জন্মদিনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

জন্মদিনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

সত্যজিৎ রায়ের অপু, বাঙালির কৈশরের ফ্যান্টাসি ফেলুদা... ১৯ জানুয়ারি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনে ফিরে দেখা কিংবদন্তীকে

  • Share this:

#কলকাতা: ইদানীং প্যারালাল বা রিয়্যালিস্টিক ছবির কথা বারবার বলা হয়! কিন্তু আজ থেকে বহু বছর আগে এ ধরনের ছবি করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সত্যজিৎ রায়ের অপু, বাঙালির কৈশরের ফ্যান্টাসি ফেলুদা... ১৯ জানুয়ারি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনে ফিরে দেখা কিংবদন্তীকে...কালো-সাদা যুগ, যখন ছিল না ফেসবুক, ইনস্টগ্রামের দাপাদাপি। প্রাণ পুরুষ বা স্বপ্নের পরিকে দেখতে দর্শক যেতেন প্রেক্ষাগৃহে, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তখনকার স্টার, কিংবা তখন থেকে স্টার। বলা ভাল তখন থেকে এখনও স্টার।

জীবনের প্রথম দশটা বছর সৌমিত্র কাটিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরে। দাদুর নাটকের দল ছিল। বাবা পেশায় উকিল। পরবর্তী জীবনে সরকারি চাকরি করেছেন, তবে শখে অভিনয় করতেন। বংশের সেই শখটাই পান সৌমিত্র।  ছোট থেকে থিয়েটার ভাল লাগত... স্কুল, কলেজে পড়ার সময় অনেক নাটক করেছেন। কৃষ্ণনগর থেকে কলকাতায় চলে আসার পর সে শখ আরও তীব্র হতে থাকে।

শখ ছিল, তবে অভিনয়কেই পেশা করবেন কখনও ভাবেননি।  একটা নাটক দেখতে গিয়ে জীবনটা কেমন বদলে গেল।  শিশির ভাদুড়ির নাটক।  সেই নাটকে শিশির ভাদুরির অভিনয় দেখে সৌমিত্র স্থির করলেন পেশাগত ভাবে অভিনয় করবেন।  চেষ্টা চরিত্র করে শিশির ভাদুরির সঙ্গে যোগাযোগ করলেন, প্রশিক্ষণ নিলেন।

দ্বিতীয়বার জীবনে মোড় ঘোরে যখন তিনি সত্যজিৎ রায়ের 'অপু' হলেন।  সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর মানিকবাবুর সেটে প্রায়ই যেতেন।  'জলসা ঘর'-এর শ্যুটিং চলছে, রোজকার মতো সেটে গিয়েছেন সৌমিত্র। বাড়ি ফেরার সময় মানিকবাবু তাঁকে ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে আলাপ করালেন। বললেন,  সৌমিত্র তাঁর ছবির 'অপু'!  চমকে যান তিনি... এই আশাতেই হয়তো রোজ আসতেন... স্বপ্ন বাস্তব হয়ে যাওয়ায় অবাক হন সৌমিত্র।

অপু ট্রিলজি, ফেলুদা সিরিজ থেকে শাখা প্রশাখা...সত্যজিৎ তাঁকে মাথায় রেখেই যেন চিত্রনাট্য লিখতেন। মৃণাল সেন এবং তপন সিন্হার সঙ্গে বেশ কিছু ভাল ছবি রয়েছে সৌমিত্রর। উত্তম বনাম সৌমিত্র, এই তর্ক বাঙালি করে এসেছেন চিরকাল।  তবে এই দুই প্রথম সারির নায়ক, বাস্তব জীবনে ছিলেন বেশ ভাল বন্ধু। সৌমিত্রর বনের বিয়েতে বরযাত্রী হয়ে আসেন উত্তমকুমার। সেখানে প্রথম আলাপ। তারপর উত্তমবাবুর ব্যক্তিগত আড্ডার আসরে ডাক পেতেন সৌমিত্র। ঝিন্দের বন্দির আউটডোরে হয়ে গেল দারুণ বন্ধুত্ব. উত্তমকুমার হয়ে উঠেলেন তাঁর অভিভাবক।

ছবিতে নাম করলেও পাশাপাশি থিয়েটার চালিয়ে গিয়েছেন সৌমিত্র।  তাঁর আবৃত্তি, তাঁর কবিতা আলাদা করে উল্লেখযোগ্য।  পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণে ভূষিত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নিজের জীবনের মানে খুঁজে পান মঞ্চে কিংবা অ্যাকশন এবং কাটের মাঝখানে।

​ARUNIMA DEY

First published: January 19, 2020, 1:49 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर