকে পারফর্ম করতে দেখেছি। আমার গিটার স্যারও এখানে পারফর্ম করতেন। একদিন জানেন, বাবা চলে এসেছিলেন আমাকে ধরতে। রাতে বাবাকে না জানিয়ে লুকিয়ে এসেছিলাম। ধরা পড়ে গেলাম। তারপরটা আর বলাম না। আর অক্সফোর্ডে বসে বই পড়া। তখন একটা বিরাট ব্যাপার ছিল। নতুন নতুন ল্যাপটপ কিনেছিলাম। ল্যাপটপ খুলে পাশে কফি নিয়ে এমন একটা ভাব করতাম যেন কী একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছি।

Nusrat Jahan 1

প্রঃ পার্কস্ট্রিটের সঙ্গে তাহলে অনেক স্মৃতি আছে বুঝতে পারছি।

নুসরত: অনেক মানে। শেষ হবে না। ছোটবেলা একবার ম্যাকডনাল্ডস-এর বাইরে এক ঘণ্টা লাইন দিয়েছিলাম। তাও আবার মাকে নিয়ে। মা ছিলেন বাড়ি থেকে বেরোনোর লাইসেন্স। স্কুল থেকে পিক অ্যান্ড ড্রপ বাবা-ই করতেন। একটু এদিক-ওদিক করার জায়গা ছিল না। তবে একটু বড় হয়ে মিউজিক ওয়ার্ল্ড-এ এসে গান শুনতাম। সিডি কেনার তো তেমন টাকা ছিল না, হেড ফোন পরে গান শুনেই মজা পেতাম। তখন তো মোবাইলে গান শোনার সুযোগ ছিল না। আমি ক্লাস ইলেভেনে হাতে মোবাইল পেয়েছি। তাতে গান শোনা যেত না। রাস্তা-ঘাটে বন্ধুদের সঙ্গে খুব আড্ডা মেরেছি।

প্রঃ বন্ধু-বান্ধবদের কথা বার বার বলছেন। স্কুল জীবনে নিশ্চয়ই প্রচুর বন্ধু প্রেম করতে চেয়েছে?

নুসরত: একজনও নয়। আমার গ্রুপে ১২ জন ছেলে ছিল। যাঁরা কখনও আমাকে মেয়ের মতো ট্রিটই করেনি। এরা আমাকে ভাই বলে ডাকতো। আর ওরা এতোটাই ওভার প্রটেকটিভ ছিল যে আর কোনও ছেলে তাকানোর সাহস পেত না। স্কুল লাইফটা একেবারে নিরস। তবে ওটাই ভাল ছিল। ওই সব দিনগুলো মিস করি।

Capture

প্রঃ শহর কলকাতার বুকে পার্কস্ট্রিট এলাকাতে, শেষ কবে পায়ে হেঁটে ঘুরেছিলেন?

নুসরত: বোধহয় আট মাস আগে। যত দূর মনে পরছে। ইলেকশনের নমিনেশন ঘোষণার আগের দিন। আমি, নিখিল আর পরিবারের কয়েকজন পার্কস্ট্রিটের একটা রেস্তোরাঁয় এসেছিলাম। হাঁটিনি ৷ রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলাম, তাতেই সকলে যা ঘিরে ধরলো।

প্রঃ আপনি নায়িকা এবং সাংসদও। নিজের ওপর চাপ অনুভব করেন? মনে হয় নির্দিষ্ট একটা ভাবে চলতে হবে? নুসরত: না না। আমি আমার মতো করেই চলি। ব্যবহারে কোনও বদল আসেনি। নায়িকা হওয়ার পরও নয়, সাংসদ হওয়ার পরও নয়। যাঁরা আমাকে চেনেন তাঁরা জানেন আমি একই আছি। তবে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়ানো, বন্ধুদের সাথে হাঁটা-এসব হয়তো আর পারব না, সেটা মেনে নিয়েছি।

প্রঃ ঘোরা-বেড়ানোর কথা তো হচ্ছে। স্ট্রিট ফুড ভাল লাগে? খাওয়া হয় এখন? নুসরত: স্ট্রিট ফুড খাব না? তাই বলে রোজ খাই না। মাঝে মধ্যে অর্ডার করে খাই। রোল আমার খুব প্রিয়। রোল-এর মধ্যে থাকি। তবে রোল-এর মজাই আলাদা। স্কুল-কলেজ পড়ার সময় যা টাকা পেতাম তাতে রোল-ফুচকার বেশি কিনে খাওয়া সম্ভব ছিল না। আর যখন মায়ের পার্স থেকে ঝাড়তে পারতাম, সেদিন তো রাজা। বন্ধুদের সবার টাকা আমিই দিয়ে দিতাম।

Nusrat Jahan

প্রঃ মায়ের পার্স থেকে টাকা নিতেন ? নুসরত: হ্যাঁ নিতাম তো। মা তো জানেন। না জানলে আজ বলে দিলাম।

প্রঃ আর নিখিলে পকেট কাটা হয়? নুসরত: নিখিলের পুরো পার্সটাই নিয়ে নিই। আমার মনে হয় এটা প্রতিটা স্ত্রীয়ের অধিকার।

প্রঃ আমরা জানি আপনি ভাল রান্না করেন। নিখিলের জন্য রান্না করা হয়? নুসরত: এটাই তো দুঃখ। আমি যা বানাই ওঁ সে সব রান্না পছন্দ করে না। আমি চাই কষিয়ে বাঙালি রান্না রেঁধে বরকে খাওয়াই। ও ডাল, কারি এসবই পছন্দ করে। হালকা খাবার।

First published: January 9, 2020, 11:46 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर