• Home
  • »
  • News
  • »
  • entertainment
  • »
  • ক্লাস ইলেভনে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন ‘জীবন জ্যাোতি’র নায়িকা ঐন্দ্রিলা

ক্লাস ইলেভনে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন ‘জীবন জ্যাোতি’র নায়িকা ঐন্দ্রিলা

‘জীবন জ্যাোতি’ ধারাবাহিকে ঐন্দ্রিলা শর্মা ৷

‘জীবন জ্যাোতি’ ধারাবাহিকে ঐন্দ্রিলা শর্মা ৷

  • Share this:

    #কলকাতা: পানপাতা মুখ, টিকলো নাখ, পটলচেঁরা চোখ আর মাথায় একঢাল কালো চুল ৷ বাঙালি-সুন্দরী তন্বী বলতে যা বোঝায় রূপটা এক্কেবারে সেই রকমই ৷ আর গুণও তেমন ৷ এই তো দেড় বছর আগের কথা ৷‘কালার্স বাংলা’চ্যানেলের ‘ঝুমুর’ ধারাবাহিকটির কথা মনে আছে তো ? বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল এই মেগা সিরিয়াল ৷ আর এই সিরিয়ালের প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমেই অভিনয় জীবনে পথ চলা শুরু করেছিলেন বহরমপুরের মেয়ে ঐন্দ্রিলা শর্মা ৷

    এরপর কাজ করেছেন মাল্টি স্টারার সিরিয়াল ‘জীবন জ্যোতি’তেও ৷ সেখানেও ঐন্দ্রিলা ছিলেন মুখ্য চরিত্রেই ৷ এই তো কিছুদিন আগে অফ এয়ার হয়েছে ধারাবাহিকটি ৷ এবার আসছে ‘মিত্তির পাড়ার মারাদোনা’৷ না এবার আর ধারাবাহিক নয় ৷ এ বার একটি ছবিতে অভিনয় ৷ যদিও তা বড় পর্দায় নয়, দেখা যাবে ছোট পর্দাতেই আগামী রবিবার ৷ সেখানে ঐন্দ্রিলা অভিনীত চরিত্রটির নাম হল প্রিয়া ৷ যে কিনা ওই ক্লাস ইলেভন-টুয়েলভে পড়ে ৷ বেশ প্রাণোচ্ছ্বল সেই চরিত্র ৷ তবে রিয়েল লাইফটা এক্কেবারে অন্যরকম ছিল অভিনেত্রীর ৷

    Nabami eve

    A post shared by Aindrila Sharma (@aindrila.sharma) on

    সালটা ২০১৫ ৷ তখন ক্লাসে ইলেভনে পড়তেন ঐন্দ্রিলা ৷ শরীরটা একটু বিগড়ে গিয়েছিল ৷ পরীক্ষা করতে জানা গেল তাঁর শরীরে ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে ৷ অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে না ? দুশ্চিন্তার কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছিল তাঁর সোনালি কৈশোরটা ৷ তবে, এত কঠিন রোগ শরীরে বাসা বাঁধার পরেও, একটুকুও ভেঙে পড়েননি তিনি ৷ ‘‘আমি বরাবরই পজিটিভ মানুষ ৷ আমি কখনও হাল না ছাড়াতেই বিশ্বাসী ৷ আর সেই ব্যাপারটাই তখন আমায় অনেকে বেশি শক্তি জুগিয়েছিল ৷’’   মেরুদণ্ডের নীচে ক্যানসার ধরা পড়তেই পরদিনই মেয়েকে দিল্লির এইমস হাসপাতালে নিয়ে ছোটেন ঐন্দ্রিলা বাবা-মা ৷ দেড় বছর ধরে চলে চিকিৎসা ৷ নিতে হয় মোট ১৬টি কেমো ও ৩২টি রেডিয়েশন! ‘‘আমার শারীরিক কষ্ট তো কারও সঙ্গে ভাগ করতে পারতাম না! সে যন্ত্রণার দিনগুলো কী যে কঠিন ছিল, তা কথায় বোঝানো মুশকিল। কিন্তু আমার বাবা-মা-দিদি সকলে মনোবল জুগিয়েছেন। বাবা ও দিদি ডাক্তার, মা নার্স। তাই ওঁদের কাছে আমার অবস্থাটা পরিষ্কার ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি মানসিক জোর পেয়েছি মায়ের কাছ থেকে। সেই সময় কী অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলাম ৷ তা হয়তো বলে বোঝানো এক্কেবারে অসম্ভব ৷  
      A post shared by Aindrila Sharma (@aindrila.sharma) on

    ‘‘কেমো নেওয়া শুরু হতেই মাথার চুল পড়তে শুরু করল। ত্বক নষ্ট হল। তখন বাইরে গেলে লোকে এমন ভাবে আমায় দেখত যে মনে হতো, আমি যেন অন্য গ্রহের প্রাণী,’’ ঐন্দ্রিলার গলা কিছুটা ধরে এসেছে তখন। একনাগাড়ে বলে চললেন, ‘‘এরপর আরও দেড়টা বছর কড়া পর্যবেক্ষণের মধ্যে দিতে যেতে হয়েছে ৷ এরপর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে কলকাতায় আসি ৷ এখন আমি কম্পিউটার সায়েন্ নিয়ে পড়ছি ৷ সেকন্ড ইয়ার ৷ কলেজে ভর্তি হওয়ার পরই সেই সময়ই একদিন টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় যাই আর তার পরই অভিনয়ে আসা ৷’’

    জীবনটা এখন অন্যরকম ঐন্দ্রিলার ৷ খানিক চুপ থেকে অভিনেত্রী আবার বললেন, ‘‘জানেন তো, এখন আমি দুঃখ খুব কম পাই ৷ ছোট খাটো পাওয়া, না-পাওয়াগুলো এখন আর খুব বেশি ফারাক তৈরি করে না ৷ এখন অনেক ভাল আছি ৷ সুস্থ আছি ৷ কাজ আর পড়াশোনা নিয়ে সুখেই আছি ৷’’

    First published: