Exclusive: পর্দায় জিতের সঙ্গে অভিনয়ের টক্কর হয়েছে: আবির চট্টোপাধ্যায়

Exclusive: পর্দায় জিতের সঙ্গে অভিনয়ের টক্কর হয়েছে: আবির চট্টোপাধ্যায়

মুখোমুখি আবির

  • Share this:

 ARUNIMA DEY

#কলকাতা: মাল্টিস্টারার মানে বক্স অফিসে লক্ষ্মীলাভ মোটামুটি নিশ্চিত। তবে দু’জন তাবড় স্টারকে রাজি করানো মোটেও সোজা নয়। সেখানে এক নায়ক অন্য নায়কের জন্য ছবি প্রযোজনা করছেন। বিরল তাই না ? জিৎ প্রযোজিত আগামী ছবি ‘অসুর’-এ স্ক্রিন ভাগ করছেন আবির-জিৎ। নিউজ 18-এর সঙ্গে আড্ডায় মজলেন আবির চট্টোপাধ্যায়।

আবির চট্টোপাধ্যায় বললেই তো বলতে হয় আলটিমেট ' গোয়েন্দা অফ বাঙালি'...

আমি আবার আল্টিমেট! একেবারেই এটা সত্যি নয়....

এই মুহূর্তে আপনি তো ‘বোধি’। পাভেলের ‘অসুর’ ছবির প্রস্তাবটা পেয়েই রাজি হয়ে গিয়েছিলেন?

পাভেলের সঙ্গে আলাপ বহু দিনের। এই প্রসঙ্গে কিছু বলার সুযোগ পেলেই একটা কথা বলি। আর এটা বললেই আমি জানি পাভেল আমায় আক্রোশের সঙ্গে গালাগাল করে।

আক্রোশ বিষয়টা কেন?

‘বাবার নাম গান্ধীজি’ ছবিটা আমার করার কথা ছিল। করা হয়ে ওঠেনি। কেন সেটা ভেঙে বলব না। সে কারণটা আমাদের মধ্যেই থাক। মজা করছিলাম ! ডেট-এর সমস্যা ছিল। পাভেলের কাজের প্রতি আমার একটা আগ্রহ ছিল। আমি যখন ‘আমি জয় চ্যাটার্জী’-র শ্যুটিং করছিলাম, তখন বেশ কিছু বাচ্চাদের সঙ্গে শ্যুট করতে হয়েছিল। তারা যে খুব পলিশড, প্রচুর মানুষ চেনে, ধনী পরিবার থেকে আসছে, এমন নয়। কিন্তু দেখলাম ওরা বেশ স্মার্ট। শ্যুটিং সংক্রান্ত আদব-কায়দা খুব ভালই জানে। জিজ্ঞেস করলাম, কোথা থেকে শিখেছিস এসব? বললো ‘‘পাভেলদা শিখিয়েছে’’। ‘বাবার নাম গান্ধীজি’ ছবিতে ওরা অভিনয় করেছে। পাভেলের সম্পর্কে আরও আগ্রহ বেড়ে গেল।

তাই ‘অসুর’ করতে রাজি হলেন?

‘অসুর’ ছবির প্রস্তাবটা আমার কাছে আসে ফোনে। পাভেল আমাকে ফোন করে ১লা জানুয়ারি ২০১৯-এ। ৩রা জানুয়ারি ২০২০-তে ছবিটা মুক্তি পাচ্ছে, বিষয়টা কেমন বৃত্ত সম্পন্ন হওয়ার মতো। প্রথমে ব্রিফ শুনি। কিছুদিন পর গোটা চিত্রনাট্য। গল্প ভাল লেগেছিল তো বটেই, তার চেয়েও ভাল লেগেছিল, একটা চেনা ঘটনাকে প্রেক্ষাপটে করে প্রেম, বন্ধুত্ব, হিংসে এসবকে বুনে একটা গল্প, এই আইডিয়টা। মানুষ ট্রেলর দেখে ভেবেছে এটা কি সত্যি ঘটনা? সত্যির সঙ্গে কল্পনার মিশেলটা দারুণ ঘটিয়েছে পাভেল।

আবির কতটা ‘বোধি’?

বোধি খুব প্ল্যানড, মেথডিক, খুব তীক্ষ্ণ। ওর ভেতরে কী চলে সেটা বোঝা যায় না। আবির এতটা প্ল্যানড নয়।

এর থেকে একটা কথা মনে পড়ল, আপনি সব সময় বলেন আপনি একেবারে মেথোডিক নয়। এত বছর পরও তাই বলবেন?

হ্যাঁ ! এটা আমি আজও বলব। একজন মেথড অ্যাক্টরের যা গুণ থাকে, তা আমার নেই। মেথডের যেই সংজ্ঞাটা আমরা জানি, তার মধ্যে আমি পরি না। আমি স্বতঃস্ফূর্ত। মোমেন্ট-এ বিশ্বাসী।

‘অসুর’-এর জন্য লম্বা শ্যুটিং শেডিউল ছিল। শ্যুটিং-এর বাইরে মজা হল?

আমি না সারাক্ষণ গম্ভীর হয়ে থাকতে পারি না। ‘অসুর’ একটা বড় মাউন্টের ছবি। বেশি দিন লেগেছে শ্যুট করতে। একটা করে শট দিতাম, পাভেল আর আমি একপাশে গিয়ে গুজগুজ করতাম। 'গাইজ টক'। এর চেয়ে বেশি বললাম না। জিৎ, নুসরত ওঁরাও ছিল। ভীষণ মজা করে শ্যুটিং করেছি।

এই প্রতিযোগিতার বাজারে এক নায়ক, অন্য নায়কের জন্য ছবি প্রযোজনা করে, সেটা খুব একটা দেখা যায় না। এই নিয়ে জিৎ- এর প্রযোজিত দু’টো ছবিতেই আপনি রয়েছেন। এর আগে ‘দ্য রয়েল বেঙ্গল টাইগার’-এ আপনারা একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। ছবিটা জিৎ কো প্রডিউজ করেছিল...

‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ নীরজ পাণ্ডে প্রযোজিত ছবি। যখন আমাকে প্রস্তাবটা দেওয়া হয়, আমি অবাক হয়েছিলাম। কারণ, জিৎ যে ধরনের ছবি করত সেই সময়ে, ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ একেবারে অন্য রকম ছিল। সেটে ও খুব প্রফেশন্যাল। এর পর আবার অনেকবার একসঙ্গে কাজ করার কথা হয়েছে। আমরা দু’জনই অপেক্ষা করছিলাম দারুণ কিছু একটা না পেলে শুধু কাজ করার জন্য কাজ করব না। আমরা কেউ রাখি বন্ধনে দায়বদ্ধ হয়ে কাজ করতে আসিনি। সবাই কাজ করতে চাই, ভাল কাজ করতে চাই, প্রশংসা পেতে চাই। স্ক্রিনে ওই স্পেসটা আমাদের দু’জনেরই দরকার ছিল, যেটা ‘অসুর’ আমাদের দিয়েছে।

পর্দায় জিৎ-আবিরের প্রতিযোগিতা হয়েছে তাহলে?

একদমই হয়েছে। কে ১০০ মিটার আগে দৌঁড়ে শেষ করবে সেই নিয়ে প্রতিযোগিতা নয়, কে কার ক্রাফ্টটা ছবি বা চরিত্রের প্রয়োজনে কতটা ফুটিয়ে তুলতে পারবে, সেটার লড়াই। অভিনয়ের জায়গাটা আমি, জিৎ নুসরত... সকলেই পেয়েছি।

যেটা বলে শুরু করেছিলাম, ফেলুদা, ব্যোমক্যেশ মানেই তো আবির। ব্যোমক্যেশ নিয়ে অনেক জল্পনা রয়েছে, আপনি কী বলবেন?

এখনই ব্যোমক্যেশ করার কোনও কথা চলছে না। কথাবার্তার স্তরেও নেই।

First published: 10:42:22 PM Dec 23, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर